
ভোটে লড়বেন না মহম্মদ সেলিম, বরং রাজ্যজুড়ে প্রচার করবেন CPIM-এর রাজ্য সম্পাদক। এই সম্ভাবনাই জোরাল। দলীয় সূত্রে খবর, সোমবার দুপুর ৩টের সাংবাদিক বৈঠকেই প্রথম দফার প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করতে চলেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই তালিকায় মীনাক্ষী, দীপ্সিতা, সৃজন, কলতান, বিকাশ ভট্টাচার্যের নাম থাকবে? কোন কোন কেন্দ্রে কারা সম্ভাব্য প্রার্থী?
প্রতীক উর রহমানের শত্রু শিবিরে যোগদান কিংবা দলের একাধিক তরুণ তুর্কীর দলবদলের জল্পনা বিন্দুমাত্রও বিড়ম্বনায় ফেলেনি, এমনটাই দাবি আলিমুদ্দিনের। তবে এই দলত্যাগের জল্পনা, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সেলিমের পাঁচতারা হোটেলে বৈঠক বিতর্কের জেরে আচমকা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে বামেরা। ফলস্বরূপ এবারের নির্বাচনে কি ভোটবাক্স ভরাতে কি সক্ষম হবে লালেরা? এই নিয়ে হিসেব-নিকেশের মাঝেই প্রার্থী হিসেবে চর্চায় আসছে একঝাঁক নবীন নেতা-নেত্রীর নাম। যদিও অনেকগুলি আসনে একাধিক নাম নিয়ে কাটাছেঁড়াও চলছে।
> ভাঙড়ে আবারও লড়াই করতে পারেন ২০২১-এর একমাত্র জয়ী প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি। তবে তাঁর সঙ্গে আর কোন কোন আসন নিয়ে সমঝোতা হবে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
> যাদবপুরে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। সেক্ষেত্রে সুজন চক্রবর্তীকে কোন আসন দেওয়া হয় অথবা আদৌ তিনি ভোটে দাঁড়ান কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
> বালি নয়, এবার দমদম উত্তর থেকে প্রার্থী হতে পারেন দীপ্সিতা ধর।
> উত্তরপাড়ায় দাঁড়াচ্ছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
> কসবা থেকে সৃজন ভট্টাচার্যকে টিকিট দেওয়া হতে পারে। দীপু দাসের নামও উঠে আসছে এই কেন্দ্র থেকে।
> দমদম উত্তরে প্রথমে শতরূপ ঘোষের নাম শোনা গেলেও তিনি ভোটে লড়বেন না বলেই খবর। এই আসনে এবার প্রার্থী হতে পারেন দীপ্সিতা।
> বালিগঞ্জ আসনটি CPIML-কে ছাড়া না হলে এই আসনে লড়তে পারেন ফুয়াদ হালিম অথবা তাঁর স্ত্রী সায়রা শাহ হালিম।
> কলতান দাশগুপ্ত লড়তে পারেন রাসবিহারী অথবা পানিহাটি থেকে।
> দমদম দক্ষিণে ময়ূখ বিশ্বাস।
> মানিকতলায় দেবাঞ্জন দে।
> কোচবিহার উত্তরে প্রণয় কার্জি।
> জলপাইগুড়িতে দেবরাজ বর্মন।
> সোনারপুর দক্ষিণে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।
> টালিগঞ্জে মোনালিসা সিনহা অথবা সুব্রত দত্ত।
> রাজারহাট নিউটাউন থেকে প্রার্থী হতে পারেন সপ্তর্ষি দেব।
> খরগ্রামে ধ্রুবজ্যোতি সাহা।
> বেহালা পশ্চিমে কৌস্তুভ চট্টোপাধ্যায়।
> নোয়াপাড়ায় গার্গী চট্টোপাধ্যায়।
> কামারহাটিতে মানস মুখোপাধ্যায়।
> খড়দায় দেবোজ্যোতি দাস অথবা ডা: গৌতম মুখোপাধ্যায়।
> জয়নগরে অপূর্ব প্রামাণিক।
> বেলেঘাটায় সোহম মুখোপাধ্যায়।
> সিউড়িতে সৌভিক দাস বক্সি।
> ব্যারাকপুরে দেবদূত ঘোষ।
> বরানগরে সায়নদীপ মিত্র।
> পাঁশকুড়া পূর্বে ইব্রাহিম আলি।
> বিধাননগরে পলাশ দাস।
> বীজপুরে দেবাশিস রক্ষিত।
> অশোকনগরে আকাশ কর।
> কালিয়াগঞ্জে ইন্দ্রজিৎ বর্মন।
> বাদুড়িয়াতে সফিকুল সর্দার।
> হবিবপুরে প্রদ্যোৎ বর্মন।
> হরিশচন্দ্রপুরে তরিকুল আনোয়ার।
> মানিকচকে দেবজ্যোতি সিনহা।
> সিঙ্গুরের এবং নন্দীগ্রামের মতো হাইভোল্টেজ আসন থেকে যথাক্রমে বাদশা মৈত্র এবং জাকির হোসেন মল্লিকের নাম উঠে আসছে।
এবার আলিমুদ্দিনের 'হাত'-এ নেই কংগ্রেস। যদিও সঙ্গ ছাড়েননি নওশাদ সিদ্দিকি। তবে ISF-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা এখনও ঝুলে। রয়েছে শরিকি জটও। তার মাঝেই কোন কোন আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
বিমান বসু আগেই জানিয়েছিলেন, সর্বপ্রথম প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করবে বামফ্রন্টই। যদিও এই সম্ভাব্য তালিকা আদৌ চূড়ান্ত রূপ পাবে কি না, তার জন্য নজর থাকবে বামেদের প্রেস মিটে।