
বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রে ছাব্বিশে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। দুই দলই এখানে মোটের উপর একই রকম শক্তিশালী। এখন দেখার সেই ভোটে কার ভাগ্য চমকায়। প্রসঙ্গত, হুগলি জেলার চুঁচুড়া সাবডিভিশনের একটি ব্লক-লেভেলের শহর হল বালাগড়। এটি তফশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত বিধানসভা আসন। এটি হুগলি লোকসভা আসনের সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। এটি বালাগড় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং চুঁচুড়া-মগরা ব্লকের চন্দ্রহাটি ১, চন্দ্রহাটি ২, দিগসুই এবং মগরা ১ গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত বলাগড় আসনটি জেনারেল ক্যাটাগারির আসন হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে ১৯৭৭ সালের নির্বাচনের পর থেকে শিডিউল কাস্টের জন্য এই আসনটি সংরক্ষিত হয়ে যায়। রাজ্যে অন...
বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রে ছাব্বিশে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। দুই দলই এখানে মোটের উপর একই রকম শক্তিশালী। এখন দেখার সেই ভোটে কার ভাগ্য চমকায়। প্রসঙ্গত, হুগলি জেলার চুঁচুড়া সাবডিভিশনের একটি ব্লক-লেভেলের শহর হল বালাগড়। এটি তফশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত বিধানসভা আসন। এটি হুগলি লোকসভা আসনের সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। এটি বালাগড় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং চুঁচুড়া-মগরা ব্লকের চন্দ্রহাটি ১, চন্দ্রহাটি ২, দিগসুই এবং মগরা ১ গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত বলাগড় আসনটি জেনারেল ক্যাটাগারির আসন হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে ১৯৭৭ সালের নির্বাচনের পর থেকে শিডিউল কাস্টের জন্য এই আসনটি সংরক্ষিত হয়ে যায়। রাজ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনই এখানে হয়েছে। পাশাপাশি ২০০৭ সালে একটি উপনির্বাচনও হয়েছে এই কেন্দ্রে। এখানে সিপিআই(এম) সবচেয়ে সফল দল। তারা ১৮টি নির্বাচনের মধ্যে ১০টিতেই জিতেছে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত আটটি ধারাবাহিক জয় পেয়ে লাল পতাকা উড়েছে এই কেন্দ্রে। এছাড়া কংগ্রেস চারবার, তৃণমূল কংগ্রেস তিনবার এবং ১৯৫৭ সালে অবিভক্ত সিপিআই একবার জিতেছে এই আসনটি। তৃণমূল কংগ্রেস বলাগড়ে ২০১১ সালে তাদের প্রথম জয় ছিনিয়ে নেয়। সেই বছর অসীমকুমার মাঝি সিপিআই(এম)-এর বিধায়ক ভুবন প্রমাণিককে ২১,৫৮৩ ভোটে পরাজিত করেন। আবার ২০১৬ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন মাঝি। তিনি সিপিআই(এম)-এর পঞ্চু গোপাল মন্ডলকে ১৭,৮৩৭ ভোটে হারিয়েদেন। তবে ২০২১ সালে এখানে নতুন মুখ সামনে আনে তৃণমূল কংগ্রেস। লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারি এখানে ভোটে দাঁড়ান এবং জেতেন। তিনি বিজেপি-র সুভাষচন্দ্র হালদারকে ৫,৭৮৪ ভোটে পরাজিত করেন। সেই ভোটে মাত্র ৮.৯৯ শতাংশ ভোট পায় সিপিআইএম। বিজেপি পেয়েছিল ৪৩ শতাংশ। আর তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৪৫.৬৩ শতাংশ ভোট। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআই(এম)-কে যথাক্রমে ২০,৮৪৮ ও ১৪,৮৫৮ ভোটের ব্যবধানে হারায়। তবে ২০১৯ সালে বিজেপি এগিয়ে যায়। তারা তৃণমূলকে ৩৪,০৫৪ ভোটে হারিয়ে দেয়। সিপিআই(এম)-এর ভোটের শতাংশ ৭.২১-এ নেমে আসে। ২০২৪ সালে আবারও বিজেপি এগিয়ে যায়। তৃণমূলের থেকে ৫,৯৪৭ ভোটে এগিয়ে থাকে। এই ভোটেও সিপিআই(এম) তৃতীয় স্থানে শেষ করে। ২০২৪ সালে বলাগড়ে ২৬৩,০৬৪ ভোটার ছিল। আবার ২০২১ সালে ২৫৮,৯৫৫ এবং ২০১৯ সালে ২৪৯,২২৬ ভোটার ছিল। এখানে তফশিলি জাতির ভোটারের সংখ্যা ৪০.৪৪ শতাংশ। আবার উপজাতি ভোটার ৮.৮৭ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ৯.৬০ শতাংশ। এই আসনটি মূলত গ্রামীণ। এখানে ৮০.৬৪ শতাংশ ভোটার গ্রামে বাস করেন। ১৯.৩৬ শতাংশ বাস করেন শহরে। এই কেন্দ্রে ভোটারের অংশগ্রহণও অনেকটাই বেশি। ২০১১ সালে ৮৪.৪০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৫.৬৬ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৪.৫৪ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৫.১৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৩.৪২ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। বলাগড় হুগলি নদীর পূর্ব তীরে সমতল ভূমিতে অবস্থিত। এখানকার মাটিতে ধান, পাট ও সবজি চাষের জন্য ভালই। তবে এই এলাকায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি কৃষি, দেশিয় নৌকা তৈরি, টাইল তৈরি ও ইঁট তৈরির উপর নির্ভরশীল। মাথায় রাখতে হবে, বলাগড়ে তৈরি কাঠের দেশি নৌকা সারা ভারতে পরিচিত। এই নৌকার GI ট্যাগ রয়েছে। বলাগড় অঞ্চলটি সড়ক ও রেলপথে হুগলি জেলা এবং কলকাতা অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। চুঁচুড়া জেলা সদর প্রায় ২৯ কিমি দূরে। এখান থেকে কলকাতা প্রায় ৭০-৯০ কিমি দক্ষিণে। এই কেন্দ্র থেকে ব্যান্ডেল ও বর্ধমান সহজেই পৌঁছানো যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বলাগড়ে একটা কঠিন লড়াই হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি দুই দলই এখানে প্রায় সমান শক্তি রাখে। তবে লোকসভা নির্বাচনের ট্রেন্ড দেখলে, এখানে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তবে তৃণমূলও খুব পিছিয়ে নেই। এখন দেখার বাম-কংগ্রেস ভোট কাটাকাটি করে কি না, তার প্রভাব ভোটের ফলাফলে দেখা যায় কি না।
Subhas chandra haldar
BJP
Mahamaya mondal
CPI(M)
Nota
NOTA
Sukdeb biswas
SUCI
Panchu gopal mondal
CPM
Subash chandra halder
BJP
Nota
NOTA
Subrata mondal
PDS
Gautam mondal
CPI(ML)(L)