
মালদা জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র হল চাঁচল। এটি ২০১১ সালে খরবা আসনটি বিলুপ্ত হওয়ার পর তৈরি হয়। চাঁচল ১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত বারুই, কুশিদহা, রশীদাবাদ এবং তুলসীহাট্টা নিয়ে এই কেন্দ্রটি তৈরি হয়। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা সাতটি ভাগের মধ্যে অন্যতম। এখনও পর্যন্ত চাঁচল ৩টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে। প্রথম দু'টি নির্বাচনে কংগ্রেস দল জয় পায়। কংগ্রেসের আসিফ মেহবুব ২০১১ সালে ১৪,১৮৭ ভোটে জয়ী হন। আবার ২০১৬ সালে তিনি ৫২,৩৬৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জেতেন। তবে ২০২১ সালে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সেই বছর তৃণমূল কংগ্রেসের নিহার রঞ্জন ঘোষ বিজেপির দীপঙ্কর রামকে ৬৭,৩৩৮ ভোটের ...
মালদা জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র হল চাঁচল। এটি ২০১১ সালে খরবা আসনটি বিলুপ্ত হওয়ার পর তৈরি হয়। চাঁচল ১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত বারুই, কুশিদহা, রশীদাবাদ এবং তুলসীহাট্টা নিয়ে এই কেন্দ্রটি তৈরি হয়। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা সাতটি ভাগের মধ্যে অন্যতম। এখনও পর্যন্ত চাঁচল ৩টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে। প্রথম দু'টি নির্বাচনে কংগ্রেস দল জয় পায়। কংগ্রেসের আসিফ মেহবুব ২০১১ সালে ১৪,১৮৭ ভোটে জয়ী হন। আবার ২০১৬ সালে তিনি ৫২,৩৬৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জেতেন। তবে ২০২১ সালে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সেই বছর তৃণমূল কংগ্রেসের নিহার রঞ্জন ঘোষ বিজেপির দীপঙ্কর রামকে ৬৭,৩৩৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এর ফলে মেহবুব তৃতীয় স্থানে চলে যান। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন আবার নতুন খেলা দেখিয়েছে। এই ভোটে চাঁচল কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৩৫৪ ভোটে কংগ্রেসের চেয়ে এগিয়ে ছিল। আবার বিজেপি অল্পের জন্য তৃতীয় স্থান অধিকার করে। অবশ্য বিজেপির ভোট শতাংশ ২০২১ সালের ২৪.৩৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ সালে ২৬.৬০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। অর্থাৎ বিজেপির ভোট যে এখানে বাড়ছে, এটা নিশ্চিত। ২০২১ সালে চাঁচলের ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৪৯,৪০২ জন। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫৭,৯৮৫ জনে। মুসলিমরা এই কেন্দ্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের মোট ভোটারের সংখ্যা ৬৩.৬০ শতাংশ। অন্যদিকে তফসিলি জাতিদের ভোটের অংশ হল ১৭.৪৪ শতাংশ। মাথায় রাখতে হবে, এই কেন্দ্রটির বেশিরভাগ ভোটারই গ্রামীণ অঞ্চলের। মাত্র ১.৭৬ শতাংশ ভোটার শহরে থাকেন। আর সবথেকে বড় কথা, সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে এখানে ভোটারের উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে উপরের দিকে ছিল। এখানকার ভাটদানের হার ৭৮ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। ভৌগোলিকভাবে চাঁচল মালদা জেলার উত্তরে অবস্থিত। এই কেন্দ্রটি চাঁচল মহকুমার সদর দফতর হিসাবে কাজ করে। এখানকার ভূখণ্ড পূর্বে বারিন্দ এবং পশ্চিমে তাল প্রাকৃতিক অঞ্চল দ্বারা গঠিত। এক্ষেত্রে বারিন্দ অঞ্চলটি উঁচু এবং অসমান। এই অঞ্চলটি শক্ত লোহার মতো কাদামাটি দিয়ে তৈরি। অন্যদিকে তাল অঞ্চলটি হল সমতল নিম্নভূমি। এই জায়গাটা জলাভূমি এবং অশ্বখুরাকৃতি হ্রদে ভরা। তাই এখানে মাঝে মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা থাকে। এই অঞ্চলের মধ্যে দিয়েই মহানন্দা নদী প্রবাহিত হয়। পাশাপাশি পুর্নভবা ও টাংগন নদীও বয়ে গিয়েছে। এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষি-নির্ভর। ধান, গম এবং মৌসুমী শাকসবজি হল প্রধান ফসল। এছাড়া ক্ষুদ্র আকারের ব্যবসা এবং সার্ভিস বেসড নানা পেশাও এখানে রয়েছে। তবে এই অঞ্চলে শিল্প প্রায় নেই বললেই চলে। যেই কারণে অনেক বাসিন্দা কাজের সন্ধানে বড় শহরে চলে যান। মাথায় রাখতে হবে, চাঁচলের পরিকাঠামো খুবই সাধারণ মানের। এখানে শুধুমাত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা পরিষেবা পাওয়া যায়। তার বেশি কিছু নেই। এই শহরটি রাস্তার মাধ্যমে জেলার সদর দফতর মালদার সঙ্গে সংযুক্ত। এখান থেকে মালদা সদর দফতরের দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার। এটি রাজ্যের রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চাঁচল এর উত্তরাংশ বিহার এবং পূর্বাংশ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছে। বিহারের কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে কিষাণগঞ্জ প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। আর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী শহর সিঙ্গাবাদ চাঁচল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যান্য কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর (১৫ কিমি), রতুয়া (৩০ কিমি) এবং গাজোল (৫০ কিমি)। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে চাঁচলে। কংগ্রেস এখানে বামফ্রন্টের সমর্থন পেতে পারে। ও দিকে আবার ৩৪ শতাংশ অ-মুসলিম ভোটারকে একত্রিত করলে বিজেপিও এগিয়ে যেতে পারে। এছাড়়া দিকে তৃণমূল কংগ্রেসেরও আশা রয়েছে। তাই এখন দেখার ছাব্বিশের ভোটে ঠিক কী হয়।
Dipankar ram (bankat)
BJP
Asif mehbub
INC
Jhantu kumar rabidas
SUCI
Younish mia
BSP
Nota
NOTA
Bhakta prasad saha
IND
Soumitra ray
AITC
Dipankar ram
BJP
Nota
NOTA
Doli chaudhury roy
BSP
Kalicharan roy
SUCI