
সোনারি বিধানসভা কেন্দ্রটি অসমের চরাইদেও জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরি আসন। যা যোরহাট লোকসভা আসনের অন্তর্গত ১০টি বিধানসভার একটি। ১৯৫১ সালে গঠিত এই কেন্দ্রটি এখনও পর্যন্ত ১৬টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। একসময় এটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে বর্তমানে ধীরে ধীরে BJP-র প্রভাব এখানে বেড়ে গিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল আহোম সাম্রাজ্যের পূর্ব সীমান্তের অংশ ছিল এবং পরে ব্রিটিশ আমলে চা শিল্পের বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পায়।
এই আসনে কংগ্রেস মোট ১২ বার জয়ী হয়েছে। তবে ১৯৮৫ সালে একটি ব্যতিক্রম দেখা যায়। যখন ভদ্রেশ্বর বর্গহাইন, যিনি ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ অসমের (ULFA) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। এরপর নির্দল ...
সোনারি বিধানসভা কেন্দ্রটি অসমের চরাইদেও জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরি আসন। যা যোরহাট লোকসভা আসনের অন্তর্গত ১০টি বিধানসভার একটি। ১৯৫১ সালে গঠিত এই কেন্দ্রটি এখনও পর্যন্ত ১৬টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। একসময় এটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে বর্তমানে ধীরে ধীরে BJP-র প্রভাব এখানে বেড়ে গিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল আহোম সাম্রাজ্যের পূর্ব সীমান্তের অংশ ছিল এবং পরে ব্রিটিশ আমলে চা শিল্পের বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পায়।
এই আসনে কংগ্রেস মোট ১২ বার জয়ী হয়েছে। তবে ১৯৮৫ সালে একটি ব্যতিক্রম দেখা যায়। যখন ভদ্রেশ্বর বর্গহাইন, যিনি ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ অসমের (ULFA) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। এরপর নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং পরে অসম গণ পরিষদে যোগ দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে BJP এই আসনে ৩ বার জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত।
২০১১ সালে কংগ্রেসের শরফ বারকোতকি পঞ্চমবারের মতো জয়ী হন। BJP-র অনুপ সিং রাজপুরোহিতকে ২৮ হাজার ৯০৪ ভোটে হারিয়ে। কিন্তু ২০১৬ সালে BJP-তে তপন কুমার গগৈ পরিস্থিতি বদলে দেন এবং কংগ্রেসের বরককিকে ২৪ হাজার ১১৭ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৯ সালে গগৈ লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ায় উপনির্বাচন হয়। যেখানে BJP-র নবমিতা হান্দিক কংগ্রেসের সুশীল কুমার সুরিকে ১৫ হাজার ৪৩০ ভোটে হারান। ২০২১ সালে আবার BJP-র ধর্মেশ্বর কোনার একই প্রতিদ্বন্দ্বী সুরিকে ১৫ হাজার ১১৭ ভোটে হারিয়ে আসনটি ধরে রাখেন।
লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সোনারিতে কংগ্রেস ও BJP-র মধ্যে গত ৪টি নির্বাচনে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গিয়েছে। ২০০৯ সালে কংগ্রেস এগিয়ে ছিল, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে BJP বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তবে ২০২৪ সালে কংগ্রেস আবার ফিরে এসে ১০ হাজার ৩৩৪ ভোটে লিড নেয়, যা এই আসনের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এখানে মোট ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৮৫৫ জন ভোটার রয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় সামান্য বেশি। সামাজিক গঠনের দিক থেকে কোনও একটি গোষ্ঠীর আধিপত্য নেই। মুসলিম ভোটার প্রায় ৫.৮০ শতাংশ, তফসিলি জনজাতি ২.৫৯ শতাংশ এবং তফসিলি জাতি ২.১৮ শতাংশ। এই আসনটি মূলত গ্রামীণ। প্রায় ৯২.৫০ শতাংশ ভোটার গ্রামে বাস করেন। ভোটদানের হারও অনেকটাই বেশি, যা ৮০ শতাংশের উপরে রয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে সোনারি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতল অঞ্চলে অবস্থিত। এর পাশ দিয়ে বুড়ি দিহিং নদী প্রবাহিত হয়েছে, যা কৃষি ও মাটির উর্বরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই অঞ্চল বন্যার ঝুঁকিতেও ভোগে। এখানে চা বাগান, কৃষিজমি এবং ছোটখাটো উঁচু-নিচু ভূমির বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। অর্থনীতি মূলত চা শিল্প, জ্বালানি সরবরাহ, ধান চাষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। বিস্তৃত চা বাগান কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং নিকটবর্তী তেলক্ষেত্র শিল্পগত গুরুত্ব বাড়ায়। যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও সোনারি যথেষ্ট ভাল আবস্থানে। জাতীয় সড়ক ৩৭ এবং অন্যান্য রাজ্য সড়ক দ্বারা এটি যোরহাট ও শিবসাগরের সঙ্গে যুক্ত। রেল পরিষেবা উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মাধ্যমে পাওয়া যায়। সোনারি নিজেই জেলা সদর শহর এবং এর আশেপাশে শিবসাগর ও যোরহাট গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী দিসপুর/গুয়াহাটি এখান থেকে প্রায় ৩৫০–৩৮০ কিমি দূরে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, BJP এই আসনে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন দেখায়। ষেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও জারি রয়েছে। ২০২৩ সালের সীমানা পরিবর্তনের ফলে নতুন ভোটার সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে BJP কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, স্থানীয় ইস্যু এবং অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি কাজে লাগাতে পারলে কংগ্রেসও লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারে।
Input by: Ajay Jha
Sushil kumar suri
INC
Gautom hatimuria
ASMJTYP
Nota
NOTA
Ratan hemrom
IND
Sarat barkataky
INC
Nota
NOTA
Ratan hemrom
IND
Anup bhowmik
JD(U)
Bishnu koya
BVM
Raymond kujur
JNCP
Monil bokalial
LDP