scorecardresearch
 

দার্জিলিং চা পছন্দ? নকল চা খাচ্ছেন না তো! সাবধান, কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চাইল রাজ্য

সকালে ধোঁয়া ওঠা দার্জিলিং চা পছন্দ ! এ বেলা সাবধান হয়ে যান। কারণ হতে পারে আপনি দার্জিলিং চা বলে যা পান করছেন, তা নেপালের নিম্নমানের সস্তার চা। দেখতে একই হওয়ায় ধরার উপায় প্রায় নেই। উদ্বিগ্ন রাজ্য কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চাইছে।

সমস্যার নাম দার্জিলিং চা সমস্যার নাম দার্জিলিং চা
হাইলাইটস
  • বাজারে ছেয়ে গিয়েছে নকল দার্জিলং চায়ে
  • তিন বছরে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন কেজি নকল চা এদেশে বিক্রি হয়েছে
  • মোকাবিলায় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি রাজ্যের

চা এর অভ্যাস থাকলে সাবধান

চা এর অভ্যাস আছে? রোজ সকাল বিকাল বেলা চা চাই ? বাঙালির অবশ্য পাঁচ ওয়াক্ত চায়ের নেশায় আকণ্ঠ ডুবে না থাকলে হয় না। কারুর কড়া দুধে সিটিসি পছন্দ, তো কারুর দার্জিলিংয়ের অতুলনীয় স্বাদ ও বুনো গন্ধ। সিটিসি খেতে ভালবাসলে আপাতত কোনও সমস্যা নেই।

দার্জিলিং চা খেলে আর রক্ষা নেই

দার্জিলিং চা খেতে ভালোবাসেন যদি, তাহলে এবার সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। কারণ দার্জিলিং চা বলে সাত সকালে উঠে প্রবল উদ্যমে যে চা পাতাখানি ভিজিয়ে দিব্যি আমেজ করে খাচ্ছেন, তা আদৌ দার্জিলিংয়ের চা পাতা তো ?

দার্জিলিং চায়ের বেশে নেপালের চা

কারণ, দার্জিলিংয়ের চা পাতার ছদ্মবেশে এ রাজ্যে চোরাপথে সরবরাহ হচ্ছে নেপালের নিম্নমানের চা। বলা যায় নকল দার্জিলিং চা। আসল দার্জিলিং চা পাতা দাম তো অনেকটাই বেশি, পাশাপাশি তার স্বাদ-গন্ধ একবার খেলে এ জীবনে আর ভুলবেন না। কিন্তু নেপালের এই নিম্নমানের চা দার্জিলিং চায়ের চড়া দামের সুযোগ নিয়ে চোরাপথে ঢুকছে। উত্তরবঙ্গ হয়ে দার্জিলিং, মিরিক কিংবা শিলিগুড়ি পানিট্যাঙ্কি সীমান্তপথে এই চা পাতা ঢুকছে এদেশে। আর তারপর জড়িয়ে যাচ্ছে গোটা রাজ্যে রাজ্যের বাইরে ও বিশেষ করে বিহার এবং ঝাড়খন্ডে। দেদার বিকোচ্ছে নকল দার্জিলিং চা।

আসল দার্জিলিং চা পাতা কেউ চেনেনই না

পকেটের পয়সা খরচ করে নকল চা খেতে বাধ্য হচ্ছেন আপনি। কারণ আসল চা পাতা প্রায় কেউই চেনেন না। যাঁরা চেনেন, তাঁরা বাজারের দোকান থেকে চা পাতা কেনেন না। সুতরাং পরিচিতির অভাবে টনের পর টন নকল চা পাতায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দার্জিলিং চা হিসেবে।

রাজ্যের নজরে বেআইন কারবার

বিষয়টি নজরে রয়েছে রাজ্য সরকারেরও। তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছেন তাঁরা। কিছুদিন আগে উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছিলেন শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্না। তাঁর কানে গিয়েছে বিষয়টি। তিনি ফিরে গিয়ে গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

দার্জিলিং চায়ের সুনাম নষ্ট হচ্ছে

এতে যেমন দার্জিলিং চায়ের বদনাম হচ্ছে। তেমনই রাজ্যের অর্থনৈতিক একটা বড় ক্ষতি হচ্ছে। প্রকৃত দার্জিলিং চায়ের উৎপাদক ও  মালিকরাও ভেজাল দার্জিলিং চা বিক্রি হওয়ায়, আসল চায়ের দাম পাচ্ছেন না। বিদেশি পর্যটকরা ওই চা পাতা নিয়ে গিয়ে সেই পুরনো সন্তুষ্টি পাচ্ছেন না।

৩৭ মিলিয়ন কেজি নকল চা ঢুকেছে চোরাপথে

টি-বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত তিন বছরে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন কেজি নেপালের চা নিম্নমানে চোরাপথে ঢুকে ভারতে দার্জিলিং চা বলে বিক্রি হয়েছে। কেন্দ্রের আইন থাকলেও কোনও আইনই ঠিকমত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ চা বাগান মালিকদের।

কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি রাজ্যের

নেপালের এই নিম্নমানের চা, শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর কি না, তা অবশ্য এখনও কোথাও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। মন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে এবং সেন্ট্রাল টি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।