
২০২১ সালের ভোটে বীজপুরে জিতেছে তৃণমূল। তবে ২৬-এ কি এই আসনে কোনও পটপরিবর্তন হতে পারে? সামনে আসতে পারে বিজেপি? সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রসঙ্গে বলি, বীজপুর একটি জেনারেল ক্যাটাগরির কেন্দ্র। এই বিধানসভাটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় অবস্থিত। সরকারিভাবে ব্যারাকপুর মহকুমার অধীনে একটি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক হল বীজপুর। তবে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটিরও অংশ এই কেন্দ্র। এই বিধানসভা কেন্দ্রটিতে কাঁচরাপাড়া এবং হালিশহর পৌরসভা রয়েছে। এই বিধানসভা এলাকার চরিত্র হল শহুরে। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বীজপুর বিধানসভা। স্বাধীনতার পর থেকে এখানে ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বীজপুরে বামদের ঘাঁটি ছিল। এখানে তারা ১১ বার জিতেছে...
২০২১ সালের ভোটে বীজপুরে জিতেছে তৃণমূল। তবে ২৬-এ কি এই আসনে কোনও পটপরিবর্তন হতে পারে? সামনে আসতে পারে বিজেপি? সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রসঙ্গে বলি, বীজপুর একটি জেনারেল ক্যাটাগরির কেন্দ্র। এই বিধানসভাটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় অবস্থিত। সরকারিভাবে ব্যারাকপুর মহকুমার অধীনে একটি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক হল বীজপুর। তবে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটিরও অংশ এই কেন্দ্র। এই বিধানসভা কেন্দ্রটিতে কাঁচরাপাড়া এবং হালিশহর পৌরসভা রয়েছে। এই বিধানসভা এলাকার চরিত্র হল শহুরে। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বীজপুর বিধানসভা। স্বাধীনতার পর থেকে এখানে ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বীজপুরে বামদের ঘাঁটি ছিল। এখানে তারা ১১ বার জিতেছে। আর কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস এখানে তিনটি করে বিধানসভা ভোটে জয়লাভ করেছে। সিপিআই(এম) ৯ বার আসনটি জিতেছে। এছাড়া অবিভক্ত সিপিআই এখানে দু'বার জিতেছে। জগদীশ চন্দ্র দাস বিজপুরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিধায়ক। তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত টানা আটবার জিতেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই এখানে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে সিপিআইএম। প্রাথমিকভাবে ১৯৬৭ এবং ১৯৬৯ সালে সিপিআইএম-এর হয়ে জয় দেখেছিল। তারপর তিনি ১৯৭১ এবং ১৯৭২ সালে ইলেকশন তিনি কংগ্রেসে যান। তারপর আবার ফেরেন সিপিএম-এ। তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত এখানে সিপিএম-এর হয়ে জয়লাভ করেন। যদিও তিনি ১৯৯৬-এর ভোটে লড়েননি। তবে ২০০১ সালে আরও একবার জয়ী হয়ে ফিরে আসেন। এখানে বামেদের আধিপত্য ভেঙে দেয় তৃণমূল। ২০১১ সালের পর থেকে এখানে পরপর তিনবার জিতেছে টিএমসি। মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায় ২০১১ এবং ২০১৬ সালে এখানে জয়ী হন। তিনি ১১ সালে ১২,৬১২ ভোটে সিপিআইএম-এর নির্ঝরিণী চক্রবর্তীকে এবং ৪৭,৯৫৪ ভোটে রবীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। তবে ২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তারপর তৃণমূল থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আর সেই ভোটে তিনি ১৩২৪৭ ভোটে তৃণমূলের সুবোধ অধিকারীর কাছে হেরে যান। তবে তিনি ভোটের নিরিখে সিপিআইএম-কে ছাড়িয়ে যান। সিপিআইএম সেই ভোটে এখানে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে যায়। ২০১৯ সাল থেকে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে উঠে এসেছে। ২০১৯ সালে বিজেপি বীজপুর থেকে ৭৮৯৬ ভোটে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৪ সালে তৃণমূল এখানে নিজের জমি ফিরে পায়। তারা এই কেন্দ্রে ৯,৬৭১ ভোটে এগিয়ে যায়। এই কেন্দ্রে সিপিআই(এম)-এর পতনও স্পষ্ট। কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে লড়লেও ২০২১ এবং ২০২৪ উভয় নির্বাচনেই CPI(M) ভাল ফল করেনি। ২০২১ সালে মাত্র ১০.৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তারা। আবার ২০২৪ সালে তারা ৯.৯৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বীজপুরে ২০২১ সালে ১৯২,৩১৬ ভোটার ছিল। আবার ২০১৯ সালে ১৮৫,১৩৩ এবং ২০১৬ সালে ১৭৯,৬০৮ ছিল ভোটার সংখ্যা। এখানে তফসিলি জাতি ভোটারদের সংখ্যা প্রায় ২০.৪৯ শতাংশ। মুসলমানের সংখ্যা মোটামুটি ৬ শতাংশ। এখানকার নির্বাচনী এলাকা সম্পূর্ণ শহুরে। এখানে কোনও গ্রামীণ ভোটার নেই। মাথায় রাখতে হবে, গত দশকে এই কেন্দ্রে ভোটারদের ভোটদানের হার ক্রমাগত বেড়েছে। ২০১৬ সালে ৬৯.৫১ শতাংশ থেকে ২০১৯ সালে ৭১.০৯ শতাংশে এবং ২০২১ সালে ৭২.৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে ভোটদানের হার৷ মাথায় রাখতে হবে, নিম্ন গাঙ্গেয় অঞ্চলে বীজপুর অবস্থিত। এই এলাকাটা সমতল ভূমি। এর কাছ দিয়ে বয়ে গিয়েছে হুগলি নদী। ঘনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চল। কলকাতার এবং ব্যারাকপুরের শিল্পাঞ্চল কাছাকাছি থাকায় এই এলাকা মোটের উপর উন্নত। কাঁচরাপাড়া রেলওয়ে ওয়ার্কশপ যা ভারতের অন্যতম প্রাচীন ওয়ার্কশপ, সেটি এই অঞ্চলের অন্যতম বিরাট কর্ম সংস্থানের এলাকা। এখানকার পরিকাঠামো শক্তিশালী। রেল এবং সড়ক নেটওয়ার্ক দারুণ। শিয়ালদহ এবং বৃহত্তর কলকাতা মেট্রোপলিটন অঞ্চলকে কাঁচরাপাড়া এবং হালিশহর স্টেশনের মাধ্যমে বীজপুরের সঙ্গে সংযুক্ত। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে ব্যারাকপুর (১৫ কিমি), নৈহাটি (১০ কিমি দক্ষিণে) এবং বারাসাত (জেলা সদর ৩০ কিমি)। কলকাতা প্রায় ৪৫ কিমি দূরে অবস্থিত। নদীয়া জেলার সীমান্ত পেরিয়ে, কল্যাণী প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এছাড়া বাংলাদেশ সীমান্তে বনগাঁ প্রায় ৬০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বীজপুরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে দারুণ লড়াই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বাম-কংগ্রেস জোটের যদি ভোট বাড়ে, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। মাথায় রাখতে হবে, বীজপুরে মুসলিম ভোটার কম। তাই বাম-কংগ্রেস ফিরে এলেও তৃণমূল কংগ্রেসের খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার কথা নয়।
Subhranshu roy
BJP
Sukanta rakshit (babin)
CPI(M)
Kalipada debnath
SUCI
Nota
NOTA
Arjun krishna barai
BSP
Sudhansu saha
IND
Avijit biswas
IND
Dr. rabindra nath mukherjee
CPM
Alo rani sarkar
BJP
Kalipada debnath
SUCI
Nota
NOTA
Krishna gopal majhi
BSP
Chirantan mukherjee
PDS
Nirupam mallick
IND