
অসমের গোলাঘাট জেলায় অবস্থিত বোকাখাত বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক, দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে আগের কালিয়াবর লোকসভা কেন্দ্রের নাম বদলে এখন হয়েছে কাজিরাঙ্গা, আর সেই নতুন সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম হল বোকাখাত।
এই কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে বোকাখাত থানা এলাকা, গোলাঘাট থানার মহুরা মৌজা এবং ডেরগাঁও থানার রাঙ্গামাটি মৌজা, যেগুলি মূলত গোলাঘাট মহকুমার অন্তর্গত। বোকাখাত শহরটি নিজেই একটি মহকুমা সদর এবং সবচেয়ে বড় পরিচিতি, এটি কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের প্রবেশদ্বার। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান একশৃঙ্গ গণ্ডার ও বিপুল জীববৈচিত্র্যের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাত, যা এই কেন্দ্রকে বিশেষ পরিবেশ...
অসমের গোলাঘাট জেলায় অবস্থিত বোকাখাত বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক, দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে আগের কালিয়াবর লোকসভা কেন্দ্রের নাম বদলে এখন হয়েছে কাজিরাঙ্গা, আর সেই নতুন সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম হল বোকাখাত।
এই কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে বোকাখাত থানা এলাকা, গোলাঘাট থানার মহুরা মৌজা এবং ডেরগাঁও থানার রাঙ্গামাটি মৌজা, যেগুলি মূলত গোলাঘাট মহকুমার অন্তর্গত। বোকাখাত শহরটি নিজেই একটি মহকুমা সদর এবং সবচেয়ে বড় পরিচিতি, এটি কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের প্রবেশদ্বার। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান একশৃঙ্গ গণ্ডার ও বিপুল জীববৈচিত্র্যের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাত, যা এই কেন্দ্রকে বিশেষ পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব দিয়েছে।
রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই কেন্দ্রে মোট ১৩টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দুই দশকে কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, টানা পাঁচবার জয়ী হয়ে তারা শক্ত অবস্থান তৈরি করে। সব মিলিয়ে কংগ্রেস এই আসনে আটবার জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনবার এবং অসম গণ পরিষদ (AGP) দু’বার জয় পেয়েছে। ২০১১ সালে কংগ্রেস প্রার্থী অরুণ ফুকন অল্প ব্যবধানে জয় পেলেও, ২০১৬ সালে বিজেপি-এজিপি জোটের উত্থান ঘটে। এজিপি-র নেতা অতুল বোরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে আসনটি দখল করেন। ২০২১ সালেও তিনি একই ধারা বজায় রেখে আরও বড় ব্যবধানে জয় পান। লোকসভা নির্বাচনেও ধীরে ধীরে বিজেপি-এজিপি জোটের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত ২০১৪ সালের পর থেকে এই জোট ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে।
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১,৬৪,৬৪৮, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় ধারাবাহিক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তফসিলি উপজাতি এখানে বৃহত্তম গোষ্ঠী (১৮.৭৭%), তফসিলি জাতির হার ৯.২১%। মুসলিম ভোটারের সংখ্যা খুবই কম। এই কেন্দ্র মূলত গ্রামীণ, প্রায় ৯১% ভোটার গ্রামে বসবাস করেন। ভোটদানের হারও এখানে বরাবরই উল্লেখযোগ্য, ২০১৬ সালে তা ৮৫% ছুঁয়েছিল, যদিও বিভিন্ন বছরে কিছুটা ওঠানামা করেছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে বোকাখাতের মূল ভরসা কাজিরাঙ্গা-কেন্দ্রিক পর্যটন, চা বাগান, কৃষিকাজ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার উর্বর সমতল ভূমি এই অঞ্চলের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি কাইফো লাংসো জলপ্রপাত (কাকোচাং), দেওপর্বত ও নুমালিগড়ের ধ্বংসাবশেষের মতো পর্যটনস্থল এলাকাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পরিকাঠামোর দিক থেকেও এই অঞ্চল যথেষ্ট উন্নত। জাতীয় সড়ক ৭১৫ বোকাখাতের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মজবুত করেছে। রেল যোগাযোগের জন্য নিকটবর্তী স্টেশন ফুরকাটিং ও বাদুলিপার। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে গোলাঘাট, নুমালিগড়, ডেরগাঁও, জোরহাট ও তেজপুর। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি এখান থেকে প্রায় ২৪০-২৬৫ কিলোমিটার দূরে।
বর্তমানে বোকাখাত বিজেপি-এজিপি জোটের একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। টানা কয়েকটি নির্বাচনে তাদের দাপট স্পষ্ট। এজিপি নেতা অতুল বোরা আবারও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয় পেতে হলে কংগ্রেসকে অনেক বেশি সংগঠিত ও শক্তিশালী লড়াই গড়ে তুলতে হবে, এমনটাই মনে করছেন।
Input by: Ajay Jha
Pranab doley
IND
Jiten gogoi
IND
Jibon chandra borah
IND
Nota
NOTA
Reba kanta gogoi
ASMJTYP
Dulal bora
IND
Bijoy kutum
IND
Mridul saikia
NCP
Hemanta doloi
IND
Dinesh karmakar
IND
Simon tanti
IND
Arun phukan
INC
Anima gogoi
IND
Reba kanta gogoi
IND
Nota
NOTA
Bijoy kutum
IND
Mrityunjoy pegu
IND