
অসমের উপরিভাগে অবস্থিত লখিমপুর বিধানসভা কেন্দ্র একটি সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনটি অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। ঐতিহাসিকভাবে এই এলাকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্রিটিশ শাসনকালে উনিশ শতকে এখানেই প্রথম চা বাগান তৈরি করা হয়, যা অসমের বিখ্যাত চা শিল্পের ভিত্তি গড়ে তোলে।
রাজনৈতিক দিক থেকে লখিমপুর বরাবরই ভোটারদের পরিবর্তনশীল মনোভাবের প্রতিফলন দেখিয়েছে। এই কেন্দ্রে টানা কোনও একক দল নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি ধীরে ধীরে বিজেপি-র শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে BJP এই সিট জয় করে এবং সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের প্রতিটিতেই এই কেন্দ্রে এগিয়ে থেকেছে। এটি লখিমপুর লোকসভার অন্তর্গত নয়টি বিধানসভা ক...
অসমের উপরিভাগে অবস্থিত লখিমপুর বিধানসভা কেন্দ্র একটি সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনটি অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। ঐতিহাসিকভাবে এই এলাকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্রিটিশ শাসনকালে উনিশ শতকে এখানেই প্রথম চা বাগান তৈরি করা হয়, যা অসমের বিখ্যাত চা শিল্পের ভিত্তি গড়ে তোলে।
রাজনৈতিক দিক থেকে লখিমপুর বরাবরই ভোটারদের পরিবর্তনশীল মনোভাবের প্রতিফলন দেখিয়েছে। এই কেন্দ্রে টানা কোনও একক দল নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি ধীরে ধীরে বিজেপি-র শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে BJP এই সিট জয় করে এবং সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের প্রতিটিতেই এই কেন্দ্রে এগিয়ে থেকেছে। এটি লখিমপুর লোকসভার অন্তর্গত নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি।
১৯৭২ সালে এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে লাখিমপুরে মোট ১১টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কংগ্রেস এবং অসম গণ পরিষদ—দুটি দলই চারবার করে জয়ী হয়েছে। এছাড়াও বাম, নির্দল প্রার্থী এবং বিজেপি-প্রত্যেকেই একবার করে এই আসনে জয়ী হয়েছে। এজিপি-র উৎপল দত্ত এই কেন্দ্র থেকে পাঁচবার জয়ী হয়েছেন, যার মধ্যে ১৯৮৫ সালে একবার নির্দল প্রার্থী হিসেবেও তিনি জিতেছিলেন। ২০১১ সালে তিনি কংগ্রেসের তৎকালীন বিধায়ক ঘানাকে ১,০৯৯ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে আবারও জয় পান তিনি, কংগ্রেসের জয়প্রকাশ দাসকে ৪,১৫৫ ভোটে হারিয়ে।
২০২১ সালে বিজেপি প্রার্থী মানব ডেকা লখিমপুর আসনটি দখল করেন। তিনি কংগ্রেসের জয় প্রকাশ দাসকে ৩,০৩৬ ভোটে হারান। এদিকে এজিপি-র উৎপল দত্ত মাত্র ৭.৯৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যান, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ২৫.৮৯ শতাংশ কম। বিজেপি ২০১৬ সালে আসনটি লড়েনি, তবে ২০১১ সালে তাদের প্রাপ্ত ১.৮০ শতাংশ ভোটের তুলনায় ২০২১ সালে তারা ৩২.০৮ শতাংশ বেশি ভোট পায়।
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থান
বিধানসভা নির্বাচনের আগেই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালে কংগ্রেস এজিপি-কে ১১,৮৬৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপি ২৯,৮৪১ ভোটে এগিয়ে যায় এবং ২০১৯ সালে সেই ব্যবধান ছিল ২৫,২৯৬ ভোট। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি এই কেন্দ্রের বিধানসভা অংশে তাদের লিড বজায় রাখে।
ভোটার তালিকা ও SIR প্রভাব
২০২৫ সালের SIR প্রক্রিয়ার প্রভাব লখিমপুরে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ১,৬৩,৫২৬, যা ২০২৪ সালের ১,৬৫,৯৯১ ভোটারের তুলনায় ২,৪৬৫ কম। তবে ২০২৩ সালের অনুরূপ প্রক্রিয়ায় ২০২১ সালের তালিকা থেকে ১৯,৮২৯ জনের নাম বাদ পড়েছিল। ভোটার সংখ্যা ২০১১ সালে ছিল ১,৪১,০৭০; ২০১৬ সালে ১,৫৯,৩৩১; ২০১৯ সালে ১,৭৪,৭১৯ এবং ২০২১ সালে ১,৮৫,৮২০।
লখিমপুরে তফসিলি উপজাতি (ST) ভোটারই সবচেয়ে বড় অংশ-২৩.৭৯ শতাংশ। মুসলিম ভোটার ১৭.২০ শতাংশ এবং তফসিলি জাতি (SC) ৯.৫৭ শতাংশ। কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ—মোট ভোটারের ৭৫.৯৬ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন, আর ২৪.০৪ শতাংশ বাস করেন জেলা সদর শহরে। এই বিধানসভায় ভোটার উপস্থিতি বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ৭৮.৪৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৪.৭৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে সর্বনিম্ন ৭৪.৩৬ শতাংশ এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৮৬.২৮ শতাংশ ভোট পড়ে। প্রাচীনকালে পূর্ব দিক থেকে আগত উপজাতিরা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বসতি স্থাপন করে। স্বাধীনতার পর মূল লাখিমপুর জেলা থেকে ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া ও ধেমাজি জেলা পৃথক করা হয়। ভৌগোলিকভাবে এটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতল উর্বর ভূমি, যা প্রায়ই বন্যাপ্রবণ। গড় উচ্চতা প্রায় ১০০ মিটার।
অর্থনীতি ও যোগাযোগ
এই এলাকার অর্থনীতি মূলত চা বাগান, ধান চাষ, মৎস্যচাষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। NH15-এর মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। রেল পরিষেবা নর্থ লখিমপুর রেল স্টেশনের মাধ্যমে যা উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অন্তর্গত। এই আসনে কাগজে-কলমে বিজেপি বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। তবে শেষ তিনটি বিধানসভা নির্বাচনই অল্প ব্যবধানে জয় পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে। কংগ্রেস গত দুই দশকে এখানে জিততে না পারলেও, গত সাতটি নির্বাচনে তারা ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় স্থানে থেকেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও এজিপি জোট অব্যাহত রাখার ঘোষণা শাসক জোটকে স্পষ্ট সুবিধা দিয়েছে। তবে লোকসভা নির্বাচনে যে সমর্থন বিজেপি পায়, তা বিধানসভা ভোটে কতটা রূপান্তর করতে পারে, সেটিই হবে আগামী নির্বাচনের অন্যতম প্রধান নির্ধারক।
Input by: Ajay Jha
Dr. joy prakash das (j.p.)
INC
Utpal dutta
AGP
Ranjan borpatra gohain
ASMJTYP
Nota
NOTA
Nirmal payeng
IND
Dilwar hussain
VPI
Birinchi pegu
SUCI
Joy prakash das
INC
Ghana buragohain
IND
Mahim hazarika
IND
Uday shankar hazarika
IND
Arup kalita
CPI
Dipak chetia
AIUDF
Minakhi gohain baruah
IND
Nota
NOTA
Hira gogoi
IND
Fazlur rahman
IND
Dilip dutta
IND
Nanda kishore maheswari
IND
Mahim konwar
IND
Birinchi pegu
SUCI