
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার সঙ্গে এই জনপদের নাম গুলিয়ে ফেললে ভুল হবে। অসমের কার্বি আংলং জেলার এই পাহাড়ি শহর এখন নির্বাচনী রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্র। বর্তমানে এটি একটি তফশিলি জনজাতি (ST) সংরক্ষিত আসন এবং ডিফু লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছয়টি বিধানসভা খণ্ডের অন্যতম।
১৯৬৭ সালে এই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাওরাঘাট এ পর্যন্ত ১২টি বিধানসভা নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে। এক সময় এই জনপদ ছিল কংগ্রেসের অবিসংবাদিত দুর্গ। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরেছে; গেরুয়া শিবিরের দাপটে সেই দুর্গে এখন ফাটল ধরেছে। পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যায়, কংগ্রেস পাঁচবার এই আসনে জয়ী হলেও স্বশাসিত রাজ্য দাবি পরিষদ (ASDC) তিনবার এবং বিজেপি দু’বার জয়ের স্বাদ পেয়েছে। এছাড়া জনতা পার্টি এবং নির্দল প্রার্থী একবা...
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার সঙ্গে এই জনপদের নাম গুলিয়ে ফেললে ভুল হবে। অসমের কার্বি আংলং জেলার এই পাহাড়ি শহর এখন নির্বাচনী রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্র। বর্তমানে এটি একটি তফশিলি জনজাতি (ST) সংরক্ষিত আসন এবং ডিফু লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছয়টি বিধানসভা খণ্ডের অন্যতম।
১৯৬৭ সালে এই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাওরাঘাট এ পর্যন্ত ১২টি বিধানসভা নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে। এক সময় এই জনপদ ছিল কংগ্রেসের অবিসংবাদিত দুর্গ। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরেছে; গেরুয়া শিবিরের দাপটে সেই দুর্গে এখন ফাটল ধরেছে। পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যায়, কংগ্রেস পাঁচবার এই আসনে জয়ী হলেও স্বশাসিত রাজ্য দাবি পরিষদ (ASDC) তিনবার এবং বিজেপি দু’বার জয়ের স্বাদ পেয়েছে। এছাড়া জনতা পার্টি এবং নির্দল প্রার্থী একবার করে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন।
২০১১ সালের নির্বাচনে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেবার কংগ্রেসের খোরসিং ইংতি নির্দল প্রার্থী চোমাং ক্রো-কে ৯,৭৩৫ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। বিজেপি ছিল তৃতীয় স্থানে, হাতে মাত্র ৬.৭ শতাংশ ভোট। কিন্তু গত এক দশকে রাজনীতির রঙ বদলেছে অভাবনীয়ভাবে। ২০১৬ সালে জয়রাম ইংলেং-এর হাত ধরে বিজেপি প্রথমবার এই আসনে জয়লাভ করে বিদায়ী কংগ্রেস বিধায়ক খোরসিং ইংতি-কে ৬,৩৯১ ভোটে পরাস্ত করে। ২০২১-এ সেই জয়ের ব্যবধান বিপুল বাড়িয়ে ৩১,৯৮৩ করে বিজেপি। বিজেপির দর্শীং রংহাং পরাস্ত করেন কংগ্রেসের সঞ্জীব তেরঁ-কে।
ভোটের এই ধারা লোকসভা নির্বাচনেও প্রতিফলিত হয়েছে। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে কংগ্রেসের লিড থাকলেও, ২০১৯ ও ২০২৪-এ বিজেপি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির অমরসিং তিসো এই বিধানসভা খণ্ডে প্রায় ৪০,০৭৫ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। মজার বিষয় হল, বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক জয়রাম ইংলেং দলবদল করে কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়ালেও বিজেপির বিজয়পতাকা আটকাতে পারেননি।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, হাওরাঘাটে মোট ভোটারের সংখ্যা ১,৯০,৪৬২। গত ২০২৪ সালের তুলনায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ৩,৭৭৮ জন। তবে সবথেকে বড় পরিবর্তনটি এসেছিল ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার পর। পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রগুলোর বেশ কিছু গ্রাম এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ২০২১ সালের তুলনায় ভোটার সংখ্যা একলাফে ৫৪,৩ ৪৫ বৃদ্ধি পায়।
ভোটদানের হারের ক্ষেত্রেও হাওরাঘাট বরাবরই উজ্জ্বল। ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনেই ভোটদানের হার ৭৮ শতাংশ থেকে ৮৩ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে, যা এই অঞ্চলের মানুষের প্রবল রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দেয়। জনবিন্যাসের হিসেবে হাওরাঘাট মূলত আদিবাসী অধ্যুষিত। সীমানা পরিবর্তনের আগের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের ৫৩.৬৮ শতাংশ ভোটার তফশিলি জনজাতি এবং ১২.০৮ শতাংশ ভোটার তফশিলি জাতিভুক্ত। মুসলিম ভোটারের উপস্থিতি এখানে নগণ্য। কেন্দ্রটি মূলত গ্রামপ্রধান, যেখানে ৯৪.২১ শতাংশ মানুষ গ্রামেই বসবাস করেন।
কার্বি আংলং মালভূমির এই অঞ্চলটি পাহাড়, উপত্যকা আর টিলার এক চমৎকার কোলাজ। এখানকার জীবনযাত্রা মূলত কৃষিনির্ভর। জুম চাষ এবং থিতু কৃষিকাজের পাশাপাশি উদ্যানপালন ও বনজ সম্পদের ওপর এখানকার মানুষ নির্ভরশীল। তবে পাহাড়ের অম্ল-মধুর সম্পর্কের মতোই এখানে ভূমিধস এবং ভূমিক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও নিত্যসঙ্গী। 'অসম মালা' প্রকল্পের অধীনে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ঘটলেও জেলা সদর ডিফু থেকে হাওরাঘাটের দূরত্ব প্রায় ৬০-৭৫ কিলোমিটার। রাজ্যের রাজধানী দিসপুর বা গুয়াহাটি থেকে এই জনপদের দূরত্ব ২২০-২৩০ কিলোমিটারের কাছাকাছি।
কার্বি জনজাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এই জনপদ। কার্বিদের পাশাপাশি দিমাসা, কুকি ও গারোদের মতো জনজাতির মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে হাওরাঘাটের সমাজ ব্যবস্থা। 'রংকের'-এর মতো উৎসবের আমেজে প্রকৃতি আর ঐতিহ্যের মিশেলে এখানকার মানুষ বাঁচে।
২০২৬-এর নির্বাচনে এই সাংস্কৃতিক পিঠস্থানে এখন রাজনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে। বিজেপি এবার তাদের প্রার্থী করেছে লুনসিং তেরঁ-কে। উল্লেখ্য, গত চারটি নির্বাচনে বিজেপি প্রতিবারই প্রার্থী বদল করেছে। এটি কি প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া সামলানোর কৌশল, নাকি সুযোগ্য প্রার্থীর সন্ধান—তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ফের আস্থা রেখেছে সঞ্জীব তেরঁ-র ওপর। তাঁদের চ্যালেঞ্জ জানাতে ময়দানে আছেন সিপিআই(এম-এল)-এর রবি কুমার ফাংচো এবং তিন নির্দল প্রার্থী— সরকিরি রংফার, রবীন্দ্র রংপি ও রাজেন তিমুং।
তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসের নিরিখে লড়াইটা মূলত বিজেপি বনাম কংগ্রেসেরই। ভোটের গ্রাফ বলছে, হাওরাঘাটের পিচে বিজেপি আপাতত অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবুও গণতন্ত্রের শেষ কথা বলবে আমজনতা, যার ফল জানতে আপাতত প্রতীক্ষায় পাহাড় ও উপত্যকার মানুষ।
ইনপুট- অজয় ঝা
Sanjeeb teron
INC
Suren kramsa
IND
Chandra kanta terang
ASDC
Rabi kumar phangcho
CPI(ML)(L)
Nota
NOTA
Chomang teron
NPEP
Rakesh ronghang
IND
Pradip tokbi
JD(U)
Khorsing engti
INC
Chomang kro
IND
Nota
NOTA