
চার দশকের লাল দুর্গ ভেঙে সবুজের উত্থান। আর পরেই গেরুয়া শিবিরের চ্যালেঞ্জ। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে পাণ্ডুয়ায় তুঙ্গে ত্রিমুখী রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ। হুগলি জেলার চুঁচুড়া মহকুমার অন্তর্গত ব্লক-স্তরের মফস্বল এলাকা পাণ্ডুয়া। সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে সিপিআই(এম)-এর দাপট ছিল। রাজ্যে বামফ্রন্টের পতনের পরেও পাণ্ডুয়ায় সিপিআই(এম)-কে পরাস্ত করতে তৃণমূল কংগ্রেসকে এক দশক অপেক্ষা করতে হয়েছে। পুরো পাণ্ডুয়া কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি হুগলি লোকসভা আসনের সাতটি অংশের একটি।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পাণ্ডুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত ১৫ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। শুরুর দশকগুলিতে কংগ্রেস ও সিপিআই(এম) পর্যায়ক্রমে জিতে...
চার দশকের লাল দুর্গ ভেঙে সবুজের উত্থান। আর পরেই গেরুয়া শিবিরের চ্যালেঞ্জ। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে পাণ্ডুয়ায় তুঙ্গে ত্রিমুখী রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ। হুগলি জেলার চুঁচুড়া মহকুমার অন্তর্গত ব্লক-স্তরের মফস্বল এলাকা পাণ্ডুয়া। সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে সিপিআই(এম)-এর দাপট ছিল। রাজ্যে বামফ্রন্টের পতনের পরেও পাণ্ডুয়ায় সিপিআই(এম)-কে পরাস্ত করতে তৃণমূল কংগ্রেসকে এক দশক অপেক্ষা করতে হয়েছে। পুরো পাণ্ডুয়া কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি হুগলি লোকসভা আসনের সাতটি অংশের একটি।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পাণ্ডুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত ১৫ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। শুরুর দশকগুলিতে কংগ্রেস ও সিপিআই(এম) পর্যায়ক্রমে জিতেছে। দু’দলই পরপর দু’বার করে ক্ষমতায় এসেছে। ১৯৭২ সালে কংগ্রেস শেষবারের মতো এই আসন জেতে। এরপরেই শুরু হয় সিপিআই(এম)-এর দীর্ঘ আধিপত্য। ১৯৭৭ সাল থেকে টানা ন’বার জয় পায় তারা। সব মিলিয়ে সিপিআই(এম) ১১ বার এই আসনে জিতেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস পরপর চার বার সিপিআই(এম)-এর কাছে পরাজিত হলেও লড়াই ছাড়েনি। ২০১১ সালে সিপিআই(এম)-এর শেখ আমজাদ হোসেন তৃণমূলের নার্গিস বেগমকে মাত্র ৩৯৭ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে আমজাদ হোসেন আবারও জয়ী হন। সে বার তৃণমূলের সৈয়দ রহিম নবিকে ১,৩৯২ ভোটে পরাস্ত করেন।
কিন্তু ২০২১ সালে পরিস্থিতি আমূল বদলায়। সিপিআই(এম) তৃতীয় স্থানে নেমে যায়, এমনকি বিজেপিরও পিছনে। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের দুইবারের সাংসদ রত্না দে নাগ তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ৩১,৮৫৮ ভোটে বিজেপির পার্থ শর্মাকে হারিয়ে দলের প্রথম জয় এনে দেন। সিপিআই(এম)-এর ভোট শতাংশ ২০১৬ সালের তুলনায় ২৫.১৪ শতাংশ পয়েন্ট কমে যায়। অন্য দিকে বিজেপি ২০১৬ সালের তুলনায় ২৩.৫৯ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
লোকসভা নির্বাচনে পাণ্ডুয়া বিধানসভা অংশের ভোটের প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য। ২০০৯ সালে সিপিআই(এম) তৃণমূলের থেকে ৯,০৮২ ভোটে এগিয়ে ছিল। পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। তৃণমূল সিপিআই(এম)-এর বিরুদ্ধে ৭,৪৮০ ভোটের লিড নেয়। ২০১৯ সালে বিজেপি ৭০২ ভোটে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে। ২০২৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ২৫,৭৮৬ ভোটে বিজেপির থেকে এগিয়ে যায়।
২০২৫ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের পরে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী পাণ্ডুয়া কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২,৫৫,৯২৬। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৭৬,১২২; অর্থাৎ ২০,১৯৬ ভোট কমেছে। এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভোটার বেড়েছিল ৩৭,৬৩২ এবং ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আরও ২৫,৪৭৭ জন যুক্ত হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভোটার সংখ্যা ছিল; ২০২১ সালে ২,৭০,৫০৩, ২০১৯ সালে ২,৫৯,৭৭১, ২০১৬ সালে ২,৪৫,০২৬ এবং ২০১১ সালে ২,০৭,৩৩৪।
এখানে রাজনীতিতে কোনও একটি জাতি বা সম্প্রদায়ই একচ্ছত্র নয়। তফসিলি জাতি ৩২.০৪ শতাংশ, তফসিলি জনজাতি ১৫.৩৬ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ২৫.২০ শতাংশ। মোট ভোটারের ৮৪.৯৩ শতাংশ গ্রামে এবং ১৫.০৭ শতাংশ শহুরে এলাকায় বাস করেন। ভোটদানের হারও ধারাবাহিকভাবে বেশি; ২০১১ সালে ৮৭.৭৩ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৫.৫০ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮২.৮৪ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৩.০৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮১.২৮ শতাংশ।
পাণ্ডুয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্বও উল্লেখযোগ্য। মধ্যযুগে এটি প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চতুর্দশ শতকের স্থাপত্য নিদর্শনের জন্য
শহরটি পরিচিত। যেমন পাণ্ডুয়া মিনার, যা গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ নির্মিত বিজয় স্তম্ভ। আদিনা মসজিদ কমপ্লেক্সের ধ্বংসাবশেষ এবং ইসলামি ও স্থানীয় শৈলীর মিশ্রণে নির্মিত অন্যান্য স্থাপত্য এই অঞ্চলকে হুগলি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ক্ষেত্র করে তুলেছে। পাণ্ডুয়া হুগলি-দামোদর অঞ্চলের সমতল পলিমাটির জমিতে অবস্থিত, যা গঙ্গা বদ্বীপের অংশ। নিচু জমি মৌসুমি বন্যাপ্রবণ হলেও কৃষির জন্য উর্বর। বেহুলা ও কুন্তি নদী এই ব্লকের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত। দামোদর ও হুগলি ব্যবস্থার সেচ খাল আছে।
ধান, আলু, পাট, সবজি ও তৈলবীজ প্রধান ফসল। পাশাপাশি মাছচাষ ও গ্রামীণ বাণিজ্যও রয়েছে। আধা-শহুরে এলাকা। বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও বাজারের ব্যবস্থা রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ রাজ্য ও জেলা সড়কের মাধ্যমে ভালো। হাওড়া-বর্ধমান মূল লাইনে পাণ্ডুয়া রেলস্টেশন রয়েছে, যেখান থেকে নিয়মিত লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন চলে। চুঁচুড়া প্রায় ২৪-২৭ কিলোমিটার দূরে, উলুবেড়িয়া ৫০ কিলোমিটার, তারকেশ্বর ৪০-৪৫ কিলোমিটার, আরামবাগ ৫০-৬০ কিলোমিটার, শ্রীরামপুর ৩৫-৪০ কিলোমিটার, ব্যান্ডেল ২০-২৫ কিলোমিটার, মগরা ১৫ কিলোমিটার এবং কলকাতা ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে।
এসআইআর-পরবর্তী খসড়া ভোটার তালিকা যদি প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, তবে তা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বাদ পড়া নামের সংখ্যা প্রায় ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ব্যবধানের সমান। তৃণমূলের মুসলিম ভোটবেসেও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট এখানে এখনও পুরোপুরি প্রান্তিক হয়নি। তাদের আংশিক পুনরুত্থানে তৃণমূলের ক্ষতি হতে পারে। বিজেপির লক্ষ্য তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি ভোটারদের আস্থা অর্জন করা। এঁরা এখানে সব মিলিয়ে ৪৭ শতাংশেরও বেশি।
২০২১ ও ২০২৪-এর ফলের ভিত্তিতে তৃণমূল হয় তো কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারত। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়া সেই নিশ্চয়তায় ভাঁটা ফেলেছে। ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে পাণ্ডুয়া কেন্দ্রে তৃণমূল, বিজেপি এবং বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের মধ্যে তীব্র ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভোটের ফলাফলে ঠিক কী উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার।
Partha sharma
BJP
Amjad hossain sk.
CPI(M)
Nota
NOTA
Paban mazumder
SUCI
Mina roy
BSP
Balai saren
APoI
Sk. nasiruddin
LJP
Saiyad rahim nabi
AITC
Ashok bhattacharya
BJP
Nota
NOTA
Sk amjad hossain
IND
Abdul goni sarkar
PDS
Lakshminarayan bauldas
BSP
Niranjan bag
CPI(ML)(L)