
অসম নির্বাচন ২০২৬: ডুমডুমা কেন্দ্র
উপর অসমের তিনসুকিয়া জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ডুমডুমা। লক্ষীমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা আসনটি তার রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ডুমডুমা মিউনিসিপ্যাল বোর্ডের সম্পূর্ণ এলাকা এবং হাপজান ও কাকোপাথর উন্নয়ন ব্লকের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আগে এর বানান ছিল 'ডুমডুমা' (Doomdooma)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অসমে অনুষ্ঠিত সবকটি- মোট ১৫টি- বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এই কেন্দ্র।
ডুমডুমা একসময় কেবল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি নয়, প্রায় দুর্গই ছিল। ১৯৫২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রথম ১২ নির্বাচনে টানা জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। সব মিলিয়ে ১৫ নির্বাচনের মধ্যে ১৩ বারই এই আসন দখল করেছে দলটি।...
অসম নির্বাচন ২০২৬: ডুমডুমা কেন্দ্র
উপর অসমের তিনসুকিয়া জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ডুমডুমা। লক্ষীমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা আসনটি তার রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ডুমডুমা মিউনিসিপ্যাল বোর্ডের সম্পূর্ণ এলাকা এবং হাপজান ও কাকোপাথর উন্নয়ন ব্লকের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আগে এর বানান ছিল 'ডুমডুমা' (Doomdooma)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অসমে অনুষ্ঠিত সবকটি- মোট ১৫টি- বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এই কেন্দ্র।
ডুমডুমা একসময় কেবল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি নয়, প্রায় দুর্গই ছিল। ১৯৫২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রথম ১২ নির্বাচনে টানা জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। সব মিলিয়ে ১৫ নির্বাচনের মধ্যে ১৩ বারই এই আসন দখল করেছে দলটি।
তবে এই দুর্গে প্রথম বড় ধাক্কা আসে ২০১১ সালে, যখন বিজেপি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসকে হারিয়ে আসনটি জয় করে। তার আগাম ইঙ্গিত মিলেছিল ২০০৬ সালের নির্বাচনে। সেবার মাত্র ১,৯৯৬ ভোটে হেরে গিয়েও কংগ্রেসের ঘাঁটিতে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল বিজেপি। ২০১১ সালে বিজেপির প্রার্থী দিলীপ মোরান কংগ্রেসের রূপেশ গোয়ালাকে ৪,৬৫৬ ভোটে পরাজিত করে আসনটি দখল করেন।
২০১৬ সালে কংগ্রেস আবার ২০০৬ সালের বিজয়ী দুর্গা ভূমিজকে প্রার্থী করে। সেই কৌশল সফলও হয়। তিনি বিজেপির তৎকালীন বিধায়ক দিলীপ মোরানকে মাত্র ৭৮২ ভোটে হারিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন।
তবে ২০২১ সালে আবার পাল্টে যায় সমীকরণ। কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রূপেশ গোয়ালা বিজেপির টিকিটে লড়ে দুর্গা ভূমিজকে ৮,১৩৮ ভোটে হারিয়ে দেন। অর্থাৎ লড়াইটা ছিল মূলত প্রাক্তন কংগ্রেস বনাম বর্তমান কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে—যেখানে শেষ হাসি হাসে বিজেপি।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও ডুমডুমায় কংগ্রেসের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০০৯ সালে কংগ্রেস অসম গন পরিষদকে ১০,৮৫৫ ভোটে পিছনে ফেলেছিল। কিন্তু তারপর থেকে ছবিটা বদলে যায়। ২০১৪ সালে বিজেপি কংগ্রেসের থেকে ৩২,০৩২ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৪০,৭৬০ ভোটে। ২০২৪ সালেও বিজেপি এগিয়ে থাকে—২৮,৪০১ ভোটের লিড নিয়ে।
২০২৩ সালের সীমা পুনর্বিন্যাস এবং ২০২৫ সালের বিশেষ নিবন্ধন সংশোধন (SIR)-এর প্রভাব ডুমডুমা কেন্দ্রে তুলনামূলকভাবে কম। কিছু নিয়মিত পরিবর্তন ছাড়া বড় কোনও রদবদল হয়নি। ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ডুমডুমায় মোট ভোটার সংখ্যা ১,৪৭,৯৯০। ২০২৪ সালে যা ছিল ১,৪৩,০৬৬। এর আগে ২০২১ সালে ভোটার ছিল ১,৪৯,৪৬২, ২০১৯ সালে ১,৪১,৬৩২, ২০১৬ সালে ১,২২,৪৪১ এবং ২০১১ সালে ১,২০,৩৭৫।
ডুমডুমা একটি অত্যন্ত গ্রামীণ কেন্দ্র। মোট ভোটারের মাত্র ৯.০৯ শতাংশ শহরাঞ্চলে বসবাস করেন, বাকি ৯১.৯১ শতাংশই গ্রামে। তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির উপস্থিতিও এখানে খুবই কম-ক্রমশ ১.৫১ শতাংশ এবং ১.৮৪ শতাংশ। মুসলিম ভোটারদের উপস্থিতিও এই কেন্দ্রে নগণ্য। ভোটদানের হার বরাবরই উল্লেখযোগ্য। ২০১১ সালে এখানে ৭১.২১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯.৬৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৮১.০২ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭৮.৪৫ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৮২.১০ শতাংশ ভোট পড়ে।
ভৌগোলিকভাবে ডুমডুমা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। তিনসুকিয়া জেলার একটি অংশ জুড়ে বিস্তৃত এই কেন্দ্রের কাছ দিয়েই বয়ে গেছে বুড়ি ডিহিং নদী। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতল উর্বর জমি এখানকার প্রধান ভূ-প্রকৃতি, যদিও কোথাও কোথাও হালকা ঢেউ খেলানো জমি রয়েছে। এই ভূ-প্রকৃতি চা-বাগান এবং ধানচাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হলেও বর্ষাকালে বন্যার আশঙ্কা থেকে যায়। বুড়ি ডিহিং এবং তার উপনদীগুলি এলাকার উর্বর নদীবিধৌত পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডুমডুমার অর্থনীতি মূলত চা-বাগান, ধানচাষ, তেল ও গ্যাস শিল্প এবং ছোট ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। বিশাল চা-বাগান ও চা-প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলি বহু মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস। পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস ধানচাষ। কাছাকাছি তেলক্ষেত্র থাকায় শিল্পগত গুরুত্বও কিছুটা বেড়েছে এই অঞ্চলের। উর্বর মাটি এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখে। অবকাঠামোর দিক থেকে জাতীয় সড়ক ১৫ এবং বিভিন্ন রাজ্য সড়কের মাধ্যমে তিনসুকিয়া ও ডিব্রুগড়ের সঙ্গে ভালো সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের নেটওয়ার্কে ডুমডুমা রেলস্টেশনও রয়েছে। শহর ও আশপাশের গ্রামগুলিতে মৌলিক পরিষেবা রয়েছে এবং চা শিল্প ও গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের কাজও চলছে।
জেলা সদর তিনসুকিয়া এখান থেকে প্রায় ৩০–৩৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। ডিগবই প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পূর্বে, নাহারকাটিয়া প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং দুলিয়াজান প্রায় ২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী দিসপুর বা গুয়াহাটি এখান থেকে প্রায় ৫০০–৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। পূর্ব দিকে আরও দূরে অরুণাচল প্রদেশ।
ডুমডুমার ভোটের প্রবণতা লক্ষ্য করলে একটি স্পষ্ট ছবি সামনে আসে, যা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রটি ধারাবাহিকভাবে বিজেপির পক্ষে ঝুঁকেছে। কিন্তু সেই সাফল্য বিধানসভা নির্বাচনে পুরোপুরি পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি বিজেপি—কারণ এখানে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে ব্যবধান খুবই কম থাকে।
ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে ডুমডুমা আবারও হতে চলেছে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ময়দান—যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি ভোটই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
Input by- Ajay Jha
Durga bhumij
INC
Lakheswar moran
IND
Suresh bhumij
ASMJTYP
Nota
NOTA
Kanak chetia
IND
Rajesh kishan
PLTIJSTP
Debajit moran
IND
Dilip moran
BJP
Nota
NOTA
Hrishikesh baruah
IND
Monoj kumar sawashi
JNCP
Rajesh karmakar
IND
Sarfaraz alam
IND
Isab hussain
IND
Ranjit singh gorh
IND
Bhaba kanta chutia
IND