
হোজাই একটি জেনারেল ক্যাটেগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি কাজিরাঙা লোকসভার অন্তর্গত ১০টি বিধানসভার একটি। তেল নিষ্কাশন ও বাণিজ্যের জন্য হোজাইকে অসমের 'পারফিউম টাউন' নামেও ডাকা হয়। কৃষির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে এই ব্যবসার বড় ভূমিকা রয়েছে। হোজাই শহরটি কপিল ও যমুনা নদীর-এর তীরে অবস্থিত এবং সাম্প্রতিক দশকগুলোতে শিক্ষা ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে এই এলাকা দ্রুত বিকশিত হয়েছে।
হোজাই বিধানসভা কেন্দ্র গঠনের পর থেকে ১২টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তার মধ্যে এই আসনে কংগ্রেস ছয়বার, বিজেপি দু’বার, আর স্বতন্ত্র পার্টি, জনতা পার্টি ও AIUDF একবার করে জয়ী হয়েছে।
কংগ্রেসের অর্ধেন্দু কুমার দে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে জিতেছিলেন, ২০১১ সালে AIUDF-র আদিত্য লাংথাসাকে ১৯,৮৯৪ ভোটে পরাজিত...
হোজাই একটি জেনারেল ক্যাটেগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি কাজিরাঙা লোকসভার অন্তর্গত ১০টি বিধানসভার একটি। তেল নিষ্কাশন ও বাণিজ্যের জন্য হোজাইকে অসমের 'পারফিউম টাউন' নামেও ডাকা হয়। কৃষির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে এই ব্যবসার বড় ভূমিকা রয়েছে। হোজাই শহরটি কপিল ও যমুনা নদীর-এর তীরে অবস্থিত এবং সাম্প্রতিক দশকগুলোতে শিক্ষা ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে এই এলাকা দ্রুত বিকশিত হয়েছে।
হোজাই বিধানসভা কেন্দ্র গঠনের পর থেকে ১২টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তার মধ্যে এই আসনে কংগ্রেস ছয়বার, বিজেপি দু’বার, আর স্বতন্ত্র পার্টি, জনতা পার্টি ও AIUDF একবার করে জয়ী হয়েছে।
কংগ্রেসের অর্ধেন্দু কুমার দে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে জিতেছিলেন, ২০১১ সালে AIUDF-র আদিত্য লাংথাসাকে ১৯,৮৯৪ ভোটে পরাজিত করে পুনরায় এই আসন দখল করেন। ২০১৬ সালে বিজেপির শিলাদিত্য দেব ৫৫,৮৫৯ ভোটে AIUDF-র ধনিরাম থৌসেনকে হারিয়ে এই আসনে বিজেপির প্রথম জয় নিশ্চিত করেন। ২০২১ সালে বিজেপি নতুন প্রার্থী রামকৃষ্ণ ঘোষকেকে দাঁড় করিয়ে কংগ্রেসের দেবব্রত সাহাকে ৩৩,৭৮২ ভোটে হারিয়ে আসন ধরে রাখে।
লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে, ২০০৯ সাল থেকে হোজাই অংশে বিজেপি টানা চারবার এগিয়ে রয়েছে। ২০০৯ সালে AIUDF-র বিরুদ্ধে ২৪,৯৪২, ২০১৪ সালে ৩৯,৬৮২, ২০১৯ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ৪৮,৫৬০ এবং ২০২৪ সালে ৬৭,২৪০ ভোটে লিড পায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫০,৪১০-জনে। যা ২০২৪ সালের ২,৪৩,৫৬৪ থেকে বেশি। তবে ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশনে ২০২১ সালের ২,৬৫,৮৮৬ ভোটারের তুলনায় ২২,৩২২ জন কমে যায়। পুনর্বিন্যাসে মুসলিম-অধ্যুষিত কিছু গ্রাম পাশের কেন্দ্রে যুক্ত হয় এবং হিন্দু-অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকা হোজাইয়ে যুক্ত হয়, ফলে ভোটের সামাজিক গঠনে বড় পরিবর্তন আসে। আগে এই কেন্দ্রের ৭১.৬৩ শতাংশ ভোটার গ্রামীণ এলাকায় এবং ২৮.৩৭ শতাংশ শহুরে এলাকায় বাস করতেন, তবে ডিলিমিটেশনের পর এই অনুপাত বদলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটদানের হারও ধারাবাহিকভাবে বেশি। ২০১১ সালে ৭৭.৮০%, ২০১৬ সালে ৮৬.১৩%, ২০২১ সালে ৮৩.২৪% এবং ২০২৪ সালে ৮৩.৬৭%।
এই কেন্দ্রের জনসংখ্যা গঠনে অসমিয়া ভাষাভাষী হিন্দু, বাঙালি ভাষাভাষী মানুষ, চা-বাগানের শ্রমিক সম্প্রদায় এবং অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মিশ্রণ রয়েছে, যা এলাকাটিকে সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় করেছে।
ভৌগোলিকভাবে হোজাই ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতল অ্যালুভিয়াল ভূমিতে অবস্থিত, দক্ষিণ দিকে কিছুটা ঢালু পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি রয়েছে। ধান, শাকসবজি, মসলা এবং আগরউড চাষ এখানে প্রধান কৃষি কার্যক্রম, তবে বহ্মপুত্র নদীর উপনদীগুলোর কারণে বর্ষায় বন্যার ঝুঁকি থাকে।
যোগাযোগের ক্ষেত্রে NH-27 -এর মাধ্যমে সড়কপথে সংযোগ রয়েছে। কাছের রেল স্টেশন রয়েছে হোজাই রেল স্টেশন। গুয়াহাটি-লুমডিং লাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। কাছাকাছি শহরের মধ্যে পূর্বে নগাঁও (প্রায় ৩৫–৪০ কিমি) এবং পশ্চিমে লুম্বডিং (প্রায় ৪৫–৫০ কিমি) অবস্থিত। আর রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি প্রায় ১৭০–১৮০ কিমি দূরে অবস্থিত।
রাজনৈতিকভাবে, হোজাই একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হলেও গত প্রায় দেড় দশকে এটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। গত সাতটি নির্বাচনের মধ্যে ছয়টিতেই বিজেপি জয় বা লিড পেয়েছে এবং জয়ের ব্যবধানও ক্রমাগত বেড়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে কাঁটায় কাঁটায় লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপি আবারও তাদের ২০১৬ সালের বিজয়ী শিলাদিত্য দেবকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস নতুন মুখ হিসেবে স্থানীয় সমাজকর্মী ঝিল্লি চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে। AIUDF আলাদাভাবে লড়লে মুসলিম ভোট বিভাজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিজেপির টানা তৃতীয় জয়ের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করতে পারে।
Debabrata saha
INC
Nota
NOTA
Raj kumar gupta
LRAP
Dulal sutradhar
IND
Najmul hussain laskar
IND
Dhaniram thousen
AIUDF
Ardhendu kumar dey
INC
Zakir hussain
IND
Nota
NOTA
Mainul hoque
IND