
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: ঢেকিয়াজুলি বিধানসভা কেন্দ্র
অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর তীরে অবস্থিত ঢেকিয়াজুলি একটি পাদদেশীয় জনপদ, যেখানে একটি পৌর বোর্ড রয়েছে। এটি সোনিতপুর জেলার অন্তর্গত একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এখানকার সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভাষা বাংলা, তার পরেই রয়েছে অহমিয়া। হিন্দি ও নেপালিও যথেষ্ট ব্যবহৃত হয়। এই বহুভাষিক চরিত্রই ঢেকিয়াজুলির মিশ্র জনবিন্যাস ও গ্রামপ্রধান সামাজিক কাঠামোকে স্পষ্ট করে। ঢেকিয়াজুলি সোনিতপুর লোকসভা কেন্দ্রের নয়টি বিধানসভা অংশের একটি। এক সময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্র সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিজেপির শক্তিশালী দুর্গে পরিণত হয়েছে।
১৯৫১ সালে গঠিত এই কেন্দ্রটি ১৯৫২ সালের প্রথম বিধানসভ...
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: ঢেকিয়াজুলি বিধানসভা কেন্দ্র
অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর তীরে অবস্থিত ঢেকিয়াজুলি একটি পাদদেশীয় জনপদ, যেখানে একটি পৌর বোর্ড রয়েছে। এটি সোনিতপুর জেলার অন্তর্গত একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এখানকার সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভাষা বাংলা, তার পরেই রয়েছে অহমিয়া। হিন্দি ও নেপালিও যথেষ্ট ব্যবহৃত হয়। এই বহুভাষিক চরিত্রই ঢেকিয়াজুলির মিশ্র জনবিন্যাস ও গ্রামপ্রধান সামাজিক কাঠামোকে স্পষ্ট করে। ঢেকিয়াজুলি সোনিতপুর লোকসভা কেন্দ্রের নয়টি বিধানসভা অংশের একটি। এক সময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্র সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিজেপির শক্তিশালী দুর্গে পরিণত হয়েছে।
১৯৫১ সালে গঠিত এই কেন্দ্রটি ১৯৫২ সালের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে ‘ঢেকিয়াজুলি নর্থ’ নামে পরিচিত ছিল। এখন পর্যন্ত এখানে ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে ২০০৯ সালের উপনির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত। কংগ্রেস এই কেন্দ্রে মোট ১০ বার জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে ১৯৫২ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত টানা আটবার জয়ী হয়েছে। ১৯৯৬ সালে এই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে, যখন অসম গণ পরিষদ (অগপ) পরপর তিনটি নির্বাচনে (১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৬) জয়লাভ করে। ২০১৬ সাল থেকে বিজেপি টানা দু’বার বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে কেন্দ্রটি নিজেদের দখলে রেখেছে।
২০১১ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হাবুল চক্রবর্তী এজিপির অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্যকে ২০,৪৪৭ ভোটে পরাজিত করেন। সেই নির্বাচনে বিজেপি খুব কাছাকাছি তৃতীয় স্থানে ছিল। ২০১৬ সালে বিজেপি কার্যত নিজেদের আগমনের ঘোষণা করে—অশোক সিংহল তৎকালীন কংগ্রেস বিধায়ক হাবুল চক্রবর্তীকে ৩৪,৯৯৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০২১ সালেও অশোক সিংহল তাঁর আসন ধরে রাখেন, কংগ্রেসের বেনুধর নাথকে ৩৫,০৭০ ভোটে পরাজিত করে।
লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান স্পষ্ট। ঢেকিয়াজুলি আগে তেজপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ২০২৪ সালের আগে পুনর্নির্ধারণের পর ‘সোনিতপুর’ নামে পরিচিত হয়। ২০০৯ সালে অগপ এখানে কংগ্রেসের থেকে মাত্র ১,২১৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু, ২০১৪ সালের পর থেকে বিজেপি টানা তিনটি লোকসভা নির্বাচনে ঢেকিয়াজুলিতে লিড পেয়েছে—২০১৪ সালে ২৪,২৪৮ ভোটে এবং ২০১৯ সালে ৪৯,৮৩৭ ভোটে। ২০২৪ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরও বিজেপি কংগ্রেসের উপর লিড বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
২০২৫ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর পর ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী ঢেকিয়াজুলিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২,২৮,৫০১। এটি ২০২২ সালের ২,২২,০৩৯ ভোটারের তুলনায় ৪৬২ জন কম। আগে ভোটার সংখ্যা ছিল— ২০২১ সালে ২,১৭,৭৬৬, ২০১৯ সালে ২,০৩,১৬৬, ২০১৬ সালে ১,৭৫,৯০১ এবং ২০১১ সালে ১,৬৬,৬০০। মোট ভোটারের মধ্যে তফসিলি জনজাতি (ST) ভোটার ১৮.৩৯ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ১৭.৬০ শতাংশ—দুই গোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় সমান। তফসিলি জাতি (SC) ভোটার রয়েছেন আনুমানিক ৪.১২ শতাংশ।
ঢেকিয়াজুলি মূলত গ্রামপ্রধান এলাকা—মোট ভোটারের ৯২.৭৪ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন এবং মাত্র ৭.২৬ শতাংশ শহর এলাকায়। ভোটদানের হার এখানে বরাবরই যথেষ্ট বেশি থেকেছে। ২০১১ সালে ভোটদান ছিল ৭১.৮০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮১.৯২ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৮.০৯ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৭৬.৯৮ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে ঢেকিয়াজুলি সমতল এলাকায় অবস্থিত, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা প্রায় ১০০ মিটার। ব্রহ্মপুত্র নদের কাছাকাছি এই অঞ্চলের ভূমি ধীরে ধীরে অরুণাচল সীমান্তের দিকে পাদদেশীয় ভূখণ্ডে রূপ নেয়। উর্বর সমতল জমি চা ও ধান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সাপই, জুলিয়া, দিব্রু-দারাং, টিঙ্কুরিয়া, ঢেকিয়াজুলি টি এস্টেট এবং পানবাড়ি—একাধিক বড় চা-বাগান এই অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি মূলত চা শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার উপর নির্ভরশীল।
পরিকাঠামোগত দিক থেকে ঢেকিয়াজুলি যথেষ্ট উন্নত। জাতীয় সড়ক ১৫ এই এলাকার উপর দিয়ে গেছে, যা পূর্বদিকে তেজপুর (প্রায় ৩৬ কিলোমিটার) এবং পশ্চিমদিকে গুয়াহাটি (প্রায় ১৩০ কিলোমিটার) যুক্ত করেছে। রেল যোগাযোগের জন্য রয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের অধীন রাঙ্গিয়া–মুরকংসেলেক লাইনের ঢেকিয়াজুলি রোড স্টেশন। নিকটবর্তী জনপদের মধ্যে রয়েছে ওরাং (ওরাং জাতীয় উদ্যানের কাছে, প্রায় ১৫ কিলোমিটার) এবং মিসামারি (প্রায় ১৫–২০ কিলোমিটার)। অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশের প্রধান দ্বার হিসেবে পরিচিত ভালুকপংয়ের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার।
এই বিধানসভা কেন্দ্র অতীতে জাতিগত উত্তেজনার সাক্ষী থেকেছে। বোড়ো বিদ্রোহী সংগঠন এনডিএফবি-র মতো গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সহিংসতায় আদিবাসী, মুসলিম এবং অন্যান্য অ-বোড়ো জনগোষ্ঠী লক্ষ্যবস্তু হয়েছে—বিশেষত জমি, পরিচয় ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে। যদিও এই ধরনের ঘটনা মূলত উদালগুড়ি ও কোকরাঝাড়ের মতো পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে বেশি ঘটেছে, তবুও সোনিতপুরের কিছু অংশে তার প্রভাব পড়েছে, মাঝে মাঝে সংঘর্ষ, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
SIR-র ফলে ভোটার সংখ্যায় সামান্য হ্রাস ঢেকিয়াজুলির নির্বাচনী ফলে তেমন কোনও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে না। বড় ব্যবধানে ধারাবাহিক জয়ের সুবাদে বিজেপি এখানে স্পষ্টতই এগিয়ে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেও বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সরাসরি দ্বিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢেকিয়াজুলিতে বিজেপিরই সুস্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থান।
Input by- Ajay Jha
Benudhar nath
INC
Tarun sahu
IND
Nota
NOTA
Ranjay basumatary
VPI
Satrughana sasoni
ASMJTYP
Jagya ram mirdha
IND
Sanjoy dey
BGanP
Habul chakraborty
INC
Dhaniram rajowar
AIUDF
Benudhar nath
IND
Ranjay basumatary
IND
Nota
NOTA
Jahirul islam
IND
Satrughna sasoni
IND
Mohan ch nag
IND
Manoranjan daimari
IND