
অসমের গোলাঘাট বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। এটি বর্তমানে কাজিরাঙা লোকসভা আসনের অন্তর্গত। আগে এটি কালিয়াবর লোকসভা আসনের অংশ ছিল। তবে ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর এর অবস্থান বদলে যায়। ঐতিহাসিকভাবে এই কেন্দ্রটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে BJP এখানে ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করেছে।
গোলাঘাটের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিয়োগ পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। নগেন নিয়োগ কংগ্রেসের হয়ে ২ বার এই আসন থেকে জিতেছিলেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী অজন্তা নিয়োগ রাজনীতিতে আসেন এবং ২০০১ সাল থেকে টানা ৫ বার জয়ী হয়ে অপ্রতিরদ্ধ থেকেছেন। প্রথম ৪ বার তিনি কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জিতলেও ২০২১ সালে BJP-তে যোগ দ...
অসমের গোলাঘাট বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। এটি বর্তমানে কাজিরাঙা লোকসভা আসনের অন্তর্গত। আগে এটি কালিয়াবর লোকসভা আসনের অংশ ছিল। তবে ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর এর অবস্থান বদলে যায়। ঐতিহাসিকভাবে এই কেন্দ্রটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে BJP এখানে ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করেছে।
গোলাঘাটের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিয়োগ পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। নগেন নিয়োগ কংগ্রেসের হয়ে ২ বার এই আসন থেকে জিতেছিলেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী অজন্তা নিয়োগ রাজনীতিতে আসেন এবং ২০০১ সাল থেকে টানা ৫ বার জয়ী হয়ে অপ্রতিরদ্ধ থেকেছেন। প্রথম ৪ বার তিনি কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জিতলেও ২০২১ সালে BJP-তে যোগ দিয়ে ওই দলের হয়ে জয়ী হন। তাঁর এই দলবদল গোলাঘাটে BJP-র শক্তি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নেয়।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, লড়াই ধীরে ধীরে কঠিন হয়েছে। ২০১১ সালে অজন্তা নিয়োগ বিপুল ব্যবধানে জিতলেও ২০১৬ সালে সেই ব্যবধান অনেক কমে যায়। ২০২১ সালে আবার ব্যবধান কিছুটা বাড়ে, তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রই থাকে। লোকসভা নির্বাচনেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। কংগ্রেসের প্রভাব ধীরে ধীরে কমেছে এবং ২০২৪ সালে BJP এই অঞ্চলে এগিয়ে গিয়েছে।
জনসংখ্যার দিক থেকে গোলাঘাট একটি বৈচিত্র্যময় কেন্দ্র, যেখানে কোনও একক সামাজিক বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর আধিপত্য নেই। ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী এখানে প্রায় ২ লক্ষের কিছু বেশি ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে তফসিলি জনজাতি, তফসিলি জাতি এবং মুসলিম ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি থাকলেও কেউই এককভাবে নির্ণায়ক নয়। এই কেন্দ্রটি প্রধানত গ্রামীণ, যেখানে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। ভোটদানের হারও বরাবরই স্থিতিশীল।
অর্থনৈতিকভাবে গোলাঘাট চা শিল্পের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে বহু বড় চা বাগান রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি নুমালিগড় রিফাইনারি এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কেন্দ্র। কৃষিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে ধান চাষ। এছাড়া চন্দনকাঠের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবেও গোলাঘাটের আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
পরিকাঠামোর দিক থেকেও গোলাঘাট যথেষ্ট উন্নত। এটি যোরহাট ও দিমাপুরের সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত।রেল ও বিমান যোগাযোগও সহজলভ্য। এই যোগাযোগ ব্যবস্থা গোলাঘাটকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ঘিরে গোলাঘাটে এক তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও ভারতীয় জনতা পার্টি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এগিয়ে রয়েছে, তবুও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস তাদের পুরনো ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এই আসনে ফলাফল নির্ধারণে ব্যক্তি প্রভাব, বিশেষ করে অজন্তা নিয়োগের জনপ্রিয়তা, এবং দলীয় সংগঠনের শক্তি, ২ টিই বড় ভূমিকা পালন করবে।
Input by- Ajay Jha
Bitupan saikia
INC
Rina saikia
ASMJTYP
Nota
NOTA
Bitupan saikia
BJP
Syed jahid abdullah
AIUDF
Nota
NOTA
Dipankar das
IND