
সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার অবস্থিত এবং হাওড়া লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। সীমানা নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশের ফলে ২০১১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রটি তৈরি হয়। সপ্তগ্রাম তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। এই বিধানসভা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা তিনবার জয় পেয়েছে তৃণমূল। এই নির্বাচনী এলাকাটিতে বাঁশবেড়িয়া পৌরসভা, পোলবা দাদপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং চুঁচুড়া মোগরা ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এই আসনটিতে এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনেই তপন দাশগুপ্ত জয়ী হয়েছেন। ২০১১ সালে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাশগুপ্ত সিপিআই(এম) এর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে ৩০,৮৬৮ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৬ সা...
সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার অবস্থিত এবং হাওড়া লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। সীমানা নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশের ফলে ২০১১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রটি তৈরি হয়। সপ্তগ্রাম তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। এই বিধানসভা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা তিনবার জয় পেয়েছে তৃণমূল। এই নির্বাচনী এলাকাটিতে বাঁশবেড়িয়া পৌরসভা, পোলবা দাদপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং চুঁচুড়া মোগরা ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এই আসনটিতে এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনেই তপন দাশগুপ্ত জয়ী হয়েছেন। ২০১১ সালে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাশগুপ্ত সিপিআই(এম) এর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে ৩০,৮৬৮ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে কংগ্রেস দলের দিলীপ নাথকে ১৮,৫৬৭ ভোটে পরাজিত করেন তৃণমূল প্রার্থী। ২০২১ সালে তপন দাশগুপ্ত বিজেপির দেবব্রত বিশ্বাসকে ৯,৭৭২ ভোটে পরাজিত করেন। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সপ্তগ্রাম ধরে রেখেছে, তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় যে প্রতিটি নির্বাচনে তাদের জয়ের ব্যবধান হ্রাস পাচ্ছে। এদিকে, বিজেপি ধারাবাহিকভাবে উন্নতি দেখিয়েছে। ২০১১ সালে তাদের ভোটের ভাগ মাত্র ২.২০ শতাংশ ছিল, যা ২০১৬ সালে বেড়ে ৯.১৫ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ২০২১ সালে ৪৩.৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ে মাত্র ৫.০৮ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। সংসদীয় ভোটেও বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাব দেখা যাচ্ছে এই লোকসভা কেন্দ্রে। সপ্তগ্রাম আসনে, বিজেপি কেবল তৃণমূল কংগ্রেসকে ছাড়িয়ে যায়নি বরং ২০১৯ সালে ২১,৫৮৫ ভোট বা ১১.৮০ শতাংশে এগিয়ে ছিল, যদিও ২০২৪ সালে তাদের লিড ২,৪৯২ ভোট বা ১.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালে সপ্তগ্রাম আসনে ২৩৮,১৪৬ জন রোজিস্ট্রেড ভোটার ছিলেন, এই সংখ্যাটা ২০২১ সালে ছিল ২৩৪,৮৪০ জন এবং ২০১৯ সালে ২২৫,২৭০ জন। তফসিলি জাতির ভোটার ৩০.৫০ শতাংশ, তফসিলি উপজাতির ভোটার প্রায় ৪.২৯ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ১৭.৫০ শতাংশ। গ্রামীণ ও শহুরে বাসিন্দাদের মধ্যে ভোটারদের প্রায় সমানভাবে ভাগ করা হয়েছে, ৪৮.৯৪ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে এবং ৫১.০৬ শতাংশ শহরে বাস করেন। নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার ৮৩.৯৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮২.২৭ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনে ২০১৯ সালে ভোটদানের হার ছিল ৮১.৯৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮০.৪৫ শতাংশ। নির্বাচনী ইতিহাস সংক্ষিপ্ত হলেও সপ্তগ্রামের আকর্ষণীয় অতীত রয়েছে। সপ্তগ্রাম নামটির অর্থ 'সাতটি গ্রাম', এবং অতীতে এই অঞ্চলটি দক্ষিণবঙ্গের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল। মধ্যযুগে সরস্বতী নদীর তীরে একসময় সমৃদ্ধ নদী বন্দর এবং বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল সপ্তগ্রাম। প্রাচীন তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, জল এবং স্থলপথে বাংলাকে অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্তকারী একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এর অবস্থানের কথা। সরস্বতী নদীর নাব্যতা হ্রাসের ফলে এর অর্থনৈতিক তাৎপর্য হ্রাস পেয়েছে, তবে সমৃদ্ধ বাণিজ্য ঐতিহ্যের চিহ্ন এখনও এর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পাওয়া যায়। সপ্তগ্রামের ভূখণ্ড সমতল,জলাশয় এবং নদী দ্বারা বেষ্টিত, যা নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমির বৈশিষ্ট্য। এই অঞ্চলটি সরস্বতী নদীর পুরন প্রবাহের কাছে অবস্থিত। উর্বর মাটি কৃষিকাজকে সমর্থন করে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারগুলি ফসলের বাণিজ্য এবং ক্ষুদ্র শিল্পের উপর নির্ভর করে। সপ্তগ্রামের পরিকাঠামোতে পাকা রাস্তা এবং রেল যোগাযোগ, জনস্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্কুল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পৌর অঞ্চল এবং বেশিরভাগ পঞ্চায়েত জুড়ে জলের সুব্যবস্থা রয়েছে। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে চুঁচুড়া এবং জেলা সদর দফতর হুগলি, যা সপ্তগ্রাম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। হাওড়া শহর প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে, অন্যদিকে রাজ্যের রাজধানী কলকাতা ৪০ কিলোমিটার দূরে। সংলগ্ন জেলাগুলিতে, শ্রীরামপুর ১৮ কিলোমিটার দূরে এবং চন্দননগর প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে। সড়ক ও রেল নেটওয়ার্ক দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত প্রধান শহরের সঙ্গে এর যোগাযোগ স্থাপন করেছে। সপ্তগ্রামের ভোটাররা এবার কাকে বেছে নেবেন? বলা যেতে পারে এখানকার মানুষ ক্ষমতায় থাকা দলকে পছন্দ করেন, তাই রাজ্যে নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস এবং জাতীয় নির্বাচনের সময় বিজেপিকে বেছে নেন। এছাড়া দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জয়ের ব্যবধান অনেক কমেছে, যার ফলে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। সপ্তগ্রামে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট নির্বাচনে তেমন কিছু করতে পারবে বলে মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা।
Debabrata biswas
BJP
Pabitra deb
INC
Nota
NOTA
Subir roy
IND
Milan das
IND
Bishnu chowdhuri
IND
Ajoy das
IND
Paritosh karmakar
IND
Dilip nath
INC
Susanta sengupta
BJP
Nota
NOTA
Sajal adhikari
CPI(ML)(L)
Kashinath murmu
JMM