
বাঙালি অস্মিতায় শান দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রচারের শেষলগ্নে আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘একজন তফসিলি মহিলার গায়ে যারা হাত দিয়েছেন, আগামী ৪ তারিখ তৃণমূল আরামবাগে জিতুক অথবা হারুক ১২ টার পরে দিল্লির বাবা কাকে বাঁচাতে আসে আমি দেখব।...মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হোন, ৪ তারিখ আরামবাগের স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে। এমন জোরে ডিজে বাজবে কান ঝালাপালা করে দেব।’ সেই হুগলতিই এবার কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়ল তৃণমূল।
হুগলি জেলায় মোট আসন ১৮টি। আরামবাগ, বলাগড়, চাঁপদানি, চন্দননগর, চণ্ডীতলা, চুঁচুড়া, ধনেখালি, গোঘাট, হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া, খানাকুল, পাণ্ডুয়া, পুরশুড়া, সপ্তগ্রাম, সিঙ্গুর, শ্রীরামপুর, তারকেশ্বর, উত্তরপাড়া। দ্বিতীয় দফায় এই জেলায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। আর এই হুগলিতেই এবার ঘাসফুলকে টেক্কা দিল বিজেপি। ১৮ আসনের এই জেলায় প্রাথমিক ট্রেন্ডে ১১টি কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। ৭টিতে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, তৃণমূলের আতুরঘর সিঙ্গুরে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।
প্রসঙ্গত, সিঙ্গুর রাজ্য-রাজনীতির পট পরিবর্তনের অন্যতম ভরকেন্দ্র। মমতার সিঙ্গুর আন্দোলন ২০১১ সালে নড়িয়ে বামেদের ৩৪ বছরের শাসনের ভিত। সিঙ্গুরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নের ন্যানো প্রকল্প। রতন টাটার একলাখি গাড়ি। ওদিকে তার পালটা জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ২৬ দিনের অনশন। তাপসী মালিক। জমিরক্ষার আন্দোলন। সিঙ্গুর লেখে পশ্চিমবঙ্গের পালাবদলের ইতিহাস। সেই সিঙ্গুর ২০১১ সালের পর থেকে প্রতিবারই বিধানসভা নির্বাচনে শিল্প না কৃষি, এই ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে লাইম লাইটে থেকেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সিঙ্গুর কেন্দ্রটি বিশেষ নজরে। আর এখানে এখনও পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।
উত্তরপাড়াতেও হাওয়া ঘুরছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির দীপাঞ্জন চক্রবর্তী তৃণমূলের প্রার্থী তথা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষান্য বন্দোপাধ্যায়ের থেকে এগিয়ে রয়েছেন। চন্দননগরেও এগিয়ে রয়েছে বিজেপি প্রার্থী। চুঁচুড়াতেও এগিয়ে পদ্ম শিবির। বলাগড়, সপ্তগ্রাম, জাঙ্গিপাড়াতেও বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুলেও বিজেপি এগিয়ে গিয়েছে। তবে শ্রীরামপুর, চাঁপদানি, চণ্ডীতলা, হরিপাল ও ধনেখালিতে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল।