
মঙ্গলদৈ একটি জেনারেল ক্যাটেগরি বিধানসভা কেন্দ্র এবং এটি দারদং-উদালগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের ১১টির মধ্যে একটি। মঙ্গলদৈ শহর দাররং জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর এবং এই কেন্দ্রের শহর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শহরের পাশাপাশি বহু গ্রাম নিয়ে গঠিত হওয়ায় কেন্দ্রটির চরিত্র মূলত গ্রামীণ। ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাসের আগে এই কেন্দ্রটি মঙ্গলদৈ নামে পরিচিত ছিল এবং এটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন ছিল। পুনর্বিন্যাসের ফলে কেন্দ্রের নাম ও সীমানায় কিছু পরিবর্তন এলেও মূল এলাকা প্রায় একই রয়েছে।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে মঙ্গলদৈয়ে মোট ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে কংগ্রেস সবচেয়ে সফল। তারা ১৫টির মধ্যে ৯টি আসন জিতেছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হল...
মঙ্গলদৈ একটি জেনারেল ক্যাটেগরি বিধানসভা কেন্দ্র এবং এটি দারদং-উদালগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের ১১টির মধ্যে একটি। মঙ্গলদৈ শহর দাররং জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর এবং এই কেন্দ্রের শহর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শহরের পাশাপাশি বহু গ্রাম নিয়ে গঠিত হওয়ায় কেন্দ্রটির চরিত্র মূলত গ্রামীণ। ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাসের আগে এই কেন্দ্রটি মঙ্গলদৈ নামে পরিচিত ছিল এবং এটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন ছিল। পুনর্বিন্যাসের ফলে কেন্দ্রের নাম ও সীমানায় কিছু পরিবর্তন এলেও মূল এলাকা প্রায় একই রয়েছে।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে মঙ্গলদৈয়ে মোট ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে কংগ্রেস সবচেয়ে সফল। তারা ১৫টির মধ্যে ৯টি আসন জিতেছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হল, ১৯৫২, ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালে টানা ৩ বার জয়ের পর কংগ্রেস আর কখনও পরপর দু’টি নির্বাচন জিততে পারেনি। শুধু কংগ্রেসই নয়, ১৯৬২ সালের পর থেকে কোনও দলই এখানে টানা জয় পায়নি। ১৯৬৭ সালে এক নির্দল প্রার্থী জয়ী হন, ১৯৭২ সালে কংগ্রেস আসন পুনরুদ্ধার করে, কিন্তু ১৯৭৮ সালে জনতা পার্টির কাছে হেরে যায়। এরপর থেকে জয়-পরাজয়ের পালাবদল চলতে থাকে। ১৯৮৫ সালে নির্দল প্রার্থী, ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে অসম গণ পরিষদ (AGP), ২০১৬ সালে BJP এবং ২০২১ সালে আবার কংগ্রেস জয়ী হয়।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১১ সালে কংগ্রেসের বসন্ত দাস AIUDF-এর মহেন্দ্র দাসকে ২৩ হাজার ৭২৩ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে BJP-র গুরুজ্যোতি দাস, বসন্ত দাসকে ২১ হাজার ৮৫৬ ভোটে পরাজিত করেন। তবে ২০২১ সালে বসন্ত দাস আবার জয়ী হয়ে গুরুজ্যোতি দাসকে ২৪ হাজার ৩৫৪ ভোটে হারান। ওই নির্বাচনে বসন্ত দাস পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১১ হাজার ৩৮৬ ভোট এবং গুরুজ্যোতি দাস পেয়েছিলেন ৮৭ হাজার ৩২ ভোট। মোট বৈধ ভোট ছিল ২ লক্ষ ২ হাজার ১৪৪।
লোকসভা নির্বাচনের ভোট প্রবণতা এই অঞ্চলে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০০৯ সালে AIUDF সামান্য ব্যবধানে BJP-র থেকে এগিয়ে ছিল এবং কংগ্রেস খুব কাছাকাছি ছিল। ২০১৪ সালে চিত্র বদলে যায়। কংগ্রেস ২২ হাজার ৪৪৪ ভোটে BJP-র থেকে এগিয়ে যায়, AIUDF তৃতীয় স্থানে চলে যায়। ২০১৯ সালে কংগ্রেস আবার ২২ হাজার ৮৭৯ ভোটে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৪ সালে পরিস্থিতি পাল্টে গিয়ে BJP ৩৭ লক্ষ ৯২৫ ভোটে কংগ্রেসকে ছাড়িয়ে যায়।
ভোটার সংখ্যার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১ হাজার ৭৩২, যা ২০২৪ সালের ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৬ থেকে কিছুটা বেশি। তবে সীমানা পুনর্বিন্যাসের আগে ২০২১ সালে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৬, ২০১৬ সালে ২ লক্ষ ৫৬, ২০১৪ সালে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৮২ এবং ২০১১ সালে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৭৮৯ ছিল। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ৭৭.২৮%, ২০১৪ সালে ৮৫.৬%, ২০১৬ সালে ৮৮.৭৩%, ২০১৯ সালে ৮৬.৫৫%, ২০২১ সালে ৮৫.৭১% এবং ২০২৪ সালে ৮৪.৪৩%।
জনসংখ্যার দিক থেকে এই এলাকায় একটি বৈচিত্র্যময় সামাজিক গঠন দেখা যায়। মুসলিম জনসংখ্যা ৪৫ শতাংশের বেশি, পাশাপাশি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ, তফসিলি জাতি ও ছোট তফসিলি জনজাতির উপস্থিতিও রয়েছে। অসমীয়া ও বাঙালি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি কৃষিনির্ভর সমাজ এখানে প্রধান বৈশিষ্ট্য।
মঙ্গলদৈ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও সমৃদ্ধ। দাররং রাজার কন্যা মঙ্গলদাহীর নাম অনুসারে শহরের নামকরণ হয়েছে, যিনি অহম রাজা প্রতাপ সিংহের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ১৮৯৪ সালের পাথরুঘাট কৃষক বিদ্রোহ এই অঞ্চলের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ব্রিটিশ বাহিনী আন্দোলনরত কৃষকদের উপর গুলি চালায়। এই ঘটনার স্মরণে শহিদ মিনার নির্মিত হয়েছে। এছাড়া খাটারা সত্রের মতো প্রাচীন বৈষ্ণব মঠ এবং চা-বাগানভিত্তিক আদিবাসী সংস্কৃতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
ভূগোলের দিক থেকে এই অঞ্চল ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত সমতল বন্যাপ্রবণ এলাকা। এখানে জলাভূমি, বিল এবং উর্বর পলিমাটি রয়েছে, যা ধান চাষ, মাছ ধরা ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে সমর্থন করে। তবে বর্ষাকালে বন্যার সমস্যাও দেখা যায়। ন্যাশনাল হাইওয়ে ১৫ এই অঞ্চলের প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা, এবং রঙ্গিয়া রেলস্টেশন প্রায় ২৫–৩০ কিমি দূরে অবস্থিত।
২০২৬ সালের নির্বাচনে মঙ্গলদৈ একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে চলেছে। BJP নীলিমা দেবীকে পার্থী করেছে। কংগ্রেস টিকিট দিয়েছে রিজুমনি তালুকদারকে। এছাড়া AIUDF-এর আজিজুর রহমান SUCI(C)-র অজিত আচার্য, তৃণমূল কংগ্রেসের হরেকৃষ্ণ ডেকা এবং নির্দল প্রার্থী প্রবীন কুমার ডেকাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। যদিও একাধিক প্রার্থী রয়েছে, মূল লড়াইটি BJP ও কংগ্রেসের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০২১ সালে কংগ্রেস জয়ী হলেও ২০২৪ লোকসভায় BJP-র এগিয়ে থাকা তাদের সামান্য সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে, ফলে ফলাফল শেষ পর্যন্ত অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।
ইনপুট: অজয় ঝা
Guru jyoti das
BJP
Gakul baruah
ASMJTYP
Nota
NOTA
Jitendra sarkar
VPI
Basanta das
INC
Hiren kr das
AIUDF
Nota
NOTA
Jitendra sarkar
IND
Bhupen ch. das
LJP
Arjun ch. das
IND
Jagadish chandra sarkar
IND