
বালি এমন একটি বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে পরিসংখ্যান তৃণমূল কংগ্রেসের অনুকূলে থাকলেও এখনও এটি তাদের নিরাপদ আসনে পরিণত হয়নি। এই কারণেই ২০২৬ সালে এখানে BJP-র সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। হাওড়া শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় এলাকা বালি, যা কলকাতার অংশ। এটি সম্পূর্ণ শহুরে জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫১ সালে। পুরো বালি পুর এলাকা নিয়েই এই কেন্দ্র গঠিত এবং এটি হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম।
স্বাধীনতার পর প্রায় ৬ দশক ধরে বালি ছিল কংগ্রেস ও CPIM-এর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের ময়দান। দুই দলই একাধিকবার এই আসন জিতেছে, কিন্তু কেউই একে দীর্ঘস্থায়ী দুর্গে পরিণত করতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠিত রাজ্যের ১৭...
বালি এমন একটি বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে পরিসংখ্যান তৃণমূল কংগ্রেসের অনুকূলে থাকলেও এখনও এটি তাদের নিরাপদ আসনে পরিণত হয়নি। এই কারণেই ২০২৬ সালে এখানে BJP-র সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। হাওড়া শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় এলাকা বালি, যা কলকাতার অংশ। এটি সম্পূর্ণ শহুরে জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫১ সালে। পুরো বালি পুর এলাকা নিয়েই এই কেন্দ্র গঠিত এবং এটি হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম।
স্বাধীনতার পর প্রায় ৬ দশক ধরে বালি ছিল কংগ্রেস ও CPIM-এর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের ময়দান। দুই দলই একাধিকবার এই আসন জিতেছে, কিন্তু কেউই একে দীর্ঘস্থায়ী দুর্গে পরিণত করতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠিত রাজ্যের ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনেই অংশ নিয়েছেন বালির ভোটাররা। এর মধ্যে CPIM ৮ বার, কংগ্রেস ৬ বার এবং তৃণমূল কংগ্রেস ৩ বার জিতেছে। তৃণমূলের ৩টি জয়ই ২০১১ সালের পর থেকে পরপর এসেছে।
প্রথম পর্বে কংগ্রেসের দাপট ছিল স্পষ্ট। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৭, এই ৪টি নির্বাচনে তারা টানা জয় পায়। এরপর শুরু হয় দোলাচল। ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালে CPIM জেতে, ১৯৭২-এ কংগ্রেস ফের আসন দখল করে। ১৯৭৭ ও ১৯৮২ সালে আবার CPIM, ১৯৮৭ সালে কংগ্রেস। এরপর ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা ৪ বার জেতে CPIM। কংগ্রেস দুর্বল হতে শুরু করলে এবং বামেদের ভিত্তি নড়বড়ে হলে, ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে দেয় এবং তারপর থেকে ৩টি বিধানসভা নির্বাচনেই জয়ী হয়েছে।
২০১১ সালে তৃণমূলের সুলতান সিং CPIM-এর কনিকা গঙ্গোপাধ্যায়কে ৬ হাজার ৬০০ ভোটে হারান। কনিকা তার আগে টানা ৩ বার জিতেছিলেন। ২০১৬ সালে তৃণমূল প্রার্থী করে বৈশালী ডালমিয়াকে। ক্রিকেট প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়ার কন্যা ও একজন ব্যবসায়ী এই বৈশালী CPIM-এর সৌমেন্দ্রনাথ বেরাকে ১৫ হাজার ৪০৩ ভোটে পরাজিত করেন। তবে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বৈশালীকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি BJP-তে যোগ দেন এবং সেই বছরই বালি থেকে BJP-র প্রার্থী হন। কিন্তু তিনি সফল হননি। তৃণমূলের রানা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ৬ হাজার ২৩৭ ভোটে পরাজিত হন।
লোকসভা নির্বাচনে বালির ভোটের ধারা দেখলেও একই রকম ওঠানামা লক্ষ্য করা যায়। যদিও সাম্প্রতিক ৩টি নির্বাচনে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে সেখানে। ২০০৯ সালে বালিতে CPIM তৃণমূলের থেকে ২৭ হাজার ৭৫৪ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তৃণমূল BJP-র থেকে ১২ হাজার ২৩৯ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে সেই ব্যবধান প্রায় মুছে যায়। তৃণমূলের লিড নেমে আসে মাত্র ২৯৫ ভোটে। ২০২৪ সালে তৃণমূল কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬ হাজার ৪৯২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
বালি এমন কয়েকটি কেন্দ্রের একটি, যেখানে ২০২১ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা সামান্য কমেছে। ২০২৪ সালে ভোটার ছিলেন ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ১৫৫ জন। যেখানে ২০২১ সালে ছিলেন ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ১৯৭ জন। এর আগে ভোটার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছিল। ২০১১ সালে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৬৩৪, ২০১৬ সালে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৯৪১ এবং ২০১৯ সালে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৯১৩। এটি সম্পূর্ণ শহুরে কেন্দ্র। কোনও গ্রামীণ ভোটার নেই। মুসলিম ভোটার প্রায় ৯.১০ শতাংশ। তারাই সবচেয়ে বড় চিহ্নিত গোষ্ঠী। আর তফসিলি জাতির ভোটার ২.৪৪ শতাংশ। শহুরে কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এখানে ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে ভাল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমেছে। ২০১১ সালে ৭৩.৩৯%, ২০১৬ সালে ৭০.২০%, ২০১৯ সালে ৭৩.৭০%, ২০২১ সালে ৭১.৪৯% এবং ২০২৪ সালে ৬৭.৫৭%।
হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত বালি হাওড়া শহরের উত্তরতম অংশ। ১৮৮৩ সালে হাওড়ার উত্তর দিকের ওয়ার্ডগুলি নিয়ে আলাদা করে বালি মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয়। ২০১৫ সালে এটি হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হলেও স্থানীয় অসন্তোষের জেরে ২০২১ সালে আবার আলাদা পুরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বহুদিন ধরেই বালি কলকাতার শিল্প বলয়ের অংশ, যেখানে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী এলাকার মিশ্রণ দেখা যায়।
ভৌগোলিকভাবে বালি নদীর কাছাকাছি নীচু এলাকা জলের সমস্যায় ভোগে সারাবছর, বিশেষ করে বর্ষায়। বালি খাল বালিকে হুগলি জেলার উত্তরপাড়ার থেকে আলাদা করেছে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ের একটি সেতু এই দুই এলাকাকে যুক্ত করে। আশপাশের এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে বেলুড়, লিলুয়া এবং গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ও নদীতীরবর্তী জনপদগুলি।
বালির অর্থনীতি বৃহত্তর কলকাতা-হাওড়া অঞ্চলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বহু মানুষ পরিষেবা, সরকারি দপ্তর, পরিবহণ, ব্যবসা ও হাওড়ার শিল্পাঞ্চলে কাজ করেন। প্রধান সড়ক ও বাজার এলাকায় ছোট দোকান ও ওয়ার্কশপ ছড়িয়ে রয়েছে। সড়ক, সেতু ও রেল যোগাযোগের সুব্যবস্থা থাকার ফলে কলকাতা ও আশপাশের শহরে যাতায়াত সহজ। পরিবহণের দিক থেকেও বালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিবেকানন্দ সেতু ও নিবেদিতা সেতু দিয়ে কলকাতার সঙ্গে সংযোগ, গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ও বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে মিলিয়ে এটি উত্তর হাওড়া-কলকাতা শহুরে বলয়ের এক কেন্দ্রীয় অংশ। বালি, বালি ঘাট ও বেলুড় রেলস্টেশন থেকে নিয়মিত লোকাল ট্রেন চলাচল করে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়, কাগজে-কলমে তৃণমূল কংগ্রেস শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ২০১১ সালের পর থেকে টানা ৩টি বিধানসভা ও ৩টি লোকসভা নির্বাচন মিলিয়ে ৬ বার এগিয়ে। কিন্তু বাস্তবে জয়ের ব্যবধান বেশিরভাগ সময়ই খুব বড় নয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ফটোফিনিশ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। কীভাবে সামান্য ভোটের অদলবদলেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে তা বোঝা গিয়েছিল। ফলে BJP এখনও আশাবাদী, বিশেষ করে যদি বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট তাদের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্ক থেকে তৃণমূলের ভোট কেটে নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, বালি ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ও BJP-র মধ্যে এক কঠিন ও আকর্ষণীয় লড়াইয়ের মঞ্চ হতে চলেছে। যেখানে বাম-কংগ্রেস জোট লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এখানে সামান্য ভোটের দোলাচলই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে।
Baishali dalmiya
BJP
Dipsita dhar
CPI(M)
Nota
NOTA
Rajkumar dhanuk
IND
Putul chowdhury
SUCI
Surya kanta ghosh
IND
Jitendra prasad
IND
Maya samanta
IND
Indranath das
IND
Goutam das
IND
Ujjwala biswas
IND
Saumendranath bera
CPM
Kaushik chakraborty
BJP
Nota
NOTA
Sushil ghosh
IND
Soumen dutta
IND
Putul chowdhury
SUCI
Suvodeep roy
IND
Punit kumar singh
JD(S)
Bikash rajak
IND
Mrityunjay sarkar
IND
Koushik paul
IND
Ashraf ali
IND
Balai ghosh
IND