
নাদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্র। নতুন জোট, নতুন সমীকরণ। ২০২৬ ভোটে এই কেন্দ্রে প্রথম পরীক্ষায় বসতে চলেছে বিজেপি-এজিপি ও কংগ্রেস।
শুরুতেই জেনে রাখা ভাল, এই বিধানসভা কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বেশ ইন্টারেস্টিং। এই কেন্দ্রের গত সাতটি নির্বাচনের মধ্যে পাঁচটিতে বিজেপি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকেছে। দু’বার এগিয়ে ছিল এজিপি। আর সেখানেই বর্তমানে বিজেপি ও এজিপির জোট। ফলে কংগ্রেসের জন্য যে এটা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য। এই বিষয়ে আরও জানব, তার আগে আসুন, এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিষয়ে একটু জেনে নেওয়া যাক।
অসমের শোণিতপুর জেলার অন্তর্গত নাদুয়ার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি শোণিতপুর লোকসভা কেন্দ্রের নয়টি বিধানসভার একটি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে নাদুয়ারকে শোণিতপুরের...
নাদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্র। নতুন জোট, নতুন সমীকরণ। ২০২৬ ভোটে এই কেন্দ্রে প্রথম পরীক্ষায় বসতে চলেছে বিজেপি-এজিপি ও কংগ্রেস।
শুরুতেই জেনে রাখা ভাল, এই বিধানসভা কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বেশ ইন্টারেস্টিং। এই কেন্দ্রের গত সাতটি নির্বাচনের মধ্যে পাঁচটিতে বিজেপি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকেছে। দু’বার এগিয়ে ছিল এজিপি। আর সেখানেই বর্তমানে বিজেপি ও এজিপির জোট। ফলে কংগ্রেসের জন্য যে এটা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য। এই বিষয়ে আরও জানব, তার আগে আসুন, এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিষয়ে একটু জেনে নেওয়া যাক।
অসমের শোণিতপুর জেলার অন্তর্গত নাদুয়ার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি শোণিতপুর লোকসভা কেন্দ্রের নয়টি বিধানসভার একটি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে নাদুয়ারকে শোণিতপুরের একটি কো-ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অসম সরকারের এই প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কো-ডিস্ট্রিক্ট সাধারণ জেলার থেকে ছোট হলেও মহকুমার থেকে বড়। এখানে কো-কমিশনার সরাসরি জেলা শাসকের অধীনস্থ নন।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতল অঞ্চলে অবস্থিত নাদুয়ার ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর তীরে বিস্তৃত। এখানে উর্বর সমতল জমি এবং কিছু অংশে হালকা উঁচু পাহাড়ি এলাকা রয়েছে। এই অঞ্চল ধানখেত, চা-বাগান এবং নদীসংলগ্ন গ্রামগুলির জন্য পরিচিত। সবুজে ঘেরা এই এলাকায় কৃষিই অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশনের পরে নাদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্র গঠিত হয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনই এই কেন্দ্রের প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। এর আগে এই অঞ্চলের পূর্ববর্তী কেন্দ্র ছিল সুটিয়া, যা ১৯৬২ সালে গঠিত হয় এবং মোট ১২টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেয়।
সুটিয়া কেন্দ্রে কংগ্রেস পাঁচবার জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৬২ থেকে ১৯৭২; টানা তিনবার জয় ছিল উল্লেখযোগ্য। অসম গণ পরিষদ (এজিপি) তিনবার জয় পায়। বিজেপি দু’বার জয়ী হয়। জনতা পার্টি একবার এবং এক জন নির্দল প্রার্থী একবার জয় পান। পদ্ম হাজরিকা এই কেন্দ্রের সবচেয়ে সফল নেতা। তিনি পাঁচবার জয়ী হয়েছেন; তিনবার এজিপি এবং দু’বার বিজেপির হয়ে। টানা চারবার তিনি বিধায়ক হিসেবে জয়ী হন।
২০১১ সালে পদ্ম হাজরিকা এজিপির হয়ে জয় পান। তিনি সিপিআই(এম)-এর খেমরাজ চেত্রীকে ১২,৭৯৩ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে নতুন দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন এবং কংগ্রেসের প্রণেশ্বর বসুমতারিকে ১,৮১৮ ভোটে হারান। ২০২১ সালে তাঁর জয় আরও বড় হয়। তিনি বসুমতারিকে ২৪,৩৭৫ ভোটে পরাজিত করেন।
পদ্ম হাজরিকা এবং প্রণেশ্বর বসুমতারির লড়াই স্থানীয় রাজনীতিতে প্রায় কিংবদন্তি। এই দুই নেতা পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছেন। বসুমতারি মাত্র একবার, ২০০১ সালে, হাজরিকাকে পরাজিত করতে পেরেছিলেন। সেই জয়ও ছিল মাত্র ৭৬৫ ভোটে। কিন্তু সেটিই হাজরিকার টানা ছয়বার জয়ের সম্ভাবনা থামিয়ে দেয়।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলও এই অঞ্চলে কংগ্রেসের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করেছে। কংগ্রেস কখনও শীর্ষে উঠতে পারেনি। ২০০৯ সালে মাত্র পাঁচ ভোটে এজিপির পিছনে ছিল কংগ্রেস। ২০১৪ সালে বিজেপি ১০,৮৩০ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২৭,৬৬৭ ভোটে। ২০২৪ সালে কেন্দ্রের নাম বদলেও কংগ্রেসের পরিস্থিতি বদলায়নি। নাদুয়ার বিধানসভা অংশে বিজেপি আবারও ২৭,৬৬৭ ভোটে এগিয়ে থাকে।
২০২৫ সালের বিশেষ সংশোধনী তালিকার কোনও প্রভাব পড়েনি নাদুয়ারে। বরং ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে ২,৬৪১। ২০২৬ সালের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ২,০১,৪৯৪। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,৯৮,৮৫৩। আগে, যখন এই এলাকা সুটিয়া নামে পরিচিত ছিল, তখন ২০২১ সালে ভোটার সংখ্যা ছিল ১,৮০,৭৯৬, ২০১৯ সালে ১,৮০,৩২২, ২০১৬ সালে ১,৫৮,২৯৬ এবং ২০১১ সালে ১,৫০,২০৭। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২০,৬৯৮ ভোটার বৃদ্ধি মূলত ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফল। এই সময় নতুন কিছু এলাকা নাদুয়ারের অন্তর্ভুক্ত হয়।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী সুটিয়া কেন্দ্রে তফসিলি জাতি ভোটার ছিল ১৮.৯৬ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ৪.৮১ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ৭.৮০ শতাংশ। এটি ছিল সম্পূর্ণ গ্রামীণ কেন্দ্র। তবে এখন নাদুয়ার শহর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শহুরে ভোটারও যুক্ত হয়েছে বলে অনুমান। ভোটদানের হারও এই অঞ্চলে যথেষ্ট বেশি। ২০১১ সালে ছিল ৭২.৬৮ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ৮২.৪৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৭৬.৫৪ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭৮.৫৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে নাদুয়ার অংশে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮১.২৩ শতাংশ।
ভূপ্রকৃতির দিক থেকে নাদুয়ার ব্রহ্মপুত্রের সমতল পলিমাটির অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে উর্বর জমি ধান ও সবজি চাষের জন্য উপযোগী। মাঝেমধ্যে বিল এবং কিছু উঁচু জমি রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদ এই অঞ্চলের উত্তর সীমানা বরাবর প্রবাহিত। এর উপনদীগুলি সেচ এবং মাছ ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তবে প্রতি বছর বন্যার আশঙ্কাও থাকে। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান চাষ, চা-বাগান এবং ছোটখাটো ব্যবসা এই অঞ্চলের প্রধান আয়ের উৎস। গ্রামের মানুষ কৃষি, সবজি চাষ এবং নদীর সম্পদের উপর নির্ভরশীল।
পরিকাঠামোর দিক থেকে সড়কপথে তেজপুর ও গুয়াহাটি শহরের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। নিকটবর্তী রেলস্টেশন সুটিয়া রোড বা বালিপাড়া, যা প্রায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। গ্রামীণ উন্নয়ন এবং বন্যা প্রতিরোধে কাজ চলছে। জেলা সদর তেজপুর এখান থেকে ২৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে। বিস্বনাথ চরিয়ালি প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং গোহপুর আরও পশ্চিমে। রাজ্য রাজধানী ডিসপুর বা গুয়াহাটি প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে।
Input by: Ajay Jha