
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: টাংলার লড়াইয়ে কি একপাক্ষিক জয়ের পথে বিজেপি?
অসমের উদালগুড়ি জেলার এক প্রান্তিক অথচ ব্যস্ত জনপদ টাংলা। স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশদের হাতে গড়া একের পর এক চা-বাগানে ঘেরা এই জনপদ এখন রাজ্য রাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডিলিমিটেশন'-এর পর টাংলা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ (অসংরক্ষিত) বিধানসভা আসন। দরং-উদালগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা কেন্দ্রে এবারই প্রথম বিধানসভার ভোটগ্রহণ হতে চলেছে।
২০২৩ সালের আগে উদালগুড়ি জেলায় মূলত তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র ছিল— উদালগুড়ি, পানেরি এবং মাজবাট। সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর পানেরি কেন্দ্রটির অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে টাংলা ও ভেরগাঁও নামে দুটি নতুন আসন তৈরি করা হয়। ফলে টাংল...
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: টাংলার লড়াইয়ে কি একপাক্ষিক জয়ের পথে বিজেপি?
অসমের উদালগুড়ি জেলার এক প্রান্তিক অথচ ব্যস্ত জনপদ টাংলা। স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশদের হাতে গড়া একের পর এক চা-বাগানে ঘেরা এই জনপদ এখন রাজ্য রাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডিলিমিটেশন'-এর পর টাংলা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ (অসংরক্ষিত) বিধানসভা আসন। দরং-উদালগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা কেন্দ্রে এবারই প্রথম বিধানসভার ভোটগ্রহণ হতে চলেছে।
২০২৩ সালের আগে উদালগুড়ি জেলায় মূলত তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র ছিল— উদালগুড়ি, পানেরি এবং মাজবাট। সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর পানেরি কেন্দ্রটির অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে টাংলা ও ভেরগাঁও নামে দুটি নতুন আসন তৈরি করা হয়। ফলে টাংলার নির্বাচনী ইতিহাস বলতে এখনও অবধি কেবল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যানই সম্বল। সেই পরিসংখ্যানে কিন্তু বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে রাজ্যের শাসকদল বিজেপি। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে এই টাংলা বিধানসভা এলাকায় বিজেপি প্রার্থী দিলীপ সাইকিয়া পেয়েছিলেন ৭৪,০৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিপিএফ-এর দুর্গাদাস বড়ো পেয়েছিলেন ৩০,৩১৯ ভোট। অর্থাৎ, গত বছরেই বিজেপি এখানে ৪৩,৭৭০ ভোটের এক বিশাল ব্যবধান তৈরি করে রেখেছিল। কংগ্রেসের মাধব রাজবংশী ২৭,২৭৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
২০২৬-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, টাংলায় বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা ১,৮০,৬৫৮ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় ভোটার বেড়েছে ২,৬০৬ জন। জনবিন্যাসের নিরিখে টাংলা এক মিশ্র সংস্কৃতির পীঠস্থান। এখানে বড়ো ও অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি অসমীয়া ভাষী এবং অহিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাস রয়েছে।
অঞ্চলটি মূলত গ্রামপ্রধান। অধিকাংশ মানুষের জীবিকা চা-বাগানের শ্রম বা ধান চাষ। টাংলা শহরের সামান্য কিছু নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও, বৃহত্তর গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষিকাজ ও ক্ষুদ্র ব্যবসাই প্রধান চালিকাশক্তি। ব্রহ্মপুত্রের উপনদীগুলির কারণে বর্ষায় প্লাবনের আশঙ্কা থাকলেও, এখানকার উর্বর পলিমাটি কৃষির জন্য বিশেষ সহায়ক। নির্বাচনী ময়দানে এবার মূল লড়াইয়ে রয়েছেন বিজেপির বিকাণ চন্দ্র ডেকা। তাঁর বিপরীতে বিরোধী জোটের হয়ে কংগ্রেসের বাজি রোহিত পারীগা। তবে লড়াই কেবল দ্বিমুখী নয়।
ময়দানে রয়েছেন আরও পাঁচ প্রার্থী:
জয়ন্ত কুমার রাভা: ইউপিপিএল (UPPL) প্রার্থী। উল্লেখ্য, ভোটের ঠিক আগে বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে তিনি আলাদাভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জিতেন্দ্র চালিহা: এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)।
নগেন চন্দ্র ডেকা: গণ সুরক্ষা পার্টি।
ফুলন কাছারি: ভোটার্স পার্টি ইন্টারন্যাশনাল।
বিশ্বদত্ত তাঁতি: গোন্ডওয়ানা প্রজাতন্ত্র পার্টি।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবারের লড়াই খাতায়-কলমে বহুমুখী হলেও আদতে পাল্লা বিজেপির দিকেই ভারী। প্রথমত, বিপিএফ (BPF) বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন উত্তর-পূর্ব গণতান্ত্রিক জোটের (NEDA) শরিক হওয়ায় তাদের ভোটব্যাঙ্ক বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। দ্বিতীয়ত, কংগ্রেস এবং ইউপিপিএল-এর আলাদা লড়াইয়ের ফলে সরকার-বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিজেপির জয়ের পথকে আরও মসৃণ করতে পারে।
আশ্চর্যের বিষয় হল, এই কেন্দ্রে এবার কোনও নির্দল প্রার্থী নেই। সব মিলিয়ে টাংলার ঐতিহাসিক প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির একপাক্ষিক জয়ের স্বপ্ন দেখছে, নাকি কোনও অভাবনীয় ‘উলোটপুরাণ’ ঘটবে— তা সময়ই বলবে।
ইনপুট- অজয় ঝা