
হুগলি জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধানসভা কেন্দ্র উত্তরপাড়া। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নগর। হাওড়া ও হুগলি জেলার সীমানায়। উত্তরপাড়াতেই শেষ হয় হুগলি জেলা। বালি থেকে শুরু হয়ে যায় হাওড়া। সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের আমলে প্রবাদ ছিল, 'গঙ্গার পশ্চিমকূল, বারাণসী সমতুল, তার মধ্যে উত্তম উত্তরপাড়া গ্রাম।' কুলকুল করে বয়ে চলেছে হুগলি নদী।
উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হয়েছিল ১৯৫১ সালে। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ঠিক ওপারেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির। উত্তরপাড়া কলকাতার শহরতলির মধ্যে অন্যতম। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রথম পুরসভা হল উত্তরপাড়া পুরসভা। ১৮৫৩ সালে যখন উত্তরপাড়া পুরসভা তৈরি হয়, তখন গোটা বাংলায় পুরসভা বলে কিছু ছিল না। উত্তরপাড়ার জ...
হুগলি জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধানসভা কেন্দ্র উত্তরপাড়া। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নগর। হাওড়া ও হুগলি জেলার সীমানায়। উত্তরপাড়াতেই শেষ হয় হুগলি জেলা। বালি থেকে শুরু হয়ে যায় হাওড়া। সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের আমলে প্রবাদ ছিল, 'গঙ্গার পশ্চিমকূল, বারাণসী সমতুল, তার মধ্যে উত্তম উত্তরপাড়া গ্রাম।' কুলকুল করে বয়ে চলেছে হুগলি নদী।
উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হয়েছিল ১৯৫১ সালে। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ঠিক ওপারেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির। উত্তরপাড়া কলকাতার শহরতলির মধ্যে অন্যতম। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রথম পুরসভা হল উত্তরপাড়া পুরসভা। ১৮৫৩ সালে যখন উত্তরপাড়া পুরসভা তৈরি হয়, তখন গোটা বাংলায় পুরসভা বলে কিছু ছিল না। উত্তরপাড়ার জয়কৃষ্ণ লাইব্রেরি শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, গোটা দেশের কাছে একটি বিরাট সম্পদ।
উত্তরপাড়া কোতরং পুরসভা, কোন্নগর পুরসভা ও তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত নবগ্রাম, কানাইপুর ও রঘুনাথপুর নিয়ে গঠিত উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র। আপাদমস্তক শহুরে আসন হলেও, তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত থাকায়, গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কও রয়েছে। এই কেন্দ্রে মাত্র ০.৩১ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার। ৯৯.৬৯ শতাংশ শহুরে ভোটার। ২০২১ সালে উত্তরপাড়ায় মোট ভোটার ছিল ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮১৪ জন। ২০১৯ সালে ছিল ২ লক্ষ ৪৯ হাজার হাজার ৫৫ ও ২০১৬ সালে ছিল ২ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬৫ জন। শহুরে কেন্দ্র হলেও, ভোটদানের হার বেশি থাকে। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে ভোটদানের হার ছিল ৭৮.১৪ শতাংশ। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ৭৭.০৮ শতাংশ ও ২০২১ সালে ৭৬.৯৪ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন।
স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১৮টি ভোট দেখেছে উত্তরপাড়া বিধানসভা। এর মধ্যে ২০০৩ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। অধ্যাপক স্বরাজ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ফলে। ১৯৫১, ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালে এই কেন্দ্রে সিপিএম জিতেছিল। টানা ৯টি ভোটেই এই কেন্দ্র বামেদের দখলে ছিল। ২০০০ সাল থেকে উত্তরপাড়ায় বামেদের শক্ত লড়াইয়ের মুখে ফেলতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস। যার নির্যাস, ২০০১ সালে স্বরাজ মুখোপাধ্যায় মাত্র ১ হাজার ৭৬৮টি ভোটে জেতেন। তাঁর প্রয়াণের পরে ২০০৩ সালের উপনির্বাচনে ফের সিপিএম-এর প্রত্যাবর্তন। ২০০৬ সালে এই কেন্দ্রে শেষবার জিতেছিল সিপিএম। যদিও মার্জিন ছিল মাত্র ৮৮৫টি ভোট। সব মিলিয়ে ১৪ বার জয়ী।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে যখন তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এল, সেই বছর তৃণমূল প্রার্থী প্রয়াত গায়ক অনুপ ঘোষাল বিরাট মার্জিনে জিতে যান উত্তরপাড়ায়। বামপ্রার্থী শ্রুতিনাথ প্রহরাজকে ৪৩ হাজার ১৯৩ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে ফের হেরে যান শ্রুতিনাথ প্রহরাজ। সে বছর তৃণমূল প্রার্থী প্রবীর ঘোষাল ১২ হাজার ভোটের মার্জিনে জয়লাভ করেন। ২০২১ সালে প্রবীর ঘোষাল বিজেপি-তে চলে যান। বিজেপির টিকিটে ওই কেন্দ্রেই প্রার্থী হন। তৃণমূল প্রার্থী কাঞ্চন মল্লিক তাঁকে ৩৫ হাজার ৯৮৯ ভোটে হারিয়ে দেন। তাত্পর্যপূর্ণ হল, উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী বাছাইয়ে বরাবরই চমক দেখা যায়। অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের টিকিট দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবারই প্রার্থী বদল হয়ে যায়। একই প্রার্থীকে পরের ভোটে আর টিকিট দেওয়া হয় না।
লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়ায় বিজেপি আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী পারফর্ম্যান্স দেখিয়েছে। এই আসনে তারা টানা দ্বিতীয় স্থানেই শেষ করেছে। তৃণমূলের লিড ২০১৪ সালে যেখানে ছিল ১৬,২৩১ ভোট, ২০১৯ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩,৪৯১-এ। ২০২৪ সালে লিড কিছুটা বাড়লেও তা ৯,০৪০-এ সীমাবদ্ধ।
উত্তরপাড়ার ভৌগোলিক চরিত্র সমতল ও উর্বর
হুগলি নদীর তীরবর্তী হওয়ায় উত্তরপাড়ার জমি উর্বর ও সমতল। জায়গাটির এক সমৃদ্ধ শিল্প ইতিহাস আছে। বিশেষত হিন্দুস্তান মোটরসের জন্যই এলাকা একসময় জাতীয়ভাবে পরিচিত ছিল। অ্যাম্বাসাডর গাড়ি এখানেই তৈরি হতো, যতদিন না ২০১৪ সালে কারখানাটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই জমি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। হিরানন্দানি গ্রুপ এখানে একটি প্রস্তাবিত আইটি পার্ক তৈরি করার আগ্রহ দেখিয়েছে, যার জেরে, উত্তরপাড়ার অর্থনীতি এখন ধীরে ধীরে ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে পরিষেবা খাতে সরে যাওয়ার পথে হাঁটছে।
যোগাযোগই উত্তরপাড়ার সবচেয়ে বড় শক্তি। কলকাতা এখান থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে। রেল ও সড়ক, দু’দিকেই চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। উত্তরপাড়া রেলস্টেশন হাওড়া–বর্ধমান মেন লাইনের অন্তর্গত। নিয়মিত বাস ও লোকাল ট্রেনে যাতায়াত খুবই সহজ। জেলা সদর শ্রীরামপুর এখান থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরে। আশেপাশে কোন্নগর (৪ কিমি), রিষড়া (৬ কিমি) এবং বৈদ্যবাটি (৭ কিমি) দূরে। বালি খাল পার হলেই হাওড়া জেলা। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর এখান থেকে প্রায় ১২ কিমি দূরত্বে।
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট সামনে রেখে কাগজে-কলমে তৃণমূল কংগ্রেস শক্ত অবস্থানেই আছে,টানা তিনবারের জয়ের ধারাবাহিকতা এবং লোকসভা ভোটে স্থির লিড তাদের হাতে রয়েছে। কিন্তু বিজেপি এখানে ক্রমাগত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তাদের উত্থান আর ফুটনোট নয়, এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ছবিটা উল্টে দেওয়ার মতো অবস্থানে রয়েছে। তৃণমূলও তা জানে, বিজেপিও জানে।
এই লড়াইয়ের মাঝেই সিপিএম রয়েছে কোনও রকমে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে। ২০২১ সালের বিধানসভা ফলাফল ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাদের পারফর্ম্যান্স ছিল মোটেই নিছক প্রতীকী নয়। বরং মনে করিয়ে দিয়েছে,উত্তরপাড়ায় বামপন্থীরা হয়তো দুর্বল, কিন্তু একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তারা যদি আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়, তবে সব হিসেবই কিন্তু বদলে যেতে পারে।
Prabir kumar ghosal
BJP
Rajat banerjee (bappa)
CPI(M)
Nota
NOTA
Sourav roy
CPI(ML)(L)
Ranjan mukherjee
IND
Prof. dr.srutinath praharaj
CPM
Krishna bhattacharjee
BJP
Nota
NOTA
Swapan majumdar
CPI(ML)(L)
Suvendu biswas
IND