
বিটিআরের তামুলপুরে ভোটের আগে তুঙ্গে উত্তেজনা। একদিকে জোট বদল। অন্যদিকে শক্তির সমীকরণে পালাবদল। সব মিলিয়ে ২০২৬ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। অসমের বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর অন্তর্গত তামুলপুর একটি শহর এবং তামুলপুর জেলার সদর দফতর। এটি তফসিলি জনজাতির (এসটি) জন্য সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র এবং দরং-উদালগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের ১১টি অংশের একটি।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত ১১টি বিধানসভা নির্বাচনের সাক্ষী, যার মধ্যে ২০২১ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। এখানে নির্দল প্রার্থীরাই সর্বাধিক পাঁচ বার জয়ী হয়েছেন। ঐতিহ্যগত বডো প্রতিদ্বন্দ্বী বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) এবং ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারাল (ইউপিপিএল) দু’বার করে জ...
বিটিআরের তামুলপুরে ভোটের আগে তুঙ্গে উত্তেজনা। একদিকে জোট বদল। অন্যদিকে শক্তির সমীকরণে পালাবদল। সব মিলিয়ে ২০২৬ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। অসমের বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর অন্তর্গত তামুলপুর একটি শহর এবং তামুলপুর জেলার সদর দফতর। এটি তফসিলি জনজাতির (এসটি) জন্য সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র এবং দরং-উদালগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের ১১টি অংশের একটি।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত ১১টি বিধানসভা নির্বাচনের সাক্ষী, যার মধ্যে ২০২১ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। এখানে নির্দল প্রার্থীরাই সর্বাধিক পাঁচ বার জয়ী হয়েছেন। ঐতিহ্যগত বডো প্রতিদ্বন্দ্বী বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) এবং ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারাল (ইউপিপিএল) দু’বার করে জিতেছে। জাতীয় দলগুলির সাফল্য সীমিত—১৯৭৮ সালে জনতা পার্টি এবং ১৯৮৩ সালে কংগ্রেস, দু’বারই জয়ী হন পদম বাহাদুর চৌহান। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দেরহাগ্রা মোশাহারি জয়ী হন। ২০১১ ও ২০১৬ সালে বিপিএফের ইমানুয়েল মোশাহারি জয় পান।
ইমানুয়েল মোশাহারি ২০১১ সালে প্রথম জয় পান। তিনি কংগ্রেসের চণ্ডী বাসুমাতারিকে ৪,৬০৮ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে তিনি আসন ধরে রাখেন এবং কংগ্রেসের রবীন্দ্র বিশ্বাসকে ১৯,৯৪৭ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে ইউপিপিএল প্রার্থী লেহো রাম বড়ো ৩২,১৮৩ ভোটে বিপিএফের রঙ্গা খুঙ্গুর বাসুমাতারিকে হারিয়ে জয়ী হন। একই বছর কোভিড অতিমারির সময় লেহো রাম বড়োর মৃত্যু হলে উপনির্বাচন হয়। সেখানে ইউপিপিএলের লোলেন দালমারি নির্দল প্রার্থী গণেশ কোচারিকে ৫৭,০৫৯ ভোটে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনে তামুলপুরের ভোটদানের ধরন কিছুটা আলাদা। এখানে কঠোর দলীয় আনুগত্যের বদলে স্থানীয় নেতাদের প্রাধান্য বেশি। ২০০৯ সালে বিপিএফ, অসম গণ পরিষদকে (এজিপি) ৪২,৩১২ ভোটে পিছনে ফেলে। ২০১৪ সালে নির্দল নেতা নব কুমার সরানিয়া (হীরা) বিপিএফকে ২৬,৫৩৭ ভোটে হারান এবং ২০১৯ সালে ৭,১৪১ ভোটে এগিয়ে থাকেন। ২০২৪ সালে বিজেপি বিপিএফকে ২৭,৫২৫ ভোটে পিছনে ফেলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তামুলপুরে মোট ভোটার ২,১৩,৮৪৬ জন। ২০২৫ সালের এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ২০২৪ সালের ২,১৪,৩৬৯ থেকে সামান্য হ্রাস হয়েছে। একই ভাবে ২০২৩ সালের সীমা পুনর্নির্ধারণের ফলে ২০২১ সালের ২,১৪,৫৮১ ভোটার থেকেও সামান্য কমেছে। এর আগে ২০১৯ সালে ছিল ২,০০,৪৪৭, ২০১৬ সালে ১,৭৭,২৪০, ২০১৪ সালে ১,৫৮,২০৫ এবং ২০১১ সালে ১,৫৮,২৪৪।
ভোটদানের হার বরাবরই উল্লেখযোগ্য। ২০১১ সালে ছিল ৭৬.৮৬ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৮২.১১ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮২.৬৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮০.৩৩ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭৮.১৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭.৪১ শতাংশ। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, তফসিলি জনজাতি ২৮.৬০ শতাংশ এবং তফসিলি জাতি ১২.০৬ শতাংশ। মুসলিমদের উপস্থিতি খুবই কম, যদিও জেলার মোট জনসংখ্যার ১২.৯৭ শতাংশ মুসলিম। এই কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ, যেখানে কোনও শহুরে ভোটার নেই।
ভৌগোলিকভাবে তামুলপুর পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। দক্ষিণে উর্বর সমতলভূমি এবং উত্তরে ভুটান সীমান্তের কাছে ঢেউখেলানো পাহাড়ি এলাকা রয়েছে। এখানে সবুজ অরণ্য, তৃণভূমি এবং নদী ব্যবস্থা রয়েছে, যা বর্ষায় বন্যা ও ভাঙনের কারণ হয়। পাগলাদিয়া, পুথিমারি, বারনাদি নদী ও তাদের উপনদীগুলি ভুটানের পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্রে মিশেছে। এই নদীগুলি কৃষিকে সাহায্য করলেও বর্ষায় আকস্মিক বন্যা, ভাঙন ও প্লাবনের সমস্যা তৈরি করে।
এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান প্রধান ফসল, পাশাপাশি পাট, শাকসবজি ও অন্যান্য অর্থকরী ফসল উৎপন্ন হয়। মৌমাছি পালন বা মধু উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য। কিছু এলাকায় বনজ সম্পদ জীবিকার উৎস। শিল্পের উপস্থিতি সীমিত। পরিকাঠামোর মধ্যে রয়েছে সড়ক, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্থানীয় বাজার। জাতীয় সড়ক ৩১ ও অন্যান্য রাজ্য সড়ক দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। রেল পরিষেবা সীমিত, নিকটবর্তী স্টেশন গোরেশ্বর, তিহু।
তামুলপুর রাজ্যের রাজধানী দিসপুর বা গুয়াহাটির থেকে প্রায় ৯০-১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। মুশালপুর থেকে ৫০-৬০ কিলোমিটার, বারামা থেকে ৪০-৫০ কিলোমিটার এবং উদালগুড়ি থেকে ৭০-৮০ কিলোমিটার দূরে। নলবাড়ি ও রংিয়া কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ শহর। উত্তরে ভুটানের সঙ্গে ২৯.৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা বাণিজ্য ও পরিবেশে প্রভাব ফেলে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচনে ইউপিপিএল জিতলেও তখন তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অংশ ছিল। পরে জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসায় তাদের স্বাভাবিক সুবিধা কমতে পারে। অন্যদিকে বিপিএফ স্থানীয় স্তরে প্রাসঙ্গিক থেকেছে। বর্তমানে এনডিএ-তে ইউপিপিএলের জায়গায় বিপিএফ যোগ দেওয়ায় সমীকরণ বদলেছে। ফলে ২০২৬ সালে ইউপিপিএল ও এনডিএর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা। বিজেপি, এজিপি ও বিপিএফ একসঙ্গে কাজ করলে তা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। তবে আসন জেতা সহজ হবে না, কারণ ইউপিপিএল ইতিমধ্যেই তামুলপুরে তাদের প্রার্থী হিসেবে দলের সভাপতি প্রমোদ বড়োর নাম ঘোষণা করেছে।
Input by: Ajay Jha
Rangja khungur basumatary
BOPF
Keshab chandra rajbongshi
IND
Nirmala das
BGanP
Yaswanta chauhan
IND
Nagen chandra das
IND
Nota
NOTA
Ramcharan deka
IND
Kanak basumatary
VPI
Dimbeswar rabha
IND
Satya nath kalita
IND
Nilamani rajbongshi
IND
Rabindra biswas
INC
Chandi basumatary
IND
Jamir uddin ahmed
IND
Girish chandra mahanta
IND
Mandal baskey
IND
Nota
NOTA
Hiranya choudhury
IND
Derhagra mochahary
LDP
Ranjit kr biswas
RPI(A)