
এক সময় বাম ও কংগ্রেস গড় ইংরেজ বাজারে এখন গেরুয়া ঝড়। আর সেটাই চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের ক্ষেত্রে। তারা কি পারবে এখানে ঘাসফুল ফোটাতে? সেই উত্তর জানতে ২০২৬-এর রেজাল্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। আসলে ইংরেজ বাজার মালদা জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির সিট। এই কেন্দ্রটি ১৯৫৭ সালে তৈরি হয়। এটি মালদা দক্ষিণ লোকসভার ৭টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ ইংরেজ বাজার পৌরসভা। পাশাপাশি রয়েছে ইংরেজ বাজার কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত, জাদপুর ২ ব্লক এবং জাদপুর ১ ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত। রাজ্যের অন্যতম পুরনো মিউনিসিপ্যালিটি হল ইংরেজ বাজার। এই শহরকেই উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলে ডাকা হয়। সেই সঙ্গে এই এলাকাটি আমের জন্যও বিখ্যাত। ইংর...
এক সময় বাম ও কংগ্রেস গড় ইংরেজ বাজারে এখন গেরুয়া ঝড়। আর সেটাই চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের ক্ষেত্রে। তারা কি পারবে এখানে ঘাসফুল ফোটাতে? সেই উত্তর জানতে ২০২৬-এর রেজাল্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। আসলে ইংরেজ বাজার মালদা জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির সিট। এই কেন্দ্রটি ১৯৫৭ সালে তৈরি হয়। এটি মালদা দক্ষিণ লোকসভার ৭টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ ইংরেজ বাজার পৌরসভা। পাশাপাশি রয়েছে ইংরেজ বাজার কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত, জাদপুর ২ ব্লক এবং জাদপুর ১ ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত। রাজ্যের অন্যতম পুরনো মিউনিসিপ্যালিটি হল ইংরেজ বাজার। এই শহরকেই উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলে ডাকা হয়। সেই সঙ্গে এই এলাকাটি আমের জন্যও বিখ্যাত। ইংরেজ বাজারের বিরাট ইতিহাস রয়েছে। এক সময় এই জায়গাটা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটি বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করত। ইংরেজ বাজার মহানন্দা নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল। এই জায়গা দিয়েই বিহারের এবং বর্তমান বাংলাদেশের একটা অংশের সঙ্গে বাণিজ্য চলত। ব্রিটিশ আমলে ইংরেজবাজার পৌরসভা তৈরি হয়। তার আগে এলাকাটি একসময় ঐতিহাসিক শহর গৌড়ের অংশ ছিল। এই জায়গাটি বেশ কয়েকটি বাঙালি রাজবংশের রাজধানী ছিল। এই শহরটি তার সাপ্তাহিক বাজার, সমৃদ্ধ আমের বাগানের পরিচিত। পাশাপাশি পান্ডুয়া এবং গৌরের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলির এর কাছেই অবস্থিত। এখনও পর্যন্ত ১৭টি নির্বাচন দেখেছে ইংরেজ বাজার। ২০১৩ সালে এখানে একটা উপ-নির্বাচনও হয়। এক সময় কংগ্রেস পার্টি এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল এই কেন্দ্রটি। কংগ্রেস এখানে ৬ বার জিতেছে। আবার সিপিআই ১৯৬৯ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত টানা সাতবার জিতেছে। এছাড়া সিপিআই(এম), তৃণমূল কংগ্রেস, ইন্ডিপেন্ডেন্টএবং বিজেপিও একবার করে এই আসনে জিতেছে। মাথায় রাখতে হবে, শেষ কিছু বছরে এখানে কোনও একটি পার্টি নিজের দাপট দেখাতে পারেনি। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি ২০২৬ এবং ২০১১ সালে কংগ্রেসের হয়ে এই সিটটা জিতেছিলেন। তবে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেওয়ার পর সেখানে ২০১৩ সালে একটি উপনির্বাচন হয়। সেই ভোটেও জেতেন তিনি। সিপিআইএম-এর সমরেন্দ্র রায়কে তিনি ২১,৮২৯ ভোটে হারিয়ে দেন। তবে এই সিটে ২০১৬ হারের মুখও দেখেন কৃষ্ণেন্দু। তাঁকে হারিয়ে দেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রার্থী নিহার রঞ্চন ঘোষ। ভোটের ব্যবধান ছিল ৩৯,৭২৭। আবার ২০২১ সালে এই কেন্দ্রটি দখল করে নেয় বিজেপি। ২০০৯৯ ভোটে জেতেন শ্রীরূপা চৌধুরী। এই সিটে বিজেপির উত্থান শুরু হয়ে গিয়েছে ২০১৯ সাল থেকেই। সেই ভোটে এই কেন্দ্রে ৯৪৩৮২ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। তবে লিডটা কমে যায় ২০২৪ সালে। ৮২,৮৭২ ভোটে নেমে আসে লিড। তবে তারপরও তারা অনেক ভোটেই তৃণমূলের থেকে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালে ইংরেজ বাজারে এখানে ভোটারদের সংখ্যা ২৮৭৮৭১। ২০২১ সালে ছিল ২৭৫,২৯৬ এবং ২০১৯ সালে ২৬০,৬১৭। এখানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ২৩ শতাংশ। তফসিলি জাতির ভোটার সংখ্যা ১৫.৬০ শতাংশ। এখানে শহুরে ভোটাররের সংখ্যাই বেশি। ৬০.৫৬ শতাংশ। গ্রামীণ ভোটার ৩৯.৪৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ৮৪.১০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে সর্বনিম্ন ৭৮.৩৪ শতাংশে ভোটার ভোট দিয়েছেন। ইংরেজ বাজার উত্তরবঙ্গের সমভূমিতে অবস্থিত। এখানকার মাটি উর্বর। এখান থেকে মহানন্দা নদী বয়ে গিয়েছে। এই নদীই কৃষিকাজে করে সহয়তা। ইংলিশ বাজার উত্তরবঙ্গের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ এবং সড়ক পথের জংশন হিসেবে কাজ করে। এখানকার স্থানীয় অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। বিশেষ করে আম ও লিচু চাষে বিখ্যাত। এছাড়া চালের মিল এবং খুচরো ব্যবসাও রয়েছে এখানে। এই এলাকায় বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, কলেজ এবং সরকারী অফিস রয়েছে। পৌরসভা এলাকা হওয়ায় এখানে রাস্তাও ঠিকঠাক। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জলের সমস্যাও নেই। তবে বর্ষার সময় অনেক ক্ষেত্রেই এখানে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইংরেজ বাজার জেলার বাকি অংশ এবং রাজ্যের সঙ্গে ভালভাবে যুক্ত। জেলা সদর মালদা এই নির্বাচনী এলাকার অংশ। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা দক্ষিণে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট। প্রতিবেশী মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা প্রায় ৪৫ কিমি দূরে। বিহারের কাটিহার পশ্চিমে প্রায় ৮২ কিলোমিটার দূরে। আর বিহারের কিষাণগঞ্জ ইংরেজ বাজার থেকে প্রায় ৯২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমানাও এখান থেকে খুব বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরের থেকে ইংরেজ বাজার থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে অবস্থিত। ২০১৯ সাল থেকেই এখানে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছে বিজেপি। তারা সব ভোটেই এগিয়ে রয়েছে। এখন দেখার তৃণমূল নিজের মাটি এখানে শক্ত করতে পারে না। তারা এখানকার ২২.৫২ শতাংশ মুসলিম ভোটকে দখল করতে পারে কি না। তাহলেই ভোটের মানচিত্রে বদল আসতে পারে।
Krishnendu narayan choudhury
AITC
Koushik misra(saheb)
CPI(M)
Nota
NOTA
Md. anisur rahaman
IND
Naresh pal
IND
Satish rajbanshi
IND
Suresh chandra sarkar
BSP
Aditya prakash dasgupta
IND
Uma das (paul)
JD(U)
Gautam sarkar
SUCI
Firoz akhtar
BMUP
Krishnendu narayan choudhury
AITC
Suman banerjee
BJP
Nota
NOTA
Nihar ghosh
IND
Nitish kumar mandal
BSP
Shyam sundar sharma
SP
Sadhan chatterjee
HKRD