
ভোটার তালিকা সংশোধনেই কি সমীকরণে বদল? এক সময়ের কমিউনিস্ট প্রভাবিত অঞ্চল এখন তৃণমূল-বিজেপি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। আর সেই কারণেই এখন রাজ্যবাসীর নজরে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পূর্ব।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া পূর্ব একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। ১৯৫১ সালে এই কেন্দ্র প্রথম গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশে ২০০৮ সালে কেন্দ্রটির বর্তমান রূপ তৈরি হয় এবং নাম পরিবর্তন হয়ে পাঁশকুড়া পূর্ব হয়। এর আগে ১৯৫৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত কেন্দ্রটির নাম ছিল পাঁশকুড়া পূর্ব (ইস্ট)।
১৯৫১ সালে পাঁশকুড়ায় দু'টি আসন ছিল। পাঁশকুড়া উত্তর এবং পাঁশকুড়া দক্ষিণ। সে বছর কংগ্রেস উভয় আসনে জয়ী হয়।...
ভোটার তালিকা সংশোধনেই কি সমীকরণে বদল? এক সময়ের কমিউনিস্ট প্রভাবিত অঞ্চল এখন তৃণমূল-বিজেপি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। আর সেই কারণেই এখন রাজ্যবাসীর নজরে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পূর্ব।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া পূর্ব একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। ১৯৫১ সালে এই কেন্দ্র প্রথম গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশে ২০০৮ সালে কেন্দ্রটির বর্তমান রূপ তৈরি হয় এবং নাম পরিবর্তন হয়ে পাঁশকুড়া পূর্ব হয়। এর আগে ১৯৫৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত কেন্দ্রটির নাম ছিল পাঁশকুড়া পূর্ব (ইস্ট)।
১৯৫১ সালে পাঁশকুড়ায় দু'টি আসন ছিল। পাঁশকুড়া উত্তর এবং পাঁশকুড়া দক্ষিণ। সে বছর কংগ্রেস উভয় আসনে জয়ী হয়। পাঁশকুড়া পূর্ব নামে যে ১৩টি নির্বাচন হয়েছে, সেখানে কমিউনিস্টদের প্রভাব ছিল বেশি। সিপিআই চারবার এবং সিপিআই(এম) তিনবার জয় পেয়েছে। কংগ্রেস তিনবার জয়ী হয়েছে। একবার করে জয় পেয়েছে এক নির্দল প্রার্থী, জনতা পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস। পুরো কোলাঘাট কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত।
পুনর্গঠন ও নাম পরিবর্তনের পরে তৃণমূল কংগ্রেস দু’বার এবং সিপিআই(এম) একবার এই আসনে জয় পেয়েছে। বিপ্লব রায়চৌধুরী, যিনি ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে এবং ২০০১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে পাঁশকুড়া পূর্ব (ইস্ট) আসনে জয়ী হয়েছিলেন, ২০১১ সালে পাঁশকুড়া পূর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে সিপিআই(এম)-এর অমিয় সাহুকে ১৩,১৬৭ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে ফলাফল উল্টে যায়। সে বার সিপিআই(এম)-এর শেখ ইব্রাহিম আলি বিপ্লব রায়চৌধুরীকে ৪,৭৬৭ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। ২০২১ সালে আবার বিপ্লব রায়চৌধুরী জয়ী হন। তিনি বিজেপির দেবব্রত পট্টনায়েককে ৯,৬৬০ ভোটে পরাজিত করেন।
ইদানিং পাঁশকুড়া পূর্বে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিজেপির কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। এর প্রতিফলন লোকসভা নির্বাচনের ফলেও দেখা গিয়েছে। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর থেকে ২০,৩৩৪ ভোটে এগিয়ে ছিল এবং ২০১৪ সালে সেই ব্যবধান ছিল ২৩,৬৩৩ ভোট। ২০১৯ সালে বিজেপির উত্থানের সঙ্গে তৃণমূলের ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৭,৩৮০ ভোট। ২০২৪ সালে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে ২,৭২১ ভোটে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়।
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে পাঁশকুড়া পূর্বে ভোটার সংখ্যা ৭,৬৬৩ কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির খসড়া তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ২,৩৭,১৯৪। ২০২৪ সালে ছিল ২,৪৪,৮৫৭। তার আগে ২০২১ সালে ২,৩৬,৩০৬, ২০১৯ সালে ২,২৭,২১৫, ২০১৬ সালে ২,১৫,৭৮১ এবং ২০১১ সালে ১,৮৬,১০৫। মোট ভোটারের মধ্যে মুসলিম ভোটার ১৯.৬০ শতাংশ, যা সবচেয়ে বড় অংশ। তফসিলি জাতি ভোটার ৮.৪৮ শতাংশ। ৮২.৬০ শতাংশ ভোটার গ্রামে বাস করেন এবং ১৭.৪০ শতাংশ শহরাঞ্চলে। ভোটদানের হার ধারাবাহিকভাবে বেশি। ২০১১ সালে ৮৭.৮৮ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৪.৬৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৯.৫২ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৪.০১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮১.৬৫ শতাংশ।
ভূপ্রকৃতির দিক থেকে পাঁশকুড়া পূর্ব পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উত্তরাংশে নিম্ন গঙ্গা বদ্বীপের সমতল পলিমাটির অঞ্চলে অবস্থিত। জমি নিচু এবং কৃষির উপযোগী। বর্ষায় নদীর জল উপচে পড়লে বন্যার সম্ভাবনা থাকে। খুব কাছ দিয়ে কংসাবতী ও কাঁসাই নদী প্রবাহিত। তাদের উপনদী ও সেচ খাল কৃষিকাজে সহায়তা করে।
ধান, আলু, পাট, সবজি ও তেলবীজ প্রধান ফসল। মৎস্যচাষ ও গ্রামীণ ব্যবসাও আয়ের উৎস। ছোট শিল্প এবং আশপাশের শহরে যাতায়াত করে কাজ করাও
জীবিকার অংশ। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও বাজার রয়েছে। এনএইচ–১৬ এবং রাজ্য সড়কের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ ভাল। হাওড়া–খড়্গপুর মূল লাইনে পাঁশকুড়া রেলস্টেশন রয়েছে, যেখান থেকে কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গায় ট্রেন চলাচল করে।
নিকটবর্তী শহরের মধ্যে পাঁশকুড়া শহর ৫–১০ কিলোমিটার, তমলুক ২৫–৩০ কিলোমিটার, কোলাঘাট ১০–১৫ কিলোমিটার, মেচেদা ২০ কিলোমিটার, খড়্গপুর ৪০ কিলোমিটার, হলদিয়া ৫০ কিলোমিটার এবং কলকাতা ৭০–৯০ কিলোমিটার দূরে। জেলার অন্য শহরের মধ্যে রয়েছে কাঁথি ও এগরা। পাশের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে।
খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৭,৬৬৩ নাম বাদ পড়েছে। চূড়ান্ত তালিকাতেও সেটা বহাল থাকলে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সামান্য লিডও ইঙ্গিতপূর্ণ। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পাঁশকুড়া পূর্বে তৃণমূল কংগ্রেসকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই ঘোলা জলে সিপিআই(এম) ও কংগ্রেসের মতো অন্য দলগুলিও মাছ ধরতে নামতে পারে, মত বিশ্লেষকদের।
Debabrata pattanayek
BJP
Ibrahim ali sk
CPI(M)
Chandramohan manik
SUCI
Nota
NOTA
Samir hossain
IND
Bimal poria
AMB
Tarun mandal
IUC
Biplab roy chowdhury
AITC
Aparna laskar
BJP
Narayan nayak
SUCI
Amiya kumar sahoo
BHNP
Nota
NOTA