
অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি বিধানসভা কেন্দ্র হল ধেমাজি। এটি একটি জেলা-স্তরের শহর। এখানে একটি পৌর বোর্ড রয়েছে। এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর। ধেমাজি বিধানসভা কেন্দ্র অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল জয়ী হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। বিজেপি টানা শেষ তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে এখানে জিতেছে। এছাড়া শেষ তিনটি লোকসভা নির্বাচনেও এখান থেকে এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া বাহিনী। মাথায় রাখতে হবে যে, ধেমাজি প্রধানত একটি গ্রামীণ ও আদিবাসী অধ্যুষিত কেন্দ্র। এটি তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত আসন।
ধেমাজি বিধানসভা কেন্দ্র লখিমপুর লোকসভা আসনের অন্তর্গত নয়টি বিধানসভা অংশের মধ্যে একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে...
অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি বিধানসভা কেন্দ্র হল ধেমাজি। এটি একটি জেলা-স্তরের শহর। এখানে একটি পৌর বোর্ড রয়েছে। এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর। ধেমাজি বিধানসভা কেন্দ্র অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল জয়ী হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। বিজেপি টানা শেষ তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে এখানে জিতেছে। এছাড়া শেষ তিনটি লোকসভা নির্বাচনেও এখান থেকে এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া বাহিনী। মাথায় রাখতে হবে যে, ধেমাজি প্রধানত একটি গ্রামীণ ও আদিবাসী অধ্যুষিত কেন্দ্র। এটি তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত আসন।
ধেমাজি বিধানসভা কেন্দ্র লখিমপুর লোকসভা আসনের অন্তর্গত নয়টি বিধানসভা অংশের মধ্যে একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ধেমাজি পৌর বোর্ডের সম্পূর্ণ এলাকা। এছাড়া ধেমাজি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, বর্ডোলোনি ব্লক ও মাচখোয়া ব্লকের কিছু অংশও এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে।
কবে তৈরি হয়?
এই কেন্দ্রটির ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ধেমাজি বিধানসভা কেন্দ্রে। এখনও পর্যন্ত এখানে ১৩টি নির্বাচন হয়েছে। ২০১৭ সালে এখানে উপনির্বাচনও হয়েছে। কংগ্রেস, অসম গণ পরিষদ (AGP) এবং বিজেপি, এই তিনটি দলই তিনবার করে এই আসন জিতেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র পার্টি এবং নির্দল প্রার্থীরাও দু’বার করে এই আসনে জয় পেয়েছেন। ২০০৬ সালে কংগ্রেসের সুমিত্রা পাতির এই আসনটি জেতেন। তিনি ২০১১ সালেও এটি ধরে রাখেন। তিনি AGP-এর পরমানন্দ সোনোয়ালকে ৭,২৮৫ ভোটে পরাজিত করেন। এই সময় বিজেপি তৃতীয় স্থানে ছিল। তবে ২০১৬ থেকে খেলা ঘুরে যায়। সেই বার বিজেপি প্রার্থী প্রদান বড়ুয়া ধেমাজি আসনে জয়ী হন। তরুণ গগৈ সরকারের মন্ত্রিসভায় সুমিত্রা পাতিরকে নির্বাচনের মাত্র এক বছরেরও কম সময়ের আগে মন্ত্রী করা হয়েছিল। তাতে অবশ্য ভোটে প্রভাব পড়েনি। যার ফলে ভোটের রেজাল্ট যায় বড়ুয়ার দিকে। তিনি ১৯,১২১ ভোটে হারিয়ে দেন সুমিত্রা পাতিরকে।
পরে বড়ুয়া লোকসভায় প্রার্থী হন। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৭ সালে এখানে উপনির্বাচন হয়। সেখানে বিজেপি প্রার্থী রনোজ পেগু কংগ্রেসের বাবুল সোনোয়ালকে ৯,২৮৫ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। ২০২১ সালের নির্বাচনে পেগু আরও বেশি ব্যবধানে এই সিটে জয় পান। তিনি অসম জাতীয় পরিষদ (AJP)-এর চিত্তরঞ্জন বসুমাতারিকে ৩০,৭৯২ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই কেন্দ্রের গুরুত্ব অসমে বেড়েছে।
লোকসভাতেও বিজেপি
লোকসভা নির্বাচনেও ধেমাজিতে বিজেপির উত্থান চোখে পড়ে। ২০০৯ সালে AGP কংগ্রেসের থেকে ৫,৪৭৫ ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি উপরে উঠে আসে। এরপর থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। ২০১৪ সালে বিজেপি কংগ্রেসের থেকে ৪৩,১৩৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। আর সেই ভোটে AGP তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। ২০১৯ সালে বিজেপির লিড কমে ২৬,৯৪৭ ভোটে দাঁড়িয়ে ছিল। কংগ্রেস ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আবারও ভাল ভোটে এগিয়ে ছিল।
কত ভোটার রয়েছেন এখানে?
২০২৬ সালের নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ধেমাজিতে ১,৭৮,৩১৯ জন ভোটার রয়েছেন। ২০২৪ সালের ১,৭১,১১৯ ভোটারের তুলনায় ৭,২০০ ভোটার বেড়েছে বেশি। ২০২৫ সালের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার (SIR) এখানে তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে ২০২৪ সালে ভোটার তালিকা থেকে বড় ধরনের ছাঁটাই হয়েছিল। সেই বার ২০২১ সালের ২,৪৮,৪২৩ ভোটারের তালিকা থেকে ৭৭,৩০৪ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালে ৭৭,৩০৪ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া ছিল রাজ্যজুড়ে একটি বড় ভোটার তালিকা সংশোধনের অংশ। সেবার মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার এবং ডুপ্লিকেট ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে কমিশন।
তবে বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে কংগ্রেস, অভিযোগ তোলে যে ফর্ম ৭ ব্যবহার করে সংখ্যালঘু ও বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের ইচ্ছে করে বাদ দিয়েছে। তবে ধেমাজিতে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা কম। এটি মূলত আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। তাই এখানে এই বিষয়ে তেমন কোনও প্রতিবাদ দেখা যায়নি। ফলে এখানকার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনও ঘটেনি। আর ২০২৪ সালেও এখানে বিজেপি শক্ত অবস্থান ধরে রাখে। ধেমাজি বিধানসভা কেন্দ্রে তফসিলি জনজাতি (ST) ভোটাররা সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। তাদের ভোটের ভাগ ৩৭.০৫ শতাংশ। তফসিলি জাতি (SC) ভোটারদের অংশ ৬.৪৩ শতাংশ। মুসলিম ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম।
এই কেন্দ্রটি প্রধানত গ্রামীণ। এখানে প্রায় ৯৫.৮৪ শতাংশ ভোটার গ্রামে বাস করেন। মাত্র ৪.১৬ শতাংশ শহরাঞ্চলে বাস করেন। ভোটদানের হার সাধারণত ওঠানামা করে। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৭৫.০৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮০.৮১ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭০.১৯ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৭৮.১৪ শতাংশ।
ধেমাজি শহরটি জেলা সদর এবং আপার অসমে অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তের কাছে অবস্থিত। অঞ্চলটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতল ও উর্বর জমি নিয়ে তৈরি হয়েছে। তবে নিম্নভূমি হওয়ায় এখানে বন্যার ঝুঁকি থাকে। এখান থেকেই দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া সুবনশিরি, গাইনাদি ও জিয়াধাল নদী এই অঞ্চলের আশপাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে। এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। ধান, চা ও সবজি চাষ হয়। এছাড়া এখানে মাছ চাষও হয়। সেই সঙ্গে হ্যান্ডলুম ও ছোটখাটো ব্যবসাও দেখা যায় এখানে।
এই এলাকা দিয়ে ন্যাশনাল হাইওয়ে ১৫ গিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজ্য সড়কের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। ধেমাজি রেলওয়ে স্টেশন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। কাছাকাছি শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলাপাথর (প্রায় ২৫ কিমি পশ্চিমে), জোনাই (প্রায় ৬০ কিমি পূর্বে), লখিমপুর (প্রায় ১০০ কিমি পশ্চিমে) এবং টিনসুকিয়া (আরও পূর্বে)। রাজ্যের রাজধানী এখান থেকে প্রায় ৪০০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে। অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত প্রায় ১০–২০ কিমি উত্তরে।
২০২৬ সালে কী হবে?
২০১৪ সাল থেকে ধেমাজিতে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। তারা টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচন জয় পেয়েছে এবং তিনটি লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এই আসনে বিজেপি-ই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামছে। অন্যদিকে কংগ্রেস বর্তমানে ধেমাজিতে নিজেদের প্রভাব পুনরুদ্ধারে বেশ সমস্যায় পড়েছে।
Input by: Ajay Jha
Chittaranjan basumatary
ASMJTYP
Sailen sonowal
INC
Nota
NOTA
Ayub khang brahma
IND
Hem kanta miri
SUCI
Sumitra doley patir
INC
Paramananda chayengia
IND
Sailen sonowal
IND
Gandheswar borah
CPM
Kiranban deori
LDP
Rajkumar doley
IND
Nota
NOTA
Durgeswar patir
LJP
Hem kanta miri
SUCI