
অসমের শিবসাগর জেলায় অবস্থিত নাজিরা বিধানসভা কেন্দ্রটি জোরহাট লোকসভা আসনের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি একটি সাধারণ শ্রেণীর আসন। দিখৌ নদীর তীরে গড়ে ওঠা নাজিরা শহর আহোম যুগের ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত, যা এই অঞ্চলকে একটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব দিয়েছে।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নাজিরা মোট ১৬টি বিধানসভা নির্বাচনের সাক্ষী। এর মধ্যে ১৯৮৮ সালের একটি উপ-নির্বাচনও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রটি কংগ্রেসের অটল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, মোট ১৪ বার জয় পেয়েছে তারা। এই আধিপত্য প্রথম ভাঙে ১৯৮৮ সালে, যখন এজিপি জয়ী হয়। পরে ২০০৬ সালে সিপিআই একবার এই আসন দখল করে।
এই কেন্দ্রটি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শইকিয়ার পরিবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেও পরিচিত। তিনি নিজে পাঁচবার ...
অসমের শিবসাগর জেলায় অবস্থিত নাজিরা বিধানসভা কেন্দ্রটি জোরহাট লোকসভা আসনের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি একটি সাধারণ শ্রেণীর আসন। দিখৌ নদীর তীরে গড়ে ওঠা নাজিরা শহর আহোম যুগের ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত, যা এই অঞ্চলকে একটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব দিয়েছে।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নাজিরা মোট ১৬টি বিধানসভা নির্বাচনের সাক্ষী। এর মধ্যে ১৯৮৮ সালের একটি উপ-নির্বাচনও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রটি কংগ্রেসের অটল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, মোট ১৪ বার জয় পেয়েছে তারা। এই আধিপত্য প্রথম ভাঙে ১৯৮৮ সালে, যখন এজিপি জয়ী হয়। পরে ২০০৬ সালে সিপিআই একবার এই আসন দখল করে।
এই কেন্দ্রটি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শইকিয়ার পরিবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেও পরিচিত। তিনি নিজে পাঁচবার জয়ী হয়েছেন। তাঁর স্ত্রী হেমপ্রভা শইকিয়া দু’বার এবং তাঁদের পুত্র দেবব্রত শইকিয়া ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার জয়ী, সব মিলিয়ে শইকিয়া পরিবারের ঝুলিতে রয়েছে ১০টি জয়।
২০১১ সালে কংগ্রেস প্রার্থী দেবব্রত শইকিয়া সিপিআই-এর দ্রুপদ বরগোহাঁইকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে তিনি বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে আসন ধরে রাখেন। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে লড়াই অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে, বিজেপির ময়ূর বরগোহাঁইয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ৬৮৩ ভোটে জয় পান তিনি। লোকসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নাজিরায় কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র দোলাচলপূর্ণ লড়াই চলছে। কখনও কংগ্রেস এগিয়ে, আবার কখনও বিজেপি, এই ওঠানামা কেন্দ্রটির রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার তীব্রতাকেই তুলে ধরে।
২০২৬ সালের আগে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, নাজিরায় মোট ভোটার সংখ্যা ১,৮২,১৯৬, যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক দশকে এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে মূলত নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের ভূমিকা রয়েছে।
জনসংখ্যার গঠনে মুসলিম ভোটার প্রায় ১৩.৮০ শতাংশ। তফসিলি জাতি ও উপজাতির হার তুলনামূলকভাবে কম। এই কেন্দ্র মূলত গ্রামীণ, প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। ভোটদানের হারও এখানে বরাবরই ভাল, যা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের একটি ইতিবাচক দিক।
অর্থনৈতিক দিক থেকে নাজিরা প্রধানত কৃষিনির্ভর এলাকা। ধান ও চা চাষ এখানে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মৎস্যচাষ, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং কাছাকাছি ONGC-র তেলক্ষেত্র থেকে কিছু অর্থনৈতিক কার্যকলাপও এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও যথেষ্ট উন্নত। জাতীয় সড়ক ৩৭ এবং বিভিন্ন রাজ্য সড়কের মাধ্যমে সংযোগ রয়েছে। রেল যোগাযোগের জন্য নিকটবর্তী সিমালুগুড়ি জংশন গুরুত্বপূর্ণ। আশেপাশের শহরগুলির মধ্যে রয়েছে শিবসাগর, আমগুড়ি, সোনারি ও জোরহাট। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি এখান থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে। সাম্প্রতিক সময়ে নাজিরা কেন্দ্রটি কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সামান্য ব্যবধানেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হচ্ছে। তাই ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে আবারও এক উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই দেখার সম্ভাবনা প্রবল। এখন দেখার, ভোটাররা কি শইকিয়া পরিবারের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের সমর্থন বজায় রাখবেন, নাকি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে ঝুঁকবেন।
Input by: Ajay Jha
Mayur borgohain
BJP
Ribulaya gogoi
ASMJTYP
Nota
NOTA
Mintu boruah
IND
Horen borgohain
AIFB
Prohlad gowala
BJP
Kanak gogoi
CPI
Ribulaya gogoi
IND
Nota
NOTA