
অসম নির্বাচন ২০২৬: জোট টক্কর ডিফুতে
কার্বি আংলং জেলার প্রশাসনিক সদর ডিফু—নামেই বোঝা যায়, এই কেন্দ্র শুধুই একটি বিধানসভা আসন নয়, বরং সমগ্র পাহাড়ি রাজনীতির মেরুদণ্ড। তপসিলি উপজাতি সংরক্ষিত এই কেন্দ্রটি ডিফু লোকসভা আসনের অন্তর্গত, যার পুরনো নাম ছিল ‘অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট’। ডিফু ও বাকুলিয়া পৌরসভা, মানজা, বোরলাংফের, ধানশিরি ও ফুলোনি টাউন কমিটি, লুম্বাজং ও ল্যাংসমেপি ডেভেলপমেন্ট ব্লক—সব মিলিয়ে এক জটিল ভূগোল, যেখানে শহরের তুলনায় গ্রামই শেষ কথা। ৭৮.০৮ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার বনাম ২১.৯২ শতাংশ শহুরে—সংখ্যাই বলে দিচ্ছে, ডিফুর রাজনৈতিক সুর কোথায় বাঁধা।
১৯৭৮ সালে আত্মপ্রকাশের পর ১০টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে ডিফু। শুরুটা জনতা পার্টির, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রে...
অসম নির্বাচন ২০২৬: জোট টক্কর ডিফুতে
কার্বি আংলং জেলার প্রশাসনিক সদর ডিফু—নামেই বোঝা যায়, এই কেন্দ্র শুধুই একটি বিধানসভা আসন নয়, বরং সমগ্র পাহাড়ি রাজনীতির মেরুদণ্ড। তপসিলি উপজাতি সংরক্ষিত এই কেন্দ্রটি ডিফু লোকসভা আসনের অন্তর্গত, যার পুরনো নাম ছিল ‘অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট’। ডিফু ও বাকুলিয়া পৌরসভা, মানজা, বোরলাংফের, ধানশিরি ও ফুলোনি টাউন কমিটি, লুম্বাজং ও ল্যাংসমেপি ডেভেলপমেন্ট ব্লক—সব মিলিয়ে এক জটিল ভূগোল, যেখানে শহরের তুলনায় গ্রামই শেষ কথা। ৭৮.০৮ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার বনাম ২১.৯২ শতাংশ শহুরে—সংখ্যাই বলে দিচ্ছে, ডিফুর রাজনৈতিক সুর কোথায় বাঁধা।
১৯৭৮ সালে আত্মপ্রকাশের পর ১০টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে ডিফু। শুরুটা জনতা পার্টির, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেস তিনবার, আর এএসডিসি, নির্দল ও বিজেপি—প্রত্যেকেই দু’বার করে এই আসন দখল করেছে। অর্থাৎ, ভোটারদের রায় কখনও একপেশে নয়—বরং পরিস্থিতি বুঝে পাল্টেছে।
তবে গত এক দশকে ছবিটা বদলেছে স্পষ্টভাবে। কংগ্রেসের বিদ্যাসিং ইংলেং, যিনি ২০০১ ও ২০০৬-এর পর ২০১১-তেও জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো আসন দখল করেন, তিনিই পরে বিজেপির মুখ হয়ে ওঠেন। ২০১৬-তে বিজেপির সুম রংহাং ২৮,২৩৬ ভোটে ইংলেংকে হারিয়ে কংগ্রেসের জয়ের ধারা থামান। কিন্তু ২০২১-এ পরিস্থিতি প্রায় রাজনৈতিক নাটক—রংহাং লড়লেন কংগ্রেসের টিকিটে, আর ইংলেং বিজেপির প্রতীক নিয়ে। ফলাফল? ইংলেংয়ের দাপট—৪০,৫২৮ ভোটে জয়, চতুর্থবারের মতো বিধায়ক, দ্বিতীয়বার বিজেপির হয়ে। লোকসভা ভোটের পরিসংখ্যান আরও নির্মম ছবি তুলে ধরে। ২০০৯-এ কংগ্রেস এএসডিসিকে ১৮,৭৫৮ ভোটে হারালেও ২০১৪-তে বিজেপি উল্টে ১০,৮০৬ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯-এ সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮,৩৫১। ২০২৪-এ কমে ২৫,৬৩৬—কিন্তু বিজেপির জন্য তা কোনও সতর্কবার্তা নয়, কারণ একই সময়ে ভোটার উপস্থিতি কমেছে ৯.২০ শতাংশ পয়েন্ট।
জনসংখ্যার গঠনও স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেয়। প্রায় ৫৫-৬০ শতাংশ তপসিলি উপজাতি—কার্বি প্রধান, সঙ্গে ডিমাসা, বোড়ো ও অন্যান্য গোষ্ঠী। তপসিলি জাতি ও মুসলিম ভোটার খুবই কম। শহুরে অংশে প্রশাসন, শিক্ষা ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত অ-উপজাতি মানুষ থাকলেও সামগ্রিক চরিত্র একেবারেই উপজাতি-প্রধান ও গ্রামীণ।
ভূগোলও রাজনীতির সহচর। কার্বি মালভূমির ঢেউ খেলানো পাহাড়, জুম চাষ, উপত্যকার ধান, আদা-হলুদের মতো মশলা চাষ, বনজ সম্পদ—সব মিলিয়ে জীবিকা কৃষিনির্ভর। ধনশিরি, কোপিলি ও উপনদীগুলির কারণে বর্ষায় বন্যা, পাহাড়ে ভূমিধস—প্রকৃতিও এখানে ভোটের ফ্যাক্টর। পাশাপাশি অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিফু ক্যাম্পাস শিক্ষা-নির্ভর অর্থনীতিকে কিছুটা গতি দেয়। যোগাযোগ ব্যবস্থায় জাতীয় সড়ক, ডিফু রেলস্টেশন—উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ—এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নের কাজ চলছে। পশ্চিমে হোজাই (৮০-৯০ কিমি), দক্ষিণে বোকাজান, আর প্রায় ২০০-২৭০ কিমি দূরে গুয়াহাটি। পূর্বে নাগাল্যান্ড সীমান্ত, ডিমাপুর মাত্র ১০০-১২০ কিমি—ফলে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যেরও প্রভাব রয়েছে।
সব মিলিয়ে গত ১২ বছরে ডিফু কার্যত বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। টানা দুই বিধানসভা জয়, টানা তিন লোকসভা ভোটে লিড—পরিসংখ্যান বিজেপির পক্ষেই কথা বলছে। ২০২৬-এ তারা স্পষ্ট ফেভারিট। কংগ্রেসের সামনে লড়াইটা তাই স্রেফ ভোটের নয়—বরং অস্তিত্বের। এই পাহাড়ি দুর্গে বিজেপিকে হারাতে হলে কংগ্রেসকে নিজেদের ওজনের চেয়েও বেশি জোরে ঘুষি মারতেই হবে।
By- Ajay Jha
Sum ronghang
INC
Jones ingti kathar
IND
Hemsing tisso
ASDC
Nota
NOTA
Ranjit kramsa
CPI(ML)(L)
Rajen timung
NPEP
Rohili tokbipi
IND
Dilip sing bey
IND
Bhogeswar shyam
IND
Bidya sing engleng
INC
Dr. jayanta rongpi
IND
Nota
NOTA
Dipendra rongpi
LJP
Mary kramsapi
JNCP