
অসমের উপরিভাগের যোরহাট জেলার একটি ছোট শহর হল তেওক। যা যোরহাট লোকসভা কেন্দ্রের ১০টি বিধানসভার একটি। ১৯৫১ সালে গঠিত এই কেন্দ্রটিতে এখন পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। ‘তেওক’ নামটি তাই ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ দুধ ও ঘির দেশ - এলাকার ঐতিহাসিক কৃষি সমৃদ্ধির প্রতিফলন এতে ফুটে ওঠে। ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ তীর বরাবর উর্বর সমতল ভূমিতে অবস্থিত এই অঞ্চলটি চা-বাগান ও ধানক্ষেত সমৃদ্ধ সবুজে ঘেরা গ্রামীণ পরিবেশের জন্য পরিচিত।
এই আসনে ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসই সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি। এখন পর্যন্ত হাত শিবির আটবার তেওক আসন জিতেছে। এছাড়াও, অসম গণপরিষদ (এজিপি) চারবার, আর সিপিআই, জনতা পার্টি ও একজন নির্দল প্রার্থী একবার করে জয়ী হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শ...
অসমের উপরিভাগের যোরহাট জেলার একটি ছোট শহর হল তেওক। যা যোরহাট লোকসভা কেন্দ্রের ১০টি বিধানসভার একটি। ১৯৫১ সালে গঠিত এই কেন্দ্রটিতে এখন পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। ‘তেওক’ নামটি তাই ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ দুধ ও ঘির দেশ - এলাকার ঐতিহাসিক কৃষি সমৃদ্ধির প্রতিফলন এতে ফুটে ওঠে। ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ তীর বরাবর উর্বর সমতল ভূমিতে অবস্থিত এই অঞ্চলটি চা-বাগান ও ধানক্ষেত সমৃদ্ধ সবুজে ঘেরা গ্রামীণ পরিবেশের জন্য পরিচিত।
এই আসনে ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসই সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি। এখন পর্যন্ত হাত শিবির আটবার তেওক আসন জিতেছে। এছাড়াও, অসম গণপরিষদ (এজিপি) চারবার, আর সিপিআই, জনতা পার্টি ও একজন নির্দল প্রার্থী একবার করে জয়ী হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শইকিয়ার ভগ্নিপতি কংগ্রেসের মেম্বোর গগৈ ২০১১ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়ী হন। তখন তিনি এজিপির হেমন্ত কলিতাকে ৩০,৩৩৩ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে তাঁর মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়ে পড়লে এজিপি প্রার্থী রেণুপোমা রাজখোয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের পল্লবী শইকিয়া গগৈকে ৫,৫৪৯ ভোটে পরাজিত করে আসনটি দখল করেন। ২০২১ সালে আবারও তাঁদের মধ্যে লড়াই হয় এবং সেই বার রাজখোয়ার জয়ের ব্যবধান কমে মাত্র ১,৩৫০ ভোটে দাঁড়ায়। ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য কংগ্রেস আবারও পল্লবী গগৈকেই প্রার্থী করেছে।
লোকসভা নির্বাচনে তেওক বিধানসভা অংশটি মিশ্র রায় দিয়েছে। ২০০৯ সালে কংগ্রেস বিজেপির থেকে ৩,৩২০ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে পরিস্থিতি বদলে বিজেপি ৮,৮২১ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে এই ব্যবধান কমে ৬,৩২৫ ভোটে দাঁড়ায়। তবে ২০২৪ সালে কংগ্রেস বড় ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ায় এবং বিজেপিকে ২৩,৩৭৭ ভোটে পিছনে ফেলে দেয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী তেওক কেন্দ্রে মোট ১,৯৭,৯৬৪ জন ভোটার রয়েছে। যা ২০২৪ সালের ১,৯২,২০৬ জন ভোটারের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার বেশি। ২০২৫ সালের SIR-এর প্রভাব এখানে তুলনামূলকভাবে কম পড়লেও ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে ৬০,৯০৮ জন নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় কংগ্রেস বড় সুবিধা পেয়েছিল এবং বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে কম ব্যবধানের ধারাবাহিকতা ভাঙতে সক্ষম হয়।
এর আগে ২০২১ সালে ভোটার সংখ্যা ছিল ১,৩১,২৯৮ জন, ২০১৯ সালে ১,৪৩,৬৩৭ জন, ২০১৬ সালে ১,১৭,০৮৪ জন এবং ২০১১ সালে ছিলেন ১,১৩,২০৩ জন ভোটার।
এই কেন্দ্রে তফসিলি জাতির ভোটার ৬.২৩ শতাংশ এবং তফসিলি জনজাতির ভোটার ৫.২৪ শতাংশ। মুসলিম ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে খুবই কম। অন্যদিকে এটি প্রধানত গ্রামীণ এলাকা। মোট ভোটারের মধ্যে ৯৪.৯১ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন, আর মাত্র ৫.০৯ শতাংশ শহরাঞ্চলে, যারা তেওক পৌরসভার মধ্যেই বাস করেন। ভোটদানের হার সবসময়ই এই আসনে বেশি । ২০১১ সালে ৭৬.৮৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮০.৬১ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭২.৫৯ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭৮.৯২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭.৪৬ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে তেওক কেন্দ্রটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতল অলুভিয়াল ভূমি নিয়ে গঠিত, যদিও কিছু অংশে হালকা ঢেউখেলানো ভূপ্রকৃতি রয়েছে। এই অঞ্চল চা-বাগান ও ধানচাষের জন্য উপযোগী হলেও মৌসুমি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। এখানকার মানুষের জীবিকা প্রধানত চা চাষ, ধানচাষ, ছোট ব্যবসা এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট কাজের উপর নির্ভরশীল। বিস্তীর্ণ চা-বাগান ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র বহু মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস, আর গ্রামীণ পরিবারের আয়ের মূল ভরসা ধানচাষ। উর্বর মাটি ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এই কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে।
পরিকাঠামোর দিক থেকে জাতীয় সড়ক ৩৭ এবং রাজ্য সড়কের মাধ্যমে যোরহাট ও গোলাঘাটের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। নিকটবর্তী মারিয়ানি বা ফুরকাটিং রেলস্টেশন থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে রেল যোগাযোগের সুবিধা পাওয়া যায়। শহর ও গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক নাগরিক পরিষেবা রয়েছে এবং চা শিল্প ও গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে কাজ চলছে। জেলা সদর যোরহাট শহর তেওক থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী দিসপুর বা গুয়াহাটি প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।
২২০২৬ সালের নির্বাচনে শাসক এনডিএ এই আসনটি আবার এজিপিকে ছেড়ে দেয় কি না, বা পল্লবী শইকিয়া গগৈ তৃতীয় প্রচেষ্টায় ভাগ্য ফেরাতে পারেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তুঙ্গে। ফলে তেওক বিধানসভা কেন্দ্রটি আসন্ন নির্বাচনে এক অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হয়ে উঠতে চলেছে।
Input by: Ajay Jha
Pallabi gogoi
INC
Kabindra chetia phukan
IND
Nota
NOTA
Simanta kumar dutta
IND
Rubi neog
LJP
Pallabi saikia gogoi
INC
Gojanand munda
IND
Bubul dutta
IND
Mohendra kumar gogoi
IND
Jiten tanti
CPI(ML)(L)
Nota
NOTA
Ranjan jyoti phukon
IND
Chiranjit borah
IND
Krishnaa gogoi
IND
Ashraf hussain
IND
Jotin saikia
IND