
সিঙ্গুর। নামটি শুনলেই অনেক কিছু একসঙ্গে ভিড় করে মাথায়। ২০১১ সালের পরিবর্তনের অন্যতম পটভূমি। একলাখি গাড়ি ন্যানো। রতন টাটা। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৬ দিনের অনশন। তাপসী মালিক। জমিরক্ষার আন্দোলন। ২০১১ সাল তো বটেই, তারপরেও যতবার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে রাজ্যে, অর্থাত্ ২০১৬ ও ২০২১, দু বারই সিঙ্গুর উঠে এসেছে রাজ্য রাজনীতিতে। এমনকী লোকসভা ভোটেও। টাটা বিদায়ের পরে সিঙ্গুরে শিল্প হবে কিনা, সেই প্রশ্নটা রয়েই যায় প্রতি নির্বাচনেই। বিজেপি দাবি করেছে, ক্ষমতায় এলে তারা সিঙ্গুরে শিল্প ফিরিয়ে আনবে। এক সময় এই সিঙ্গুরের জমিতেই সর্ষে বীজ ছড়িয়ে চাষিদের উৎসাহ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সলের ২০ অক্টোবরের ঘটনা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির...
সিঙ্গুর। নামটি শুনলেই অনেক কিছু একসঙ্গে ভিড় করে মাথায়। ২০১১ সালের পরিবর্তনের অন্যতম পটভূমি। একলাখি গাড়ি ন্যানো। রতন টাটা। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৬ দিনের অনশন। তাপসী মালিক। জমিরক্ষার আন্দোলন। ২০১১ সাল তো বটেই, তারপরেও যতবার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে রাজ্যে, অর্থাত্ ২০১৬ ও ২০২১, দু বারই সিঙ্গুর উঠে এসেছে রাজ্য রাজনীতিতে। এমনকী লোকসভা ভোটেও। টাটা বিদায়ের পরে সিঙ্গুরে শিল্প হবে কিনা, সেই প্রশ্নটা রয়েই যায় প্রতি নির্বাচনেই। বিজেপি দাবি করেছে, ক্ষমতায় এলে তারা সিঙ্গুরে শিল্প ফিরিয়ে আনবে। এক সময় এই সিঙ্গুরের জমিতেই সর্ষে বীজ ছড়িয়ে চাষিদের উৎসাহ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সলের ২০ অক্টোবরের ঘটনা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সিঙ্গুর বিধানসভা কেন্দ্রটি বিশেষ নজরে। ২০০৬ সালে তত্কালীন বাম সরকার হুগলির সিঙ্গুরে ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণের পথে হেঁটেছিল। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সেই স্লোগান, 'কৃষি আমাদের ভিত্তি। শিল্প আমাদের ভবিষ্যত্।' সেই মতো কাজও শুরু হয়ে যায়। টাটা গোষ্ঠীর প্রয়াত চেয়ারম্যান রতন টাটা ঘোষণা করে দেন, দেশের প্রথম ১ লাখ টাকার ৪ চাকা গাড়ি তৈরি হবে সিঙ্গুরে। নাম তার ন্যানো। তারপরের ঘটনাপ্রবাহ শুধুই আন্দোলন ও দোলাচল। শেষ পর্যন্ত ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরি করা হলেও, রতন টাটা সিঙ্গুর ত্যাগ করতে বাধ্য হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের জেরে। বস্তুত, ২০০১ সাল থেকে সিঙ্গুর কেন্দ্রটি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিরাশ করেনি। যদিও তখন কম ব্যবধানে জিতত তৃণমূল। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সিঙ্গুর বিধানসভা কেন্দ্র। সিঙ্গুর ব্লকের ১৩টি গ্রামপঞ্চায়েত, চণ্ডীতলা ২ ব্লকরে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিঙ্গুর এখনও পর্যন্ত ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে। এই দীর্ঘ সময়ে সিপিএম পাঁচবার, বামফ্রন্টের আরেক শরিক সিপিআই তিনবার এবং কংগ্রেস চারবার এই আসন দখল করেছে। কিন্তু ২০০১ সালের পর থেকেই সিঙ্গুরে তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট। টানা পাঁচবার এই কেন্দ্র জিতেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সিঙ্গুর আন্দোলনেই পাল্টে গিয়েছিল ছবিটা সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রভাব যে কত গভীর ছিল, তা ভোটের রেজাল্টই বলে দেয়। তৃণমূল কংগ্রেসের রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (সিঙ্গুরে মাস্টারমশাই নামে পরিচিত) ২০০১ এবং ২০০৬ সালে খুব অল্প ব্যবধানে, ৪ হাজার ৭৭০ ও ১,৭৮৭ ভোটে জিতেছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে আন্দোলনের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তাঁর জয়ের ব্যবধান বেড়ে এক লাফে দাঁড়ায় ৩৪,৮১১। ২০১৬ সালে তা কমে ২০,৩২৭ হলেও তৃণমূলের দাপট অটুট। ২০২১ সালে রবীন্দ্রনাথকে টিকিট দেননি মমতা। বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। কিন্তু সিঙ্গুরের ভোটাররা যে ব্যক্তির প্রতি নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি বেশি আস্থা রাখেন, তা পরিষ্কার হয় রেজাল্টে। বেচারাম মান্নার কাছে তিনি ২৫,৯২৩ ভোটে পরাজিত হন। তাঁর উপস্থিতিতে শুধু এটুকুই হয়, বিজেপি সিপিএমকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে ওঠে সিঙ্গুরে। যেখানে অতীতে সিঙ্গুরে বিজেপির কোনও জমিই ছিল না। লোকসভায় ওঠানামা, কিন্তু তৃণমূলই এগিয়ে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে সিঙ্গুরে বিজেপি এগিয়ে ছিল ১০,৪২৯ ভোটে। কিন্তু ২০২৪ সালে আবার পাল্টে যায় চিত্র, তৃণমূল ১৮,৮২৬ ভোটে লিড নিয়ে নেয়। ভোটার সংখ্যা ও জনসংখ্যা ২০২৪ সালে লোকসভায় সিঙ্গুরে মোট ভোটার ছিলেন ২,৫১,৫৮৫ জন। ২০২১ এ ছিল ২,৪৬,৮৬৭, আর ২০১৯ এর লোকসভায় ২,৪১,১১২জন। ২০২১ সালে ভোটারদের মধ্যে, তফসিলি জাতি: ১৫.৪৯%,তফসিলি জনজাতি: ১.৬৭%, মুসলিম ভোটার: ১১.৫০%। এলাকাটি মূলত গ্রামীণ। মোট ভোটারের মাত্র ৩৪.৮৩% শহর এলাকার বাসিন্দা। ভোটদানের হার সবসময়ই বেশি সিঙ্গুরে ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। প্রচুর মানুষ ভোট দেন। ২০২৪: ৮৩.৬৪% ২০২১: ৮৫.১৫% ২০১৯: ৮৩.১৪% ২০১৬: ৮৪.৬৪% ভূগোল, চাষাবাদ ও অর্থনীতি হুগলি নদীর পলিমাটির সমতলে থাকা সিঙ্গুর অত্যন্ত উর্বর। দামোদর ও সরস্বতী নদীর জলসেচ চাষের বড় ভরসা। ধান, শাকসবজি, ফুল, সব মিলিয়ে এখানে কৃষিই প্রধান ভিত্তি। এ ছাড়া ছোট ছোট শিল্প, রাইস মিল আর কোল্ড স্টোরেজও রয়েছে একাধিক। রাস্তাঘাটের যোগাযোগ ভাল। কলকাতা আর হাওড়ার সঙ্গে সংযোগ খুবই মসৃণ। বিদ্যুৎ পরিষেবা ভাল, মোবাইল নেটওয়ার্ক দ্রুত বেড়েছে। বেশিরভাগ এলাকায় টিউবওয়েল থেকে জল পাওয়া যায়, কিছু জায়গায় পাইপলাইনের জলও রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা মূলত গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সাব ডিভিশনাল হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। সিঙ্গুরের অবস্থান হুগলি-চুঁচুড়ার পশ্চিমে মাত্র ২১ কিমি দূরে সিঙ্গুর অবস্থিত। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ৩০ কিমি। আশপাশে চন্দননগর ১৬.৫ কিমি, রিষড়া ১৬ কিমি, কোন্ননগর ১৭ কিমি, শ্রীরামপুর ১৩ কিমি। উত্তরে পাণ্ডুয়া ৩১ কিমি দূরে, পশ্চিমে তারকেশ্বর ২৩ কিমি। সিঙ্গুরের সীমানা হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার সঙ্গে যুক্ত। টানা পাঁচবারের জয়ে তৃণমূলের যে জমি আরও শক্ত হয়েছে, তা পরিষ্কার। বিজেপি ভোটের হিসেবে এখনও অনেকটাই পিছনে, আর সিপিএম অতীতের ছায়া, সাম্প্রতিক ভোটে ১০% থেকেও কম ভোট পেয়েছে। ফলে ২০২৬-এর লড়াইয়ে সিঙ্গুরে তৃণমূলকে হারাতে হলে চাই নতুন কোনও শক্তিশালী আবেগ বা আন্দোলন। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এখনও আছে এই কেন্দ্রে। কিন্তু শিল্প কি হবে? প্রশ্নটা ২০২৬ সালের ভোটেও থেকেই যাচ্ছে।
Rabindranath bhattacharya
BJP
Srijan bhattacharyya
CPI(M)
Nota
NOTA
Shankar jana
SUCI
Rabin deb
CPM
Patra souren
BJP
Nota
NOTA
Dwijaprosad bhattacharya
IND
Uma das(paul)
FDLP
Shankar jana
SUCI