
বিটিসি (বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল) এলাকার রাজনীতির সমীকরণ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন দুঁদে রাজনৈতিক কারবারিরাও। সৌজন্যে কোকড়াঝাড় জেলার নবগঠিত বিধানসভা কেন্দ্র ‘বাওখুংরি’। ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের কাঁটাছেঁড়ায় জন্ম নেওয়া এই সাধারণ (অসংরক্ষিত) আসনটি এখন উত্তর-পূর্ব ভারতের নজরে। একদা কোকড়াঝাড় পূর্ব, পশ্চিম এবং গোঁসাইগাঁও কেন্দ্রের অংশ থাকা এলাকাগুলি নিয়েই তৈরি হয়েছে এই নতুন রাজনৈতিক রণক্ষেত্র। মূলত বাওখুংরি পাহাড় এবং সংলগ্ন জনজাতি প্রধান গ্রামগুলিই এই কেন্দ্রের প্রাণভোমরা।
নয়া কেন্দ্র হওয়ায় বাওখুংরির নিজস্ব কোনও বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাস নেই। তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। সেবার কোকড়াঝাড় লোকসভা আসনের...
বিটিসি (বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল) এলাকার রাজনীতির সমীকরণ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন দুঁদে রাজনৈতিক কারবারিরাও। সৌজন্যে কোকড়াঝাড় জেলার নবগঠিত বিধানসভা কেন্দ্র ‘বাওখুংরি’। ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের কাঁটাছেঁড়ায় জন্ম নেওয়া এই সাধারণ (অসংরক্ষিত) আসনটি এখন উত্তর-পূর্ব ভারতের নজরে। একদা কোকড়াঝাড় পূর্ব, পশ্চিম এবং গোঁসাইগাঁও কেন্দ্রের অংশ থাকা এলাকাগুলি নিয়েই তৈরি হয়েছে এই নতুন রাজনৈতিক রণক্ষেত্র। মূলত বাওখুংরি পাহাড় এবং সংলগ্ন জনজাতি প্রধান গ্রামগুলিই এই কেন্দ্রের প্রাণভোমরা।
নয়া কেন্দ্র হওয়ায় বাওখুংরির নিজস্ব কোনও বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাস নেই। তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। সেবার কোকড়াঝাড় লোকসভা আসনের অন্তর্গত এই বিধানসভা সেগমেন্টে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র শরিক হিসেবে ইউপিপিএল (UPPL) প্রার্থী জয়ন্ত বসুমারি ৫৪,০১৫ ভোট পেয়েছিলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিপিএফ (BPF)-এর কাম্পা বোরগয়ারি পেয়েছিলেন ৪৮,৬৬০ ভোট। অর্থাৎ ব্যবধান ছিল মাত্র ৬,৩৫৫ ভোটের। তৃতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছিল ১২,৬৬৫ ভোট। তবে সেই সময়কার মিত্রতা আর আজকের শত্রুতা— দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে বদলে গিয়েছে অনেক হিসেব।
২০২৬-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, বাওখুংরিতে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা ১,৬৪,৩১৪ জন, যা ২০২৪-এর তুলনায় ৩,৩০৭ জন বেশি। ২০১১ সালের জনশুমারি এবং বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই কেন্দ্রটি প্রধানত বোড়ো ও অন্যান্য স্থানীয় জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা। কৃষি ও বনাঞ্চল নির্ভর এই অঞ্চলে গ্রামীণ ও জনজাতীয় সংস্কৃতির এক বিশেষ মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।
নিচু মালভূমি, পাহাড়ি চড়াই-উতরাই আর তরাইয়ের অরণ্য— এই নিয়েই বাওখুংরির মানচিত্র। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে গৌরং, চম্পাবতী ও সরলভাঙার মতো খরস্রোতা নদী। এখানকার মানুষের জীবন আবর্তিত হয় ঝুম চাষ, ধান চাষ, উদ্যানপালন এবং এরি সিল্কের ওপর ভিত্তি করে। তবে প্রতি বছর পাহাড় ধস ও বন্যার প্রকোপ এখানকার নিত্যসঙ্গী। পরিকাঠামোর দিক থেকে কোকড়াঝাড় শহরের ওপর নির্ভরশীল এই এলাকায় রেল যোগাযোগ না থাকলেও সড়কপথের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। পাহাড়ের কোলে ভুটান সীমান্তের নৈকট্য এখানকার বাণিজ্য ও জনজীবনেও বিশেষ প্রভাব ফেলে। সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে আছে জোটের রাজনীতিতে। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে যে ইউপিপিএল বিজেপির হাত ধরে লড়েছিল, তারা এখন এনডিএ-র বাইরে। উল্টোদিকে, পুরনো তিক্ততা ভুলে বিজেপি ও অগপ-র হাত ধরেছে বিপিএফ। ফলে ২০২৪ সালে ইউপিপিএল যে বিজেপি-সমর্থিত ভোটব্যাঙ্ক পেয়েছিল, এবারের বিধানসভা ভোটে তার সিংহভাগই বিপিএফ-এর বাক্সে যাওয়ার সম্ভাবনা।
বাওখুংরিতে এবার বহুমুখী লড়াই। ময়দানে রয়েছেন মোট ১১ জন প্রার্থী। তবে মূল টক্কর ত্রিমুখী হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট:
ইউপিপিএল: প্রতীভা ব্রহ্ম
বিপিএফ (বিজেপি-অগপ সমর্থিত): রূপম চন্দ্র রায়
কংগ্রেস (অসম সম্মিলিত মোর্চা): সপালি মারাক
এছাড়াও রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের উদংশ্রী নাজরারি, গোণ্ডোয়ানা গণতন্ত্রী পার্টির রাজকর বেক এবং ভারতীয় গণ পরিষদের শিবম চক্রবর্তী। সঙ্গে রয়েছেন ছয় নির্দল প্রার্থী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মূল যুদ্ধটা হবে দুই আঞ্চলিক শক্তি— ইউপিপিএল এবং বিপিএফ-এর মধ্যে। জোটের ওলটপালট আর স্থানীয় জনজাতির মন পাওয়ার লড়াইয়ে এই লড়াই যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
Input by: Ajay Jha