
অসমের কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল অঞ্চলের তফসিলি উপজাতিদের সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র রোংখাং। এটি ডিফু লোকসভা কেন্দ্রের ছয়টির মধ্যে একটি। যা আগে অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট সংসদীয় কেন্দ্র নামে পরিচিত ছিল। ২০২৩ সালে ডিলিমিটেশন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই কেন্দ্রটি গঠিত হয়। এই কেন্দ্রের মধ্যে রোংখাং শহর রয়েছে। আশপাশে গ্রাম রয়েছে। ফলে এটি মূলত গ্রামীণ ও পাহাড়ি চরিত্রের।
নতুন কেন্দ্র হওয়ায় রোংখাং এর নিজস্ব কোনও বিধানসভা নির্বাচনী ইতিহাস নেই। একানকার ভোটারদের চরিত্রের একমাত্র ইঙ্গিত পাওয়া যায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে। এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী একজন নির্দল প্রার্থীকে ৩২,৮৫৫ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। বিজেপি প্রার্থী আমরাসিং তিসো পেয়েছিলেন ৫...
অসমের কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল অঞ্চলের তফসিলি উপজাতিদের সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র রোংখাং। এটি ডিফু লোকসভা কেন্দ্রের ছয়টির মধ্যে একটি। যা আগে অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট সংসদীয় কেন্দ্র নামে পরিচিত ছিল। ২০২৩ সালে ডিলিমিটেশন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই কেন্দ্রটি গঠিত হয়। এই কেন্দ্রের মধ্যে রোংখাং শহর রয়েছে। আশপাশে গ্রাম রয়েছে। ফলে এটি মূলত গ্রামীণ ও পাহাড়ি চরিত্রের।
নতুন কেন্দ্র হওয়ায় রোংখাং এর নিজস্ব কোনও বিধানসভা নির্বাচনী ইতিহাস নেই। একানকার ভোটারদের চরিত্রের একমাত্র ইঙ্গিত পাওয়া যায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে। এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী একজন নির্দল প্রার্থীকে ৩২,৮৫৫ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। বিজেপি প্রার্থী আমরাসিং তিসো পেয়েছিলেন ৫৭,২৬১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী জোন্স ইংতি কথার ২৪,৪০৮ ভোট, আর কংগ্রেসের জয়রাম ইংলেং ১২,৬১৬ ভোট পেয়েছিলেন। মোট ভোটদানের হার ছিল ৭৬.৮১ শতাংশ।
পূর্বের বৈঠালাংসো কেন্দ্রকে ভাগ করে যেহেতু এই বিধানসভা কেন্দ্রকে ভাগ করে হয়েছিল। বৈঠালাংসো বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মোট ১৩টি নির্বাচন হয়েছে। যার মধ্যে ২০১৬ সালের একটি উপনির্বাচন ছিল। এই আসনে কংগ্রেস ৮ বার জিতেছে, অটোনোমাস স্টেট ডিমান্ড কমিটি ২ বার, বিজেপি ২ বার এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার জয়লাভ করেছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১,৩১,৮৫৮। যা ২০২৪ সালের ১,২৯,২৫২ ভোটারের তুলনায় সামান্য বেশি।
জনসংখ্যার গঠনে তফসিলি উপজাতির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। বিশেষ করে কার্বি জনগোষ্ঠী, যারা এই অঞ্চলের প্রধান আদিবাসী সম্প্রদায়। পাশাপাশি কিছু ছোট আদিবাসী গোষ্ঠীও রয়েছে। অ-আদিবাসী জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এখানে কার্বি গ্রামগুলিতে ঐতিহ্যবাহী ক্লানভিত্তিক বসতি এবং কৃষিনির্ভর সমাজ দেখা যায়।
ভৌগোলিকভাবে রোংখাং পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার পাহাড়ি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যেখানে ঢেউখেলানো মালভূমি, সংকীর্ণ উপত্যকা এবং কার্বি মালভূমি রয়েছে। এখানে ঝুম চাষ, উপত্যকায় ধান চাষ, আদা, হলুদ, আনারসের মতো উদ্যান ফসল এবং বনজ সম্পদের উপর নির্ভরতা রয়েছে। জীবিকা প্রধানত কৃষি, বনজ সম্পদ, ছোট ব্যবসা এবং সরকারি চাকরির উপর নির্ভরশীল।
একানে যোগাযোগ ব্যবস্থাযর ভিত্তি সড়কপথই। স্টেট হাইওয়ে ও জেলা সড়ক দিয়ে আশপাশের অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। তবে নিকটবর্তী এলাকায় রেল যোগাযোগ নেই। নিকটতম রেলস্টেশন ডিফু বা লামডিং, যা প্রায় ৬০–৮০ কিমি দূরে। গ্রামাঞ্চলে মৌলিক পরিষেবা থাকলেও গ্রামীণ সড়ক, সেচ ও জনজাতি কল্যাণ প্রকল্পে উন্নয়ন কাজ চলছে।
নিকটবর্তী বড় শহর হামরেন, যা পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার সদর দপ্তর এবং রোংখাং থেকে প্রায় ২০–৩০ কিমি দূরে। এছাড়া ডিফু প্রায় ৬০–৭০ কিমি দূরে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী দিসপুর/গুয়াহাটি প্রায় ২০০–২৫০ কিমি পশ্চিমে। এই অঞ্চলটি প্রধানত জনজাতি অধ্যুষিত পাহাড়ি এলাকা, যদিও বৃহত্তর কার্বি আংলং অঞ্চলের কিছু অংশ মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডের সন্নিকটে।