
খোয়াং যেন নতুন বোতলে পুরনো মদ। এটি একটি নতুন বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার পর গঠিত হয়েছে এই আসন। ২০২৬ সালে প্রথমবার এই আসনে বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিতে চলেছে। এটি পূর্বের মোরান বিধানসভা কেন্দ্র-এর পরিবর্তে গঠিত হয়েছে।
খোয়াং ডিব্রুগড় জেলার একটি ছোট শহর এবং ডিব্রুগড় লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এটি অসমের উপরিভাগের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমভূমিতে অবস্থিত এখানকার ভূপ্রকৃতি মৃদু ঢেউখেলানো, যা দক্ষিণে বারালি রেঞ্জের পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত মোরান বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার লোকেরা BJP-র দিকে ঝুঁকেছে। মোরানে এখন পর্যন্ত ১৬টি বিধানসভা...
খোয়াং যেন নতুন বোতলে পুরনো মদ। এটি একটি নতুন বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার পর গঠিত হয়েছে এই আসন। ২০২৬ সালে প্রথমবার এই আসনে বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিতে চলেছে। এটি পূর্বের মোরান বিধানসভা কেন্দ্র-এর পরিবর্তে গঠিত হয়েছে।
খোয়াং ডিব্রুগড় জেলার একটি ছোট শহর এবং ডিব্রুগড় লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এটি অসমের উপরিভাগের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমভূমিতে অবস্থিত এখানকার ভূপ্রকৃতি মৃদু ঢেউখেলানো, যা দক্ষিণে বারালি রেঞ্জের পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত মোরান বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার লোকেরা BJP-র দিকে ঝুঁকেছে। মোরানে এখন পর্যন্ত ১৬টি বিধানসভা নির্বাচন (২০০৪-এর উপনির্বাচনসহ) হয়েছে। যার মধ্যে কংগ্রেস ১১ বার জয়ী হয়। দুইবার নির্দল প্রার্থী জয়ী হন। এরপর অসম গণ পরিষদ ২০০১ সালে একবার আসনটি জেতে। বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এজিপি-র টিকিটে জয়ী হন। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে অসমের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হন। ২০১৬ ও ২০২১—শেষ দুই নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়।
২০১১ সালে কংগ্রেসের জীবনতারা ঘাটোবার মোরান আসনে ২৯,৪৯৩ ভোটে এজিপি-র সুনীল রাজকনওয়ারকে পরাজিত করেন। এটি ছিল ঘাটোবরের টানা তৃতীয় জয়—২০০৪ উপনির্বাচন ও ২০০৬-এর পর। বিজেপি এই আসনে ২০০৬ ও ২০১১ সালে তৃতীয় স্থানে ছিল। ২০১৬ সালে চক্রধর গগৈ-কে এই আসনে প্রার্থী করে আসনটি জয়লাভ করেন। তিনি কংগ্রেসের পবন সিং ঘাটোবারকে-কে ১৬,২৩১ ভোটে হারান। ২০২১ সালে গগৈ আবারও জয়ী হন, এবার কংগ্রেসের প্রাঞ্জল ঘাটোবার-কে ২২,৩৪১ ভোটে পরাজিত করে।
লোকসভা নির্বাচনের ফলেও এই অঞ্চলে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি স্পষ্ট। ২০০৯ সালে মোরান বিধানসভা অংশে কংগ্রেস এজিপি-র থেকে ৫,৪৩৬ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে বিজেপি ৫,০৫১ ভোটে এগিয়ে যায় এবং ২০১৯ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২৯,১৬১। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও খোয়াং বিধানসভা অংশে বিজেপি তাদের লিড বজায় রাখে। ২০২৫ সালের SIR প্রক্রিয়ার পর ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য খোয়াং-এ মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৫৭,৩৬৩-তে। যা ২০২৪ সালের ১,৫৩,৯২৮ ভোটারের তুলনায় ৩,৪৩৫ জন বেশি। মোরান কেন্দ্রে আগে ভোটার সংখ্যা ছিল-২০২১ সালে ১,৩৯,০৫৫; ২০১৯ সালে ১,৩২,৯৪৩; ২০১৬ সালে ১,২১,২৯৪ জন এবং ২০১১ সালে ১,১৫,২৬৭ জন।
মোরানে তফসিলি উপজাতি ভোটার ছিল ১০.৬৬ শতাংশ, তফসিলি জাতি ৪.৪১ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ৫.১০ শতাংশ। এটি ছিল প্রধানত গ্রামীণ কেন্দ্র -মাত্র ৪.৪৬ শতাংশ ভোটার শহরে এবং ৯৫.৫৪ শতাংশ গ্রামে বসবাস করতেন। ভোটদানের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি। যেমন ২০১১ সালে ৭৮.৩৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৩.২৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৫.৯২ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮১.৫৩ শতাংশ। খোয়াং শহরটি ডিব্রুগড় জেলার মাঝে অবস্থিত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার উর্বর পলিমাটি সমভূমি, জলাভূমি (বিল) এবং দক্ষিণে বারাইল পাহাড়ের দিকে ধীরে ঢালু ভূপ্রকৃতি এখানে দেখা যায়। উর্বর মাটির কারণে কৃষি উন্নত হলেও নদীর বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
এলাকার অর্থনীতি মূলত চা চাষ, ধান উৎপাদন, তেলবীজ ফসল এবং আপার অসমের তেল ও কয়লা সম্পদের নিকটবর্তী হওয়ার উপর নির্ভরশীল। গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষি, কাঠ ও ক্ষুদ্র ব্যবসাই প্রধান জীবিকা। সড়কপথে জাতীয় ও রাজ্য সড়কের মাধ্যমে ডিব্রুগড়সহ অন্যান্য এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। রেল পরিষেবা পাওয়া যায় ডিব্রুগড় অঞ্চলের NFR এর রেল স্টেশনের মাধ্যমে। জেলা সদর ডিব্রুগড় থেকে এই আসন প্রায় ৪০–৬০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। কাছাকাছি অন্য শহরের মধ্যে রয়েছে মোরান, প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে দুলিয়াজান, নাহারকাটিয়া ও টিংখং। রাজ্যের রাজধানী দিসপুর প্রায় ৪৩০–৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। জেলার দক্ষিণ-পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত রয়েছে এবং সড়কপথে প্রায় ১০০–১২০ কিলোমিটার দূরে অরুণাচলের বর্ডুমসা বা মিয়াও শহরে পৌঁছানো যায়।
২০২৬ সালে খোয়াং -এ প্রথম বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে পূর্ববর্তী মোরান কেন্দ্রের নির্বাচনী ইতিহাস বিবেচনা করলে, দেখা যায় সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই অঞ্চলে বিজেপির ধারাবাহিক আধিপত্যের কারণে নতুন খোয়াং কেন্দ্রেও বিজেপি কংগ্রেসের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে থাকবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
Input by: Ajay Jha