
অসমের মারিয়ানি বিধানসভা কেন্দ্রটি জোরহাট জেলার একটি গ্রামীণ কেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি আপার অসমের চা-বাগানসমৃদ্ধ অঞ্চলে অবস্থিত। একটা সময় এটি মূলত কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে বর্তমানে এখানে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব বাড়িয়েছে। ফলে এই আসনটির রাজনৈতিক সমীকরণ এখন বেশ পরিবর্তনশীল।
১৯৬৭ সালে গঠিত মারিয়ানি একটি সাধারণ (জেনারেল) শ্রেণির আসন। এ পর্যন্ত এখানে ১৪টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এই ১৪টি বিধানসভার মধ্যে ২০০৪ ও ২০২১ সালে দুটি উপনির্বাচনও রয়েছে। এই আসনে কংগ্রেস ১১ বার জিতেছে, একবার নির্দল প্রার্থী জিতেছেন, আর ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে টিএমসি এবং ২০২১ সালে বিজেপি জয় পেয়েছে। এই কেন্দ্রে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মা-ছেলের জুটি রূপ...
অসমের মারিয়ানি বিধানসভা কেন্দ্রটি জোরহাট জেলার একটি গ্রামীণ কেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি আপার অসমের চা-বাগানসমৃদ্ধ অঞ্চলে অবস্থিত। একটা সময় এটি মূলত কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে বর্তমানে এখানে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব বাড়িয়েছে। ফলে এই আসনটির রাজনৈতিক সমীকরণ এখন বেশ পরিবর্তনশীল।
১৯৬৭ সালে গঠিত মারিয়ানি একটি সাধারণ (জেনারেল) শ্রেণির আসন। এ পর্যন্ত এখানে ১৪টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এই ১৪টি বিধানসভার মধ্যে ২০০৪ ও ২০২১ সালে দুটি উপনির্বাচনও রয়েছে। এই আসনে কংগ্রেস ১১ বার জিতেছে, একবার নির্দল প্রার্থী জিতেছেন, আর ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে টিএমসি এবং ২০২১ সালে বিজেপি জয় পেয়েছে। এই কেন্দ্রে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মা-ছেলের জুটি রূপম কুর্মী এবং রূপজ্যোতি কুর্মী। রূপম কুর্মি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তিনবার জয়ী হন এই আসনে। পরে তাঁর ছেলে রূপজ্যোতি কুর্মী রাজনীতিতে আসেন। ২০০৬ সাল থেকে টানা পাঁচবার তিনি এই আসনে জিতেছেন। কিন্তু তাঁদের জেতার মার্জিন প্রতিবারই ছিল কম।
২০০৬ সালে প্রথম জয়ের পর তিনি ২০১১ সালে তৃণমূলের অলোক কুমার ঘোষকে পরাজিত করেন তিনি। ২০১৬ সালে তিনি ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী হিসেবে আবারও জিতেছিলেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি বিজেপির রমণী তাঁতিকে হারান। পরে দলীয় মতভেদের জেরে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। আর সেই বছরই অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ৪০,১০৪ ভোটে জয় নিশ্চিত করেন। তিনি কংগ্রেসের লুহিত কোনওয়ারকে হারান।
যদিও লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মারিয়ানি কেন্দ্রে ভোটের প্রবণতা কিছুটা আলাদা। ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে বিজেপি এখানে এগিয়ে ছিল। ২০০৯ সালে ৬০০৯ ভোটে, ২০১৪ সালে ১৬২৩৮ ভোটে এবং ২০১৯ সালে ১৪২৯১ ভোটে এগিয়ে থাকে বিজেপি। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এখানে কংগ্রেস ১৬,৭৮৫ ভোটে এগিয়ে যায়। মারিয়ানিতে ভোটার সংখ্যাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৬ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এখানে মোট ভোটার ১,৬৪,৯৮৯ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,৬২,৫৪২। যদিও ২০২৩ সালের বিশেষ তালিকা সংশোধনের সময় এখানে উল্লেখযোগ্যভাবে ভোটার বেড়েছে।
এই কেন্দ্রে কোনও নির্দিষ্ট সামাজিক বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রাধান্য নেই। এখানে মুসলিম ভোটার প্রায় ৫.২০ শতাংশ, তফসিলি জাতি ২.৫৩ শতাংশ এবং তফসিলি জনজাতি ১.২৮ শতাংশ। মোট ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮৭.৩৬ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন। আর ১২.৬৪ শতাংশ শহুরে। ভোটার উপস্থিতিও সাধারণত অনেকটাই বেশি। ২০১১ সালে ৭৯.৮৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৪.৪৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৮.৩১ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮২.১৫ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে মারিয়ানি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতল উর্বর অঞ্চলে অবস্থিত। এই কেন্দ্রের কাছ দিয়ে বয়ে গেছে ভোগদই নদী। এই নদী চা এবং অন্যান্য চাষে সাহায্য করে। এই কেন্দ্রের অর্থনীতির মূলত চা-বাগান, ধান চাষ, ছোটখাটো ব্যবসা ও বাগানের শ্রমের উপর নির্ভরশীল। সড়ক যোগাযোগের জন্য রয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে-৭১৫। এছাড়া রেল যোগাযোগের জন্য রয়েছে মারিয়ানি জংশন। এখানকার কাছাকাছি বিমানবন্দর হল জোরহাট বিমানবন্দর। এই কেন্দ্রের কাছেই রয়েছে জোরহাট, টিটাবর, গোলাঘাট তিতাবর, গোলাঘাট, শিবসাগর এবং নাগাল্যান্ডের দিমাপুরের মতো শহর। আর রাজধানী গুয়াহাটি মোটামুটি ৩০০ কিমি দূরে অবস্থিত।
এক সময়ের কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি মারিয়ানি ধীরে ধীরে বিজেপির ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা বিজেপির জন্য সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এখানে কংগ্রেস এগিয়ে যায়। এছাড়া ২০২২ সালের মারিয়ানি পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপি মাত্র ১০টির মধ্যে ৩টি ওয়ার্ড জিততে পারে। কংগ্রেস ও তাদের সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা জেতে ৭টি ওয়ার্ড।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনে মারিয়ানি কেন্দ্রটি আবারও বিরাট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে আসনটি কোন দলের দখলে যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।
Input by: Ajay Jha
Ramani tanti
BJP
Nota
NOTA
Gopal chandra ghatuwar
ASM
Alok kumar ghosh
NCP
Dulen nayak
BJP
Jintu hazarika
IND
Nota
NOTA
Diganta phukan
IND