
আরামবাগ। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার একটি বিধানসভা। আরামবাগ লোকসভা আসনের অধীনে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম। ১৯৫১ সাল থেকে এটি সাধারণ আসন ছিল। ২০০৮ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশের পর এটি তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। তারপর থেকে এটি সংরক্ষিত আসন। এটি আরামবাগ পুরসভা এলাকা এবং আরামবাগ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। কংগ্রেস এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) শক্ত ঘাঁটি ছিল আরামবাগ। দুটি দলই ছ'বার করে আসনটি জিতেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ এবং ২০১৬ সালে পরপর নির্বাচনে জয়লাভ করে। বাংলা কংগ্রেস, জনতা পার্টি এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একবার করে জিতেছে আরামবাগ। বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ চন্দ্র সেন এই ...
আরামবাগ। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার একটি বিধানসভা। আরামবাগ লোকসভা আসনের অধীনে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম। ১৯৫১ সাল থেকে এটি সাধারণ আসন ছিল। ২০০৮ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশের পর এটি তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। তারপর থেকে এটি সংরক্ষিত আসন। এটি আরামবাগ পুরসভা এলাকা এবং আরামবাগ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। কংগ্রেস এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) শক্ত ঘাঁটি ছিল আরামবাগ। দুটি দলই ছ'বার করে আসনটি জিতেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ এবং ২০১৬ সালে পরপর নির্বাচনে জয়লাভ করে। বাংলা কংগ্রেস, জনতা পার্টি এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একবার করে জিতেছে আরামবাগ। বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ চন্দ্র সেন এই আসন থেকে চারবার জিতেছেন। ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং ১৯৭২ সালে টানা জয়।
আরামবাগের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৬৭ সালের নির্বাচনটি সবচেয়ে স্মরণীয়। এই নির্বাচনে প্রফুল্লচন্দ্র সেন এবং বাংলা কংগ্রেসের নেতা অজয় মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে নাটকীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। প্রফুল্লকে ২৪ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন অজয়বাবু। মুখ্যমন্ত্রী হন। যা বাংলার রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসে। তিনি আর কখনও আরামবাগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তমলুকের নিজের ঐতিহ্যবাহী আসনে ফিরে যান। ১৯৮৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে সিপিআই টানা পাঁচবার আসনটি জিতেছিল। এরপর ২০১১ সালে আসনটি জেতে তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খায় ঘাসফুল শিবির। বিজেপির মধুসূদন বাগ ৭,৭৭২ ভোটের ব্যবধানে জেতেন। এই কেন্দ্রে এটাই বিজেপির প্রথম জয়। রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এই প্রবণতাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। বিজেপির চেয়ে মাত্র ৫৪৬ ভোটের সামান্য ব্যবধানে আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল।
ভোটার জনসংখ্যার দিক থেকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আরামবাগে ২,০৭,৮২৯ জন ভোটার ছিলেন। তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটারদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫.০৬ শতাংশ। মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০.৫০ শতাংশ। এই নির্বাচনী এলাকাটি প্রধানত গ্রামীণ যেখানে ৭৮.৬৯ শতাংশ ভোটার গ্রামের। ২১.৩২ শতাংশ শহরে বসবাস করেন। ২০২১ সালে ভোটের হার ছিল ৮৭.৭৯ শতাংশ। আরামবাগের ভূখণ্ড মূলত সমতল ও ঊর্বর। এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে দ্বারকেশ্বর নদী। এই এলাকাটি ধান, আলু এবং সবজি চাষের জন্য পরিচিত। কৃষিকাজই স্থানীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এখানে ছোট আকারের শিল্প এবং কুটির শিল্প থাকলেও বড় শিল্প প্রায় নেই। কর্মসংস্থানের জন্য কলকাতায় যান মানুষ।
আরামবাগ শহর কলকাতা থেকে প্রায় ৮২ কিলোমিটার দূরে। সড়ক ও রেলপথে যুক্ত। অন্যান্য কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে ৩০ কিলোমিটার দূরে তারকেশ্বর, ২০ কিলোমিটার দূরে কামারপুকুর এবং ২৫ কিলোমিটার দূরে খানাকুল। জেলা সদর হুগলি-চুঁচুড়া প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আরামবাগের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ঐতিহ্যও রয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলে এই এলাকাটি জাহানাবাদ নামে পরিচিত ছিল। ১৯০০ সালে তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর নাম পরিবর্তন করে আরামবাগ রাখেন। আরামবাগ নামের অর্থ "আরামের বাগান"। শহরটি বাংলার নবজাগরণে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল। ২০২১ সালে বিজেপি আরামবাগ আসনটি জেতায় ২০২৬ সালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে। আরামবাগ এখন আর শুধু একটি আসন জেতার বিষয় নয়। আগামী বছরগুলোতে বাংলার রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা হয়তো এই কেন্দ্রই নির্ধারণ করবে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট যারা গত বিধানসভা নির্বাচনে একটিও আসন জিততে পারেনি। বাম ভোট তাই এখানে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
Sujata mondal
AITC
Sakti mohon malik
CPI(M)
Nota
NOTA
Bankim chandra santra
BSP
Asit malik
CPM
Murari bera
BJP
Nota
NOTA