
অসমের বডোল্যান্ড অঞ্চলের উদলগুড়ি। ইতিহাস, জনজাতি সংস্কৃতি আর রাজনীতির টানাপোড়েনের গড় এই কেন্দ্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রের সমীকরণে বেশ কিছু বদল আসতে চলেছে। আর সেই জল্পনাকে কেন্দ্র করেই ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনা।
অসমের বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর অন্তর্গত উদলগুড়ি শহর, উদলগুড়ি জেলার সদর শহর। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্রটি তফসিলি জনজাতির (এসটি) জন্য সংরক্ষিত। প্রাচীন কালে অসম ও তিব্বতের মধ্যে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে উদলগুড়ির বিশেষ গুরুত্ব ছিল। বডো ও রাভা সম্প্রদায়ের কাছ থেকে রেশম সংগ্রহ করতে তিব্বতি ব্যবসায়ীরা এখানে আসতেন। বহু শতাব্দী ধরে এই রেশম ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্য চলেছে, যা অসমের সমতলভূমিকে হিমাল...
অসমের বডোল্যান্ড অঞ্চলের উদলগুড়ি। ইতিহাস, জনজাতি সংস্কৃতি আর রাজনীতির টানাপোড়েনের গড় এই কেন্দ্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রের সমীকরণে বেশ কিছু বদল আসতে চলেছে। আর সেই জল্পনাকে কেন্দ্র করেই ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনা।
অসমের বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর অন্তর্গত উদলগুড়ি শহর, উদলগুড়ি জেলার সদর শহর। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্রটি তফসিলি জনজাতির (এসটি) জন্য সংরক্ষিত। প্রাচীন কালে অসম ও তিব্বতের মধ্যে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে উদলগুড়ির বিশেষ গুরুত্ব ছিল। বডো ও রাভা সম্প্রদায়ের কাছ থেকে রেশম সংগ্রহ করতে তিব্বতি ব্যবসায়ীরা এখানে আসতেন। বহু শতাব্দী ধরে এই রেশম ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্য চলেছে, যা অসমের সমতলভূমিকে হিমালয়ের পাদদেশের সঙ্গে যুক্ত করেছিল।
বর্তমানে উদলগুড়ি একটি প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিটিআরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এখানকার অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে জনজাতি ঐতিহ্য, কৃষিকাজ এবং বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যের নৈকট্যের প্রভাব স্পষ্ট। এই কেন্দ্রটি দরং-উদলগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের ১১টি বিধানসভা অংশের একটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হওয়া ১০টি বিধানসভা নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যু ও স্থানীয় নেতারাই মূল ভূমিকা পালন করে এসেছে। ভৌগোলিকভাবে উদলগুড়ি পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। দক্ষিণে উর্বর সমতলভূমি, উত্তরে ধীরে ঢালু পাহাড়ি অঞ্চল। এখানে সবুজ অরণ্য, তৃণভূমি এবং নদী ব্যবস্থা রয়েছে, যা বর্ষায় বন্যা ও ভাঙনের কারণ হয়।
রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, নির্দল প্রার্থীরা চার বার জয়ী হয়েছেন। প্লেইন ট্রাইবালস কাউন্সিল অফ অসম (পিটিসি) এবং বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) দু’বার করে জিতেছে। কংগ্রেস এবং ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারাল (ইউপিপিএল) একবার করে জয় পেয়েছে।
রিহন ডাইমারি ২০০১ ও ২০০৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। ২০১১ সালে তিনি বিপিএফ প্রার্থী হিসেবে লড়ে টানা তৃতীয় বার জয় পান এবং প্রথম বার বিপিএফ এই আসনে জেতে। তিনি নির্দল প্রার্থী ভ্রমন বাগলারিকে ১৬,১৯৪ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে রিহন আবার জিতে টানা চতুর্থ জয় নিশ্চিত করেন। তিনি নির্দল প্রার্থী অঞ্জলি প্রভা ডাইমারিকে ২৪,৩৭৪ ভোটে পরাজিত করেন। তবে ২০২১ সালে তাঁর জয়ের ধারা থামে। ইউপিপিএল প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র বাসুমাতারির কাছে তিনি ৪,৮৫১ ভোটে পরাজিত হন। ওই সময় ইউপিপিএল ছিল রাজ্যের শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অংশ।
লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের ভোটের ধারা আবার আলাদা। বিধানসভায় প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ হলেও লোকসভায় বিজেপি ও কংগ্রেস মুখ্য ভূমিকা নেয়। ২০০৯ সালে বিপিএফ বিজেপিকে ১৪,৩০৫ ভোটে পিছনে ফেলে। ২০১৪ সালে বিজেপি কংগ্রেসকে ১৩,৮২২ ভোটে হারায়। ২০১৯ সালে নির্দল নেতা প্রদীপ কুমার ডাইমারির বিরুদ্ধে বিজেপি ২৫,১৬৩ ভোটে এগিয়ে থাকে। ২০২৪ সালে বিপিএফ আবার বিজেপির থেকে ৩,৪২৫ ভোটে এগিয়ে যায়।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় উদলগুড়িতে মোট ভোটার ১,৬৯,২০৬ জন। ২০২৫ সালের এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ১,৭০,৫৩৭ থেকে ১,৩৩১ জন কমেছে। তবে ২০২৩ সালের সীমা পুনর্নির্ধারণের ফলে ভোটার সংখ্যা ২০২১ সালের ১,৫৮,৩১৩ থেকে ১২,২২৪ কমে যায়। এর আগে ২০১৯ সালে ছিল ১,৪৫,৮২৭, ২০১৬ সালে ১,৩৩,৯২৩, ২০১৪ সালে ১,২৬,২৭৯ এবং ২০১১ সালে ১,২৭,৭৩২।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, তফসিলি জনজাতির ভোটার সংখ্যা ৩৮.৭১ শতাংশ, তফসিলি জাতি ১.৯০ শতাংশ। মুসলিমদের উপস্থিতি কম হলেও উদলগুড়ি জেলার মোট জনসংখ্যার ১২.৬৬ শতাংশ মুসলিম। এই কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ। শহুরে ভোটার ৭.৪৪ শতাংশ, গ্রামীণ ভোটার ৯২.৫৬ শতাংশ। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি, যদিও ওঠানামা করে। ২০১১ সালে ছিল ৭৩.৮৫ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৮০.৫৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮০.২৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৯.৯৪ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৬.৮৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৬.৮৯ শতাংশ।
Input by: Ajay Jha
Rihon daimari
BOPF
Nota
NOTA
Anjali prabha daimari
IND
Dilip kr. baro
IND
Jaman singh brahma
INC
Bipul narzary
IND
Nota
NOTA
Santosh madahi
IND