
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র কসবা। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। এখন বামেদের তৃতীয় স্থানে ফেলে দিয়ে দ্বিতীয়তে উঠে এসেছে বিজেপি।
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম অভিজাত এলাকা কসবা। গত কয়েক দশক ধরে একাধিক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে কসবা। 'কসবা' শব্দের অর্থ গ্রাম। তিলজলা এবং ট্যাংরার কাছে চামড়া এবং সংশ্লিষ্ট কারখানার শ্রমিকদের এক সময় এই এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতেন। পরে বালিগঞ্জের রেল স্টেশনের জন্য ওভারব্রিজ নির্মিত হয় এবং ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের জুড়ে যায় কসবার সঙ্গে। ফলে মূল কলকাতার সঙ্গে জুড়ে যায় এই এলাকা। এখন কসবা অনেকের কাছে পছন্দের জায়গা।
দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা আসনের অন্তর্গত কসবা বিধ...
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র কসবা। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। এখন বামেদের তৃতীয় স্থানে ফেলে দিয়ে দ্বিতীয়তে উঠে এসেছে বিজেপি।
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম অভিজাত এলাকা কসবা। গত কয়েক দশক ধরে একাধিক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে কসবা। 'কসবা' শব্দের অর্থ গ্রাম। তিলজলা এবং ট্যাংরার কাছে চামড়া এবং সংশ্লিষ্ট কারখানার শ্রমিকদের এক সময় এই এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতেন। পরে বালিগঞ্জের রেল স্টেশনের জন্য ওভারব্রিজ নির্মিত হয় এবং ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের জুড়ে যায় কসবার সঙ্গে। ফলে মূল কলকাতার সঙ্গে জুড়ে যায় এই এলাকা। এখন কসবা অনেকের কাছে পছন্দের জায়গা।
দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা আসনের অন্তর্গত কসবা বিধানসভা। ২০১১ সালে কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। এই অধীনে রয়েছে কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের ছয়টি ওয়ার্ড। ।যথা ৬৬, ৬৭, ৯১, ৯২, ১০৭ এবং ১০৮। কেন্দ্রটি গড়ে ওঠার পর থেকে কসবা তৃণমূলের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খান এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনেই জয়ী হয়েছেন এখান থেকে।
এই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রথম দুটো নির্বাচনে জাভেদ খান পরাজিত করেন সিপিআইএম-এর প্রার্থী শতরূপ ঘোষকে। ২০১১ সালে প্রায় ২০ হাজার ও ২০১৬ সালে প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন শতরূপ। তিনি ভোট পেয়েছিলেন যথাক্রমে ৪২.২৩ ও ৪১.৩০ শতাংশ। তবে ২০২১ সালের ভোটে মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট পান তিনি। দ্বিতীয় স্থানে চলে আসেন বিজেপি প্রার্থী। গেরুয়া প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ ভোট পান প্রায় ২৬ শতাংশ। তবে জয়ের ব্যবধান বাড়ে তৃণমূল প্রার্থীর। তিনি ৬৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জেতেন।
লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে আধিপত্য বজায় রাখে তৃণমূল। ২০০৯ সাল থেকে হওয়ার চারটি লোকসভা ভোটেই এগিয়ে থেকেছেন ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থীরা। ২০০৯ সালে সিপিআই(এম)-কে ১৫,৪১৩ ভোটে, ২০১৪ সালে ১৫,৪২৬ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। তবে সিপিআই(এম)-এর ভোট কমে যাওয়া ও বিজেপির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান বেড়ে যায়। ২০১৯ সালে ৩৪,৬৪১ ভোট এবং ২০২৪ সালে ৪৬,৮৫০ ভোটে লিড পায় রাজ্যের শাসকদল।
২০২৪ সালে কসবার নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ছিল ৩১৭,৮৯৪। ২০২১ সালে ৩০৬,২৬৬, ২০১৯ সালে ২৮১,১২৬, ২০১৬ সালে ২৬৭,২৩৩ এবং ২০১১ সালে ২২৪,৯৫৫। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাইপাশের কাছে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানে জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এখানে মোট ভোটারের মধ্যে তপসিলি জাতি ১০.৫৮ শতাংশ, মুসলিম ২২২.৭০ শতাংশ রয়েছে। কসবা সম্পূর্ণরূপে শহুরে নির্বাচনী এলাকা এবং এর তালিকায় কোনও গ্রামীণ ভোটার নেই।
শহুরে আসন হওয়া সত্ত্বেও কসবা এখনও পর্যন্ত অনেক শহরের নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত কম ভোটদানের স্বাভাবিক ধরণ থেকে বেরিয়ে এসেছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ এখানে তুলনামূলক বেশি। ২০১১ সালে ৭৬.৩৯ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৭৩.৭৯ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭২.২৬ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭২.৯১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭০.৮২ শতাংশ ছিল ভোটদানের হার।
কসবা মধ্য কলকাতার দক্ষিণ-পূর্ব, পশ্চিমে বালিগঞ্জ এবং পূর্বে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের মধ্যে অবস্থিত। বছরের পর বছর ধরে এলাকাটি ধানক্ষেত, জলাভূমি এবং পুকুর দ্বারা বেষ্টিত ছিল। ১৯৮০ এর দশকেও এলাকাটি ছিল আধা গ্রামীণ। তবে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস নির্মাণ ও সম্প্রসারণের পর কসবার চেহারা বদলে যায়। স্কুল, কলেজ,হাসপাতাল, বড় বড় শপিং মল সবই রয়েছে এই এলাকায়।
এই এলাকার মানুষ এক সময় চামড়া শিল্পের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। তবে তা থেকে বেরিয়ে বর্তমানে ছোটো-বড় ব্যবসা, চাকরির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাজার, খাবারের দোকান, কোচিং সেন্টার, ক্লিনিক, বড় বড় স্কুল থাকার কারণে ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হচ্ছে। কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের মধ্যে থাকায় পাকা রাস্তা, জল নিষ্কাশন, পাইপযুক্ত জল, রাস্তার আলো, পর্যাপ্ত যানবাহন সবই রয়েছে।
একাধিক রাস্তা ও কলকাতার বহু গুরুত্বপূর্ণ জায়গার সঙ্গে কসবা সংযুক্ত। যার মধ্যে রয়েছে গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ, পার্ক সার্কাস এবং রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, এবং ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন। কসবার কাছে অবস্থিত বাইপাসের ধারে গড়ে উঠেছে কলকাতার বড় বড় বেসরকারি হাসপাতাল। কসবা থেকে হাওড়া স্টেশনের দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ১৩ কিমি, অন্যদিকে শিয়ালদহ স্টেশন প্রায় ৭ থেকে ৮ কিমি দূরে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কপথে ২০ থেকে ২২ কিমি দূরে। গড়িয়াহাট ক্রসিং, পার্ক সার্কাস, সায়েন্স সিটি এবং রুবি ক্রসিংয়ের মতো কাছাকাছি ল্যান্ডমার্কগুলি প্রায় ৩ থেকে ৮ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থিত।
প্রশাসনিকভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অংশ হওয়ায় কসবার কাছেই রয়েছে যাদবপুর, গড়িয়া, সোনারপুর ও বারুইপুর। নদীর ওপারে, হাওড়া শহর প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে। উত্তর ২৪ পরগনার প্রধান শহর যেমন সল্টলেক, মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। যা কসবাকে বৃহত্তর কলকাতার সঙ্গে সহজেই জুড়ে দেয়।
২০০৯ সাল থেকে কসবায় অনুষ্ঠিত সাতটি প্রধান নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বরাবর এগিয়ে থেকেছে। তেমন কিছু হেরফের না হলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এগিয়ে থেকেই লড়াই শুরু করবে। তবে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট গড়লে ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের ভোট কমতে পারে।
Dr. indranil khan
BJP
Shatarup ghosh
CPI(M)
Nota
NOTA
Shampa sarkar
SUCI
Umesh kr. singh
IND
Tushan mukherjee
IND
Indranil mitra
IND
Goutam das
IND
Arunansu kumar sarkar
IND
Shatarup ghosh
CPM
Bikash debnath
BJP
Nota
NOTA
Lakkhi yadab (roy)
BSP
Krishna maity
LJP
Somnath dam
IND
Tapas kumar dey
IND
Susanta kumar biswas
IND
Arunansu kumar sarkar
IND
Jayanta debnath
IND