
উত্তর কলকাতা লাগোয়া (উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত) বরানগর কেন্দ্রটিই পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশিদিন মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা জ্যোতি বসুকে জয়ী করেছিল বিপুল ভোটে। ১৯৭২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। কলকাতায় নকাশল আন্দোলনের সময় এই বরানগরে অনেক নকশালকে নিকেষ করা হয়েছিল। জ্যোতিবাবুর ছেড়ে যাওয়া আসনে ১৯৭৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত লড়াই করত বামফ্রন্টের শরিক আরএসপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেখানে বাম ভোটারের নব্বই ভাগই যদিও সিপিএম সমর্থক। বরানগর থেকে ভোটে জিতেই বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন মতীশ রায়, অমর চৌধুরীরা। দমদম লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় পড়ে বরানগর বিধানসভা কেন্দ্র। আপাদমস্তক শহুরে ভোটার। একদিকে বয়ে চলেছে হুগলি নদী। পর্তুগিজরা একদা এই বরানগরেই প্রথম ঘাঁটি গেড়েছিল। পরে ডাচ...
উত্তর কলকাতা লাগোয়া (উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত) বরানগর কেন্দ্রটিই পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশিদিন মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা জ্যোতি বসুকে জয়ী করেছিল বিপুল ভোটে। ১৯৭২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। কলকাতায় নকাশল আন্দোলনের সময় এই বরানগরে অনেক নকশালকে নিকেষ করা হয়েছিল। জ্যোতিবাবুর ছেড়ে যাওয়া আসনে ১৯৭৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত লড়াই করত বামফ্রন্টের শরিক আরএসপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেখানে বাম ভোটারের নব্বই ভাগই যদিও সিপিএম সমর্থক। বরানগর থেকে ভোটে জিতেই বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন মতীশ রায়, অমর চৌধুরীরা। দমদম লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় পড়ে বরানগর বিধানসভা কেন্দ্র। আপাদমস্তক শহুরে ভোটার। একদিকে বয়ে চলেছে হুগলি নদী। পর্তুগিজরা একদা এই বরানগরেই প্রথম ঘাঁটি গেড়েছিল। পরে ডাচরা ভিড় জমায়। হুগলি নদীকে ব্যবহার করে বাণিজ্য চলত তখন। সে সব সপ্তদশ শতকের কথা। সে সময় বিরাট হগ ফ্যাক্টরি গড়েছিল ডাচরা। শূকর পালন ফার্ম। শোনা যায়, বছরে ৩ হাজারের বেশি শূকর এখানে জবাই করা হত, সেই মাংস রফতানি করা হত। পরবর্তীকালে বরানগর অঞ্চল পাট শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৭৯৫ সালে ব্রিটিশরা দখলে নেয়। ১৮৬৯ সালে নর্থ সাবার্বান মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করে ব্রিটিশরা। ১৮৮৯ সালে নাম বদলে যায়। ভারতের প্রাচীন পুরসভাগুলির মধ্যে অন্যতম বরানগর পুরসভা। ১৯৫১ সালে গঠিত হয়েছিল বরানগর বিধানসভা কেন্দ্রটি। এই পুরসভার অন্তর্গত কামারহাটির চারটি ওয়ার্ড। এখনও পর্যন্ত মোট ১৮টি নির্বাচন হয়েছে। যার মধ্যে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। জ্যোতি বসুর উত্থান ও পতনের কেন্দ্রও বরানগর। এই আসন থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ১৯৫১ থেকে ১৯৭১ এর মধ্যে মোট ছয়বার জিতেছিলেন। তিনবার অবিভক্ত সিপিআই-এর প্রার্থী হিসেবে, এবং তিনবার সিপিএম-এর হয়ে। ১৯৭১ সালে তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বাংলার কংগ্রেসের অজয় মুখোপাধ্যায়কে ১১,০৫৩ ভোটে হারান। কিন্তু ১৯৭২ সালে CPI প্রার্থী শিবপদ ভট্টাচার্যের কাছে ৩৮,৯৮৭ ভোটে হেরে যান। দুই বাম দলের লড়াইয়ে এই হার জ্যোতি বসুকে বরানগর ছাড়তে বাধ্য করে। পরে তিনি সাতগাছিয়া থেকে লড়তেন। সিপিআই বনাম সিপিএম লড়াই খুলে দিয়েছিল আরএসপি-র দরজা সিপিআই ও সিপিএম-এর এই তীব্র লড়াইয়ের সুযোগ নেয় আরএসপি। বামফ্রন্টের ছোট পার্টি হলেও, ১৯৭৭ সাল থেকে এই আসন আরএসপি-কে দেওয়া হয়। তারপর টানা সাতবার, ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত, আরএসপি-র দখলেই ছিল বরানগর। মোট হিসেবে সিপিআই চারবার, সিপিএম তিনবার জিতেছে। ২০১১ থেকে তৃণমূলের আধিপত্য শুরু ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে টানা চারবার এই আসনে জিতেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তাপস রায় (বর্তমানে তিনি বিজেপি-তে) তিনবার জিতে টানা হ্যাটট্রিক করেন। ২০১১ সালে আরএসপি-র সুকুমার ঘোষকে ৩৬,৮২৮ ভোটে হারান। ২০১৬-তে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ১৬,১০০। ২০২১-এ বিজেপির পার্নো মিত্রকে ৩৫,১৪৭ ভোটে হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করেন তাপস। ২০২৪-এ তাপস রায়ের বিজেপিতে যোগ, উপনির্বাচন ও ফল ২০২৪ সালে তাপস রায় দল বদলে বিজেপিতে যোগ দিলে আসনটি খালি হয় এবং উপনির্বাচন হয়। তৃণমূল আবার জিতলেও ব্যবধান নেমে আসে। উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী করে অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিজেপির সাজল ঘোষকে মাত্র ৮,১৪৮ ভোটে হারান তিনি। লোকসভা ভোটে বিজেপির উত্থান ২০১৯ সাল থেকে বিজেপি বামেদের টপকে তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে বরানগর কেন্দ্রে। ২০১৯ লোকসভা ভোটে তৃণমূল এই কেন্দ্রে বিজেপির থেকে ১৪,৬৯৫ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০২৪ সালে এই ব্যবধান কমে ১১,৯৭৭-এ দাঁড়ায়। জনসংখ্যা ও ভোটার-প্রকৃতি ২০২১ সালে বরানগরে ভোটার ছিল ২,১৭,৭৭৪, যা ২০১৯ এর ২,০৮,৪১৭-এর থেকে বেশি। এখানে তফসিলি জাতি ভোটার মাত্র ৪.৯২% এবং মুসলিম ভোটার ৩.১০%। দুই সংখ্যাই খুবই কম। এটি সম্পূর্ণ নগর এলাকা, কোনও গ্রামাঞ্চল নেই। চারপাশে আলমবাজার, বনহুগলি, নোয়াপাড়া, ডানলপ, সবই ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। অর্থনীতি ও ভৌগোলিক চিত্র বারানগর হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত। বিখ্যাত বরানগর জুট মিল এখনও রয়েছে। একসময় পাটশিল্প, ছোট শিল্প এবং মুদ্রণ শিল্প এই এলাকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল। এখন পরিষেবা, শিক্ষা, প্রকাশনা, ছাপাখানা, তুলো প্রক্রিয়াকরণের উপর বেশি নির্ভরশীল। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভাল। মেট্রো, বাস, রেল পরিষেবা রয়েছে। বিমানবন্দরও খুব কাছে। ছাব্বিশে তৃণমূল ও বিজেপি সোজাসুজি লড়াই, বাম–কংগ্রেসও ফ্যাক্টর তৃণমূল গত ৮ নির্বাচনের মধ্যে ৭ বার লিড পেয়েছে। কিন্তু বিজেপি যেভাবে ব্যবধান কমাচ্ছে, ২০২৬-এ লড়াই খুবই টানটান হতে চলেছে। বিশেষ করে তাপস রায় বিজেপি-তে চলে যাওয়ায়, ওই কেন্দ্রে বিজেপি-র কিছুটা লাভই হতে পারে। কারণ, তাপস দীর্ঘদিনের বিধায়ক ছিলেন। এদিকে বাম–কংগ্রেস জোটও সামান্য হলেও নিজেদের সমর্থন ফিরে পাচ্ছে। তারা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক কিছুটা ভাগ করে নিতে পারলে সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
Parno mittra
BJP
Amal kumar mukhopadhyay
INC
Nota
NOTA
Subrata de
IND
Surajit ghosh
NRPI
Shyamal ck
IND
Sukumar ghosh
RSP
Sunil dey
BJP
Nota
NOTA
Shyamal
IND
Prabir chatterjee
RAJSP