
গোসাইগাঁও অসমের কোকরাঝাড় জেলার বোড়োল্যান্ড অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র। যা পশ্চিমবঙ্গের সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত। গোসাইগাঁও একটি সাবডিভিশন স্তরের শহর এবং দ্রুত বিকাশমান শহরের মধ্যে অন্যতম। পাশাপাশি এটি রায়মোরা জাতীয় উদ্যানের জন্যও সুপরিচিত। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা আসন এবং কোকরাঝাড় লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৯টি বিধানসভার একটি। এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত গোসাইগাঁও টাউন কমিটি এবং গোসাইগাঁও, হাতিধুরা ও কাছুগাঁও ডেভেলপমেন্ট ব্লকের কিছু অংশ।
১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি এখনও পর্যন্ত মোট ১৬টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ২০২১ সালের উপনির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত। এই আসনে কংগ্রেস ৬ বার জয়ী হয়েছে, নির্দল প্রার্থীরা ৫ বার, বড...
গোসাইগাঁও অসমের কোকরাঝাড় জেলার বোড়োল্যান্ড অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র। যা পশ্চিমবঙ্গের সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত। গোসাইগাঁও একটি সাবডিভিশন স্তরের শহর এবং দ্রুত বিকাশমান শহরের মধ্যে অন্যতম। পাশাপাশি এটি রায়মোরা জাতীয় উদ্যানের জন্যও সুপরিচিত। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা আসন এবং কোকরাঝাড় লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৯টি বিধানসভার একটি। এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত গোসাইগাঁও টাউন কমিটি এবং গোসাইগাঁও, হাতিধুরা ও কাছুগাঁও ডেভেলপমেন্ট ব্লকের কিছু অংশ।
১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি এখনও পর্যন্ত মোট ১৬টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ২০২১ সালের উপনির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত। এই আসনে কংগ্রেস ৬ বার জয়ী হয়েছে, নির্দল প্রার্থীরা ৫ বার, বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট ৩ বার, এবং অসম গণ পরিষদ ও ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারাল একবার করে জয়লাভ করেছে। ব্যক্তিগতভাবে মিথিউস টুডু এই কেন্দ্র থেকে ৮ বার নির্বাচিত হন, যার মধ্যে ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত টানা ৭ বার জয়লাভের নজির রয়েছে। তিনি প্রথম ৩টি নির্বাচন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং পরবর্তীতে কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হন।
সাম্প্রতিক রাজনীতিতে মাজেন্দ্র নার্জারে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি ২০০৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং ২০১১ সালে বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টের হয়ে অল ইন্ডিয়া ইন্ডিয়ান ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের খায়রুল আলম মিয়াকে ২০ হাজার ৯৪৫ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে তিনি আবার AIUDF প্রার্থী রবিশঙ্কর কাসিরেড্ডিকে ৬ হাজার ৪১ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে তিনি টানা চতুর্থবার জয়ী হন, UPPL প্রার্থী সোমনাথ নার্জারেকে ১০ হাজার ৩৪৩ ভোটে হারিয়ে। তবে জয়ের এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হলে উপনির্বাচন হয় এবং সেখানে UPPL-এর জিরন বাসুমাতারি কংগ্রেস প্রার্থী জোয়েল টুডুকে ২৮ হাজার ২৫২ ভোটে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনে গোসাইগাঁও বিধানসভায় স্বাধীন প্রার্থীদের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০০৯ সালে নির্দল নেতা উর্কাও গ্বরা ব্রহ্মা AGP-কে ৩ হাজার ৩৮৯ ভোটে পিছনে ফেলেন। ২০১৪ সালে নির্দল নেতা নব কুমার সরানিয়া (হিরা) বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন এবং ২০১৯ সালেও তিনি এগিয়ে ছিলেন। তবে ২০২৪ সালে UPPL বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টকে ১৪ হাজার ৮৪৩ ভোটে হারিয়ে এগিয়ে যায়।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য গোসাইগাঁওতে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৪৮৬, যা ২০২৪ সালের ১ লক্ষ ১৩ হাজার ২৮২ থেকে সামান্য বেশি। তবে ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে বড় পরিবর্তন ঘটে। ২০২১ সালের ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭৬৫ ভোটার থেকে প্রায় ৭৪ হাজার ৭৮৩ ভোটার বাদ পড়ে। যা মূলত সীমা পুনর্গঠন ও অযোগ্য ভোটার অপসারণের কারণে। এর আগে ২০১৯ সালে ভোটার সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৭৫, ২০১৬ সালে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪৫৫ এবং ২০১১ সালে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৩১। ডিলিমিটেশনের আগে মুসলিম ভোটার ছিল ৩০.৬০ শতাংশ, তফসিলি জনজাতি ২২.২০ শতাংশ এবং তফসিলি জাতি ২.৯৯ শতাংশ। তবে বর্তমানে এই গঠন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রটি এখনও প্রধানত গ্রামীণ। মাত্র ৬.১৮ শতাংশ শহুরে ভোটার এবং ৯৩.৮২ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার রয়েছে। ভোটদানের হারও অত্যন্ত বেশি। যা ২০১১ সালে ৮৩.৬০ শতাংশ থেকে শুরু করে ২০১৬ সালে ৮৫.৮৩ শতাংশে পৌঁছয় এবং পরবর্তী বছরগুলোতে কিছুটা কমলেও ২০২৪ সালে ৮০.৯০ শতাংশে স্থিত থাকে।
গোসাইগাঁওয়ের জনসংখ্যা বৈচিত্র্যময়, যেখানে বোড়ো জনজাতি, বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী, মুসলিম ও অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় একসঙ্গে বসবাস করে। ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলটি দক্ষিণে সমতল ভূমি এবং উত্তরে পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে বিভক্ত। মাদাটি ও সংকোশ নদীর মতো নদীগুলি এখানে মৌসুমি বন্যার কারণ হয়, তবে একইসঙ্গে কৃষি ও জীবিকার সহায়ক। অর্থনীতি মূলত ধান চাষ, উদ্যানপালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং ক্রমবর্ধমান শহুরে কর্মসংস্থানের উপর নির্ভরশীল। উর্বর মাটি ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এই কার্যকলাপকে টিকিয়ে রাখে। যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক, গোসাইগাঁও হাট রেলস্টেশন এবং উন্নয়নশীল গ্রামীণ সড়ক।
নিকটবর্তী প্রধান শহর কোকরাঝাড়, যা প্রায় ৩৫–৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া বঙ্গাইগাঁও প্রায় ৬০–৬৫ কিলোমিটার পূর্বে এবং দিসপুর বা গুয়াহাটি প্রায় ২০০–২৫০ কিলোমিটার দূরে। পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও শিলিগুড়ির মতো শহরও কাছাকাছি, যা বাণিজ্যিক যোগাযোগে প্রভাব ফেলে। ধুবড়ি জেলা দক্ষিণে অবস্থিত।
রায়মনা জাতীয় উদ্যান গোসাইগাঁওয়ের অন্যতম আকর্ষণ, যেখানে বিপন্ন গোল্ডেন লাঙ্গুর সহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী যেমন এশীয় হাতি, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ক্লাউডেড লেপার্ড, হিমালয়ান ব্ল্যাক বেয়ার, হরিণ, গৌর এবং ১৫০টিরও বেশি প্রজাতির প্রজাপতি ও পাখি বাস করে।
২০২৬ সালের নির্বাচনে গোসাইগাঁওয়ে দু'টি বড় বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথমত ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশনের ফলে ভোটার গঠনে পরিবর্তন, বিশেষত মুসলিম ভোটার সংখ্যা কমে যাওয়া, দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক জোটের পরিবর্তন, যেখানে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারল NDA থেকে বেরিয়ে গিয়েছে এবং বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট NDA-তে যোগ দিয়েছে। BJP-র সরাসরি শক্ত ঘাঁটি এখানে দুর্বল হওয়ায় সম্ভবত BPF-ই NDA-র প্রার্থী দেবে। ফলে কংগ্রেস, UPPL, NDA এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বহুকোণীয় লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, গোসাইগাঁওয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অনিশ্চিত হতে চলেছে, যেখানে স্থানীয় ইস্যুই ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।
Input by: Ajay Jha
Somnath narzary
UPPL
Khairul anam khandakar
IND
Surjyanath tudu
IND
Abdul samad choudhury
IND
Nota
NOTA
Riajul hoque
IND
Saidur islam
TNRMPI
Uttam kumar talukdar
IND
Ratan hasda
JD(U)
Ruhit basumatary
IND
Osman goni sk
IND
Ravi sankar kasireddy
AIUDF
Ashim hasda
INC
Somnath narzary
IND
Wilson hasda
IND
Nota
NOTA
Mithun nath
RPI(A)
Rajendra mushahary
IND