
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: যোরহাট বিধানসভা কেন্দ্র
গুয়াহাটির পর অসমের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর যোরহাট রাজ্যের দ্রুততম বর্ধনশীল নগর কেন্দ্র। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব—এই তিনের মিলনে যোরহাট বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই বিধানসভা আসনটি খুব কাছাকাছি লড়াই ও কম ব্যবধানের ফলের জন্য পরিচিত। এটি একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র এবং যোরহাট জেলার অন্তর্গত। যোরহাট লোকসভা কেন্দ্রের মোট ১০টি বিধানসভা অংশের মধ্যে এটি একটি।
১৯৫১ সালে গঠিত যোরহাট বিধানসভা কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনের সাক্ষী। এর মধ্যে কংগ্রেস সাতবার জয়লাভ করেছে, অসম গণ পরিষদ (এজিপি) তিন বার, বিজেপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দু’বার করে, আর জনতা পার্টি এক বার জয় পেয়েছে।
এই...
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: যোরহাট বিধানসভা কেন্দ্র
গুয়াহাটির পর অসমের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর যোরহাট রাজ্যের দ্রুততম বর্ধনশীল নগর কেন্দ্র। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব—এই তিনের মিলনে যোরহাট বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই বিধানসভা আসনটি খুব কাছাকাছি লড়াই ও কম ব্যবধানের ফলের জন্য পরিচিত। এটি একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র এবং যোরহাট জেলার অন্তর্গত। যোরহাট লোকসভা কেন্দ্রের মোট ১০টি বিধানসভা অংশের মধ্যে এটি একটি।
১৯৫১ সালে গঠিত যোরহাট বিধানসভা কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনের সাক্ষী। এর মধ্যে কংগ্রেস সাতবার জয়লাভ করেছে, অসম গণ পরিষদ (এজিপি) তিন বার, বিজেপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দু’বার করে, আর জনতা পার্টি এক বার জয় পেয়েছে।
এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হিতেন্দ্র নাথ গোস্বামী। তিনি মোট পাঁচটি মেয়াদে ২৫ বছর ধরে যোরহাটের বিধায়ক ছিলেন—এর মধ্যে টানা তিন বার এজিপি-র হয়ে এবং দু’বার বিজেপির হয়ে। কংগ্রেসের রানা গোস্বামীর সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব যোরহাটের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে রয়েছে। চার বার তাঁরা মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে দু’জনই দু’বার করে জয় পেয়েছেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই গোস্বামীর মুখোমুখি লড়াই আর দেখা যাবে না। কারণ, রানা গোস্বামী ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং বর্তমানে বিজেপির অসম প্রদেশ শাখার সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন।
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রানা গোস্বামী কংগ্রেসের হয়ে যোরহাট কেন্দ্র ধরে রাখেন, এজিপি-র হিতেন্দ্র নাথ গোস্বামীকে ৩৭,৯৭১ ভোটে পরাজিত করে। এটি ছিল হিতেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁর টানা দ্বিতীয় জয়—এর আগে ২০০৬ সালে তিনি ৪,৮৮০ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। তবে ২০১৬ সালে ফলাফলে বড়সড় উলটপুরাণ ঘটে। বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে হিতেন্দ্র গোস্বামী ১৩,৬৩৮ ভোটে রানা গোস্বামীকে পরাজিত করেন। ২০২১ সালেও এই দুই নেতা আবার মুখোমুখি হন, তবে সে বার ব্যবধান কমে দাঁড়ায় মাত্র ৬,৪৮৮ ভোটে, তবুও বিজেপির হয়ে হিতেন্দ্র গোস্বামী আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন।
লোকসভা নির্বাচনে যোরহাট বিধানসভা অংশের ভোটের প্রবণতাও বিজেপির উত্থান এবং কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ২০০৯ সালে কংগ্রেস বিজেপির থেকে ২,৮৭৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে বিজেপির যুগের সূচনা হয়—সেই বছর বিজেপি কংগ্রেসকে ২৫,০৯৯ ভোটে পিছনে ফেলে। ২০১৯ সালেও বিজেপি এগিয়ে থাকে, যদিও ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ১৩,৬৬৪ ভোটে। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিজেপির থেকে লিড ছিনিয়ে নেয়। এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে যোরহাটে কংগ্রেস কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও রাজনৈতিক লড়াই থেকে একেবারে ছিটকে যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী যোরহাট বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১,৪৮,২৮০। এটি ২০২৪ সালের ১,৪৬,৭৩১ ভোটারের তুলনায় ১,৫৪৯ জন বেশি। তবে ২০২৪ সালে যোরহাটে ভোটার সংখ্যায় বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গিয়েছিল—২০১৯ সালের ১,৭৫,২৬৭ ভোটার থেকে কমে গিয়েছিল ২৮,৫৩৬ জন। বর্তমান ভোটার সংখ্যা ২০১৬ সালের ১,৬৩,৭৯৩ এবং ২০১১ সালের ১,৫৩,৯৫৯ ভোটারের থেকেও কম।
এখানে তফসিলি জাতি (SC) ভোটার ৮.০৪ শতাংশ এবং তফসিলি জনজাতি (ST) ভোটার ১.৯৫ শতাংশ। মুসলিম ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম—মোট ভোটারের ৭ শতাংশেরও নিচে। অসমের দ্রুততম বর্ধনশীল শহর হওয়ায় যোরহাটে শহুরে ভোটারের প্রাধান্য স্পষ্ট—মোট ভোটারের ৬৪.৮৭ শতাংশ শহরে বসবাস করেন, আর ৩৫.১৩ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায়।
শহুরে কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও যোরহাটে ভোটদানের হার বরাবরই উল্লেখযোগ্য। ২০১১ সালে ভোটদান ছিল ৬৮.২০ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯.৮৬ শতাংশে। ২০১৯ সালে ভোটদান ছিল ৭২.২৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৭৫.১০ শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৮৩ সালে অসম আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে নির্বাচন বয়কটের ডাকের ফলে যোরহাটে ভোটদান নেমে এসেছিল মাত্র ১.৮৪ শতাংশে—সেইবার মাত্র ১,২২৭ জন ভোটার ভোট দিয়েছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে যোরহাট উচ্চ অসমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনামলে এটি একটি প্রধান শহর হিসেবে গড়ে ওঠে এবং পরে সিবসাগর জেলা থেকে আলাদা হয়ে যোরহাট জেলা সদর হয়। ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত সংকীর্ণ রেলপথ (ন্যারো গেজ) যোরহাটকে অসমের চা শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। যোরহাটকে অসমের ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’ বলেও মনে করা হয়। সাহিত্যিক, সঙ্গীতশিল্পী, অভিনেতা, ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক তৈরির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে এই শহরের। অসম সাহিত্য সভার সদর দপ্তর, সত্রিয়া নৃত্য, বিহু উৎসব ও নানা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শতাব্দী প্রাচীন অসমিয়া সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারক।
ভৌগোলিকভাবে যোরহাট উচ্চ অসমের সমতলে ভোগদৈ নদীর তীরে অবস্থিত—এই নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি উপনদী। এখানকার ভূমি উর্বর ও প্রায় সমতল, যা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বহন করে। অর্থনীতি মূলত চা-বাগান ও প্ল্যান্টেশন, ধান ও সবজি চাষ, ব্যবসা, ক্ষুদ্র শিল্প, শিক্ষা ও বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল। যোরহাটে রয়েছে এশিয়ার প্রাচীনতম গলফ কোর্স—যোরহাট জিমখানা ক্লাব। পরিকাঠামোর দিক থেকে জাতীয় সড়ক ৭১৫-সহ একাধিক মহাসড়কের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ উন্নত। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের অন্তর্ভুক্ত যোরহাট রেলস্টেশনও একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ কেন্দ্র।
নিকটবর্তী শহরগুলির মধ্যে রয়েছে গোলাঘাট (প্রায় ৫৫ কিলোমিটার পূর্বে), মারিয়ানি (১৮ কিলোমিটার পূর্বে), তিতাবর (২০ কিলোমিটার দক্ষিণে), শিবসাগর (৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে), তিওক (৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে) এবং ডেরগাঁও (৩৫ কিলোমিটার পশ্চিমে)। রাজ্য রাজধানী দিসপুর (গুয়াহাটির উপশহর) যোরহাট থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে।
যোরহাটে SIR-এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হলেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের লিড এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কম ব্যবধানের জয় ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তবুও সামগ্রিক বিচারে যোরহাটে বিজেপি এখনও কংগ্রেসের থেকে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে একটি হাড্ডাহাড্ডি দ্বিমুখী লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত।
By Ajay Jha
Rana goswami
INC
Nirod changkakoti
ASMJTYP
Nota
NOTA
Ranjit baruah
IND
Rana goswami
INC
Nirmal chandra gogoi
CPM
Prodyut kumar bora
LDP
Nota
NOTA
Sanjeev rajkhowa
AIUDF
Bhaskar jyoti mahanta
IND
Jibon chandra sarmah
IND