
তৃণমূলের হট ফেভারিট একটি আসন হল মালতীপুর। এখানে প্রধান বিরোধী বিজেপির থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ঘাসফুল। এখন দেখার সেই ট্রেন্ড বজায় থাকে কি না! আসলে উত্তর মালদার এই বিধানসভা কেন্দ্রটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরির সিট। এটি মালদা উত্তর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। কবে তৈরি হয় এই বিধানসভার সীমানা? ২০১১ সালে ডিলিমিটেশন কমিশনের কথা মেনে তৈরি হয় এই কেন্দ্রটি। এটি চাঁচল-২ ব্লক এবং রতুয়া-২ ব্লকের মহারাজপুর, পীরগঞ্জ, শ্রীপুর ১ এবং শ্রীপুর ২, চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ। নির্বাচনের ইতিহাস জেনে নিন মালতীপুরের নির্বাচনী যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। সেই ভোটে RSP-এর আব্দুর রহিম বক্সী নির্বাচনে জয়লাভ কর...
তৃণমূলের হট ফেভারিট একটি আসন হল মালতীপুর। এখানে প্রধান বিরোধী বিজেপির থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ঘাসফুল। এখন দেখার সেই ট্রেন্ড বজায় থাকে কি না! আসলে উত্তর মালদার এই বিধানসভা কেন্দ্রটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরির সিট। এটি মালদা উত্তর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। কবে তৈরি হয় এই বিধানসভার সীমানা? ২০১১ সালে ডিলিমিটেশন কমিশনের কথা মেনে তৈরি হয় এই কেন্দ্রটি। এটি চাঁচল-২ ব্লক এবং রতুয়া-২ ব্লকের মহারাজপুর, পীরগঞ্জ, শ্রীপুর ১ এবং শ্রীপুর ২, চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ। নির্বাচনের ইতিহাস জেনে নিন মালতীপুরের নির্বাচনী যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। সেই ভোটে RSP-এর আব্দুর রহিম বক্সী নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ক্যান্ডিডেট আলবেরুনী জুলকারনাইনকে ৬,৭০১ ভোটে হারান। জুলকারনাইন আবার ২০১৬ সালে কংগ্রেসের ব্যানারে দাঁড়ান। মাত্র ২৬০০ ভোটে অল্পের জন্য জয়ী হন। তবে ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়ান আব্দুর রহিম বক্সী। তিনি আসনটি জিতে নেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১২৬,১৫৭। তিনি ৯,৯৪৯ ভোটের ব্যাবধানে বিজেপির মৌসুমী দাসকে পরাজিত করেছিলেন। এ বার জুলকারনাইন আবার কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি তৃতীয় হন। লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে TMC-এরই জয়জয়কার। এখানকার মানুষ বারবারই জোড়া ফুলের দিকে ঝুঁকে থেকেছে। এই যেমন ২০১৯ সালের কথাই ধরুন। সেই বছর TMC মালতিপুরে ৪২,৩৮১ ভোটে লিড পেয়েছে। ২০২৪ সালে তাদের মার্জিন আরও বেড়েছে। তাদের লিড পৌঁছে যায় ৫৮,২১৭ ভোটে। ভোটার কত? এই নির্বাচনী এলাকায় ২০২৪ সালে ২৪৭,২২৯ ভোটার ছিল। আবার ২০২১ সালে ছিল ২৩১,৯০৭ জন। সরকারি তথ্য না থাকলেও মনে করা হয় মালতিপুরে একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন। এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার রয়েছে৷ তফসিলি জাতি প্রায় ৭.৩৯ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ৫.০২ শতাংশ রয়েছেন৷ এখানে ২০১১ সালে ৮৩.৬১ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮০.৪৫ শতাংশ এবং ২০২১-এ ৮০.০৩ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়ে এসেছেন। তবে ২০২৪ সালে এখানে ভোটদানের হার কমে যায়। সেই বছর ৭৩.৩২ শতাংশ মানুষ ভোট দেন। এখানকার ভূগোলটা কী? মালতীপুর বরেন্দ্র অঞ্চলে অবস্থিত। এটি মহানন্দা ও কালিন্দ্রী নদীর মধ্যবর্তী একটি সামান্য উঁচু স্থানে অবস্থিত। এই এলাকায় জলের অভাব থাকে। মালতীপুরের প্রধান ফসল হল ধান, পাট ও আম। এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। তাই এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে সেচের টিউবওয়েল এবং ছোট খাল রয়েছে। এগুলির উপরই চাষ নির্ভর করে। তবে এখনও বৃষ্টিপাত অনিয়মিত হলে ফলনে ব্যাঘাত ঘটে। এখানকার পরিকাঠামো খুব একটা উন্নত নয়। চাঁচল ও রতুয়া গ্রামের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তাগুলো বর্ষাকালে সরু এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখানকার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বাস এবং অটোতেই সীমাবদ্ধ। বিদ্যুৎ মোটামুটি রয়েছে সব জায়গায়। তবে ভোল্টেজের ওঠানামা দেখা যায়। পানীয় জলের সরবরাহ ঠিক ঠাক নেই। অনেক পরিবারই হ্যান্ড পাম্পের উপর নির্ভরশীল। এখানকার সবথেকে বড় হাসপাতাল রয়েছে চাঁচলে। হরিশ্চন্দ্রপুর এবং রতুয়া নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেয় এই কেন্দ্রটি। এই কেন্দ্রের নিকটতম রেল স্টেশনটি সামসিতে। স্টেশনটি ২০ কিমি দূরে। এখান থেকে জেলা সদর ইংরেজবাজার ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে। কলকাতা প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কলকাতা পৌঁছনোর রাস্তা হল NH12। বিহারের বেশ কয়েকটি শহর মালতীপুরের কাছাকাছি অবস্থিত। সেখানকার সাংস্কৃতি ও অর্থনীতিও এই এলাকার সঙ্গে জড়িত। কাটিহার ৫৫ কিমি দূরে। বাণিজ্যিক কেন্দ্র পূর্ণিয়া প্রায় ৮৫ কিমি দূরে। আরও উত্তরে অবস্থিত আরারিয়া। সেটা মালতীপুর থেকে প্রায় ১১০ কিমি দূরে। এই শহরগুলি সড়ক এবং রেলপথের মাধ্যমে যুক্ত। মালতীপুরের রাজনৈতিক দৃশ্য মতাদর্শগত বিভাজনের চেয়ে সম্প্রদায়ের প্রতি আনুগত্যের উপরই নির্ভরশীল। পাশাপাশি এবং স্থানীয় নেতারও ভোটকে প্রভাবিত করে। এখানে তৃণমূলই অ্যাডভান্টেজ তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য। বিজেপি ২০২১ সালে এখানে প্রবেশ করেছে। তবে খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। তবে মালদায় একদা প্রভাবশালী কংগ্রেস এখন এই কেন্দ্রে তার প্রভাব হারিয়েছে। এই কেন্দ্রে ২০২৬ সালও তৃণমূল এগিয়ে থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিরোধীরা একত্রিত হয়ে চ্যালেঞ্জ না করলে মালতীপুরে আবারও ঘাসফুল ফুটতে পারে।
Mousumi das
BJP
Alberuni zulkarnain
INC
Nota
NOTA
Motiur rahaman
AIMIM
Md. kamrul hoda
BSP
Golam faruque
BMUP
Abdur rahim boxi
RSP
Dr. md. moazzem hossain
AITC
Saumitra sarkar
BJP
Nota
NOTA
Chaitanya rabidas
BSP