
হুগলি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল চাঁপদানি। কলকাতার উপশহর হিসেবেও পরিচিত এই শহরটি কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA) এলাকার অন্তর্ভুক্ত। ১৯১৭ সালে চাঁপদানি পৌরসভার মর্যাদা পায় এবং ১৯৬৭ সালে এটি বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এটি একটি সাধারণ আসন এবং শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা আসনের একটি। চাঁপদানি বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে চাঁপদানি ও বৈদ্যবাটি পৌরসভা এলাকা, শ্রীরামপুর পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং ২০ থেকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, পাশাপাশি শ্রীরামপুর–উত্তরপাড়া ব্লকের পেয়ারাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ও শেওড়াফুলি–বৈদ্যবাটি নগরাঞ্চল।
শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকনির্ভর শহর
হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত চাঁপদানি একসময...
হুগলি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল চাঁপদানি। কলকাতার উপশহর হিসেবেও পরিচিত এই শহরটি কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA) এলাকার অন্তর্ভুক্ত। ১৯১৭ সালে চাঁপদানি পৌরসভার মর্যাদা পায় এবং ১৯৬৭ সালে এটি বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এটি একটি সাধারণ আসন এবং শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা আসনের একটি। চাঁপদানি বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে চাঁপদানি ও বৈদ্যবাটি পৌরসভা এলাকা, শ্রীরামপুর পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং ২০ থেকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, পাশাপাশি শ্রীরামপুর–উত্তরপাড়া ব্লকের পেয়ারাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ও শেওড়াফুলি–বৈদ্যবাটি নগরাঞ্চল।
শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকনির্ভর শহর
হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত চাঁপদানি একসময় পাটশিল্পের বড় কেন্দ্র ছিল। ব্রিটিশ আমলে এখানে একাধিক পাটকল, টেক্সটাইল মিল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা গড়ে ওঠে। এসব শিল্পে কাজের টানে বিহার, ওড়িশা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে বহু শ্রমিক এখানে এসে বসবাস শুরু করেন। ফলে শহরটি এক বিশেষ শ্রমিকশ্রেণিভিত্তিক এবং বহুসাংস্কৃতিক চরিত্র লাভ করে। যদিও সাম্প্রতিক দশকে বহু মিল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং শ্রমিক অস্থিরতার কারণে শিল্পের গুরুত্ব কিছুটা কমেছে।
নির্বাচনী ইতিহাস
১৯৬৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চাঁপদানি মোট ১৪টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে। এর মধ্যে সিপিআই(এম) ৬ বার জিতে সবচেয়ে সফল দল। কংগ্রেস পাঁচবার, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি একবার এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুবার জয় পেয়েছে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের মুজাফফর খান ৩৬,৩১৩ ভোটে সিপিআই(এম) প্রার্থী জীবেশ চক্রবর্তীকে হারিয়ে এই কেন্দ্রে দলের প্রথম জয় এনে দেন। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান তৃণমূল প্রার্থী মুজাফফর খানকে ৭,২৮২ ভোটে পরাজিত করে আসনটি দখল করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আবারও তৃণমূল কংগ্রেস আসনটি পুনরুদ্ধার করে। দলের প্রার্থী অরিন্দম গুইন বিজেপির দিলীপ সিংকে ৩০,০৭৮ ভোটে হারান। সেই নির্বাচনে তৃণমূল পায় ৫০.২০ শতাংশ ভোট, বিজেপি ৩৫.২৫ শতাংশ এবং কংগ্রেস-বামফ্রন্টের যৌথ প্রার্থী আব্দুল মান্নান পান ১১.৫৭ শতাংশ ভোট।
লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের এগিয়ে থাকা
বিধানসভায় ওঠানামা থাকলেও ২০০৯ সাল থেকে লোকসভা নির্বাচনে চাঁপদানি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে রয়েছে। তবে গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপি ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। ২০১৪ সালে তৃণমূলের লিড ছিল ২,৪৩৩ ভোট, ২০১৯ সালে ১,৮৫৯ ভোট এবং ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮,৫৯১ ভোট।
ভোটার ও জনসংখ্যার চিত্র
২০২৪ সালের হিসাবে চাঁপদানিতে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৬৩,৪৯৮। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৬৩,৩৭২। শিল্প বন্ধ হওয়ার পর কিছু উল্টো অভিবাসনের কারণে ভোটারের সংখ্যায় সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটার প্রায় ১৪.৪০ শতাংশ, তফসিলি জাতি ১২.৩৬ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ২.৮৯ শতাংশ। কেন্দ্রটি প্রায় সম্পূর্ণ শহুরে-৯৭.১১ শতাংশ ভোটার শহরাঞ্চলের এবং মাত্র ২.৮৯ শতাংশ গ্রামীণ। ভোটদানের হারও এখানে বেশ স্থিতিশীল। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৭৭.২৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৭৬.৮৯ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৬.৬৮ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৭৬.৩৬ শতাংশ।
যোগাযোগ ও ভৌগোলিক অবস্থান
চাঁপদানি হুগলি নদীর তীরবর্তী সমতল পলিমাটি অঞ্চলে অবস্থিত। কাছেই বৈদ্যবাটি রেলস্টেশন, যা হাওড়া-বর্ধমান মেইন লাইনের অংশ। এখান থেকে কলকাতা শহরতলি রেলপথে ৫ থেকে ১০ মিনিট অন্তর ট্রেন চলাচল করে, ফলে কলকাতা এবং আশপাশের শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ। চাঁপদানি কলকাতা থেকে প্রায় ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরে, হুগলি-চুঁচুড়া জেলা সদর থেকে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে এবং শ্রীরামপুর ও বৈদ্যবাটি থেকে প্রায় ৫-১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
২০২৬ নির্বাচনের সম্ভাব্য সমীকরণ
গত ৭টি বড় নির্বাচনের মধ্যে ছয়টিতেই তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকায় এই কেন্দ্রে ইতিহাস এখনো শাসক দলের পক্ষে। তবে বিজেপি গত কয়েক বছরে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে এবং ভোটের ব্যবধান কমিয়ে এনেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোটের ভোটও বাড়ছে। ২০২১ সালে তাদের ভোটের ভাগ ছিল ১১.৫৮ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ১৯.৪৩ শতাংশ। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চাঁপদানি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোটের মধ্যে একটি ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সামান্য ভোটের ওঠানামাই এই শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক আসনের ফল নির্ধারণ করতে পারে।
Dilip singh
BJP
Abdul mannan
INC
Nota
NOTA
Arabind kumar rabidas
IND
Mangal sarkar
BAHUMP
Dilip das
IND
Ajay yadav
IND
Muzaffar khan
AITC
Raj kumari shaw
BJP
Nota
NOTA
Sima chowdhuri
SUCI