
West Bengal Elections 2026: প্রথম দফাতেই নজিরবিহীন ভোটদানের হার। বিশেষত মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিতে রেকর্ড ভোট পড়েছে। আর এই নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। মুর্শিদাবাদ, মালদা-সহ একাধিক জেলায় ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। এর ফলে নির্বাচনের সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টি আসনে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এই আসনগুলি মূলত মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও বীরভূম জেলায়। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসনগুলির মধ্যে ৪৯টিতেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ৫টি আসন।
এবারের ভোটে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটের পার্সেন্টেজ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে ভোটের হার ৭৬.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৬.৯ শতাংশ হয়েছে। একই জেলার জঙ্গিপুরে ৭৭.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৫.৭ শতাংশ। উত্তর দিনাজপুরের গোলপোখরে ৭১.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯১.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। এছাড়া সাগরদিঘি ও সামশেরগঞ্জেও ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
মালদাতেও একই ছবি। চাঁচল, রতুয়া, মালতিপুর ও হবিবপুরের মতো কেন্দ্রে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত ভোট বৃদ্ধি হয়েছে। ইংলিশবাজার, গাজোল ও মানিকচকেও ডবল ডিজিটে ভোটের হার বেড়েছে। বীরভূমের মুরারাই ও রামপুরহাটেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, তবুও রেকর্ড ভোট
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। মুর্শিদাবাদে প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার এবং মালদায় প্রায় ২ লক্ষ ৩৯ হাজার নাম বাদ যায়। তা সত্ত্বেও এই জেলাগুলিতে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
রাজনৈতিক বার্তা?
এই রেকর্ড ভোটের হার নিয়ে নানা ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাবি, এই ভোটের হার আদতে 'সরকার বদলের ইঙ্গিত'। তাঁর মতে, মানুষ তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই বিপুল ভোটের হারে এটাই প্রমাণ হয় যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সমর্থনে মানুষ এগিয়ে এসেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর যোগ কতটা মজবুত সেটাও প্রমাণ হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, SIR-এরও প্রভাব রয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের ভয়েও অনেক মানুষ ভোটের দিন সকাল সকাল বুথে ছুটেছেন।
অন্য দলের অবস্থান
এই আসনগুলির কিছুতে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টও লড়াইয়ে রয়েছে। যদিও নওশাদ সিদ্দিকির দল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাইরে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে রেকর্ড ভোট পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই প্রবণতা রাজনৈতিক দলগুলির স্ট্র্যাটেজিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।