
আপার অসমের ডিব্রুগড় জেলার একটি বিধানসভা কেন্দ্র দুলিয়াজান। এখানে রয়েছে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের একটি বিরাট শিল্পকেন্দ্র। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগোরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি ডিব্রুগড় লোকসভা আসনের ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। মাথায় রাখতে হবে যে, আপার অসমে তেলক্ষেত্রের আবিষ্কার ও উন্নয়নের সঙ্গে এই শহরের সমৃদ্ধির ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ২০ শতকের মাঝামাঝি থেকে অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড এখানে কাজ করে গিয়েছে। তাদের প্রচেষ্টাতেই এটি পরিকল্পিত শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দুলিয়াজানে এখনও পর্যন্ত নয়টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কংগ্রেস ও বিজেপি এই আসনে চারবার করে জয়ী হয়েছে। আর ১৯৭৮ সালের প্রথম নির্বাচনে এখানে জিতেছিল জনতা ...
আপার অসমের ডিব্রুগড় জেলার একটি বিধানসভা কেন্দ্র দুলিয়াজান। এখানে রয়েছে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের একটি বিরাট শিল্পকেন্দ্র। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগোরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি ডিব্রুগড় লোকসভা আসনের ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। মাথায় রাখতে হবে যে, আপার অসমে তেলক্ষেত্রের আবিষ্কার ও উন্নয়নের সঙ্গে এই শহরের সমৃদ্ধির ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ২০ শতকের মাঝামাঝি থেকে অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড এখানে কাজ করে গিয়েছে। তাদের প্রচেষ্টাতেই এটি পরিকল্পিত শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দুলিয়াজানে এখনও পর্যন্ত নয়টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কংগ্রেস ও বিজেপি এই আসনে চারবার করে জয়ী হয়েছে। আর ১৯৭৮ সালের প্রথম নির্বাচনে এখানে জিতেছিল জনতা পার্টি। তারপর তিনটিতে কংগ্রেস জিতছে। যদিও শেষ পাঁচটি ইলেকশনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে বিজেপি।
কংগ্রেসের অমিয় গগৈ এখানে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত টানা তিনবার এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন। আর ২০১১ সালে তিনি চতুর্থবারের জন্য জয় পান। সেই ভোটে তিনি বিজেপির তৎকালীন বিধায়ক রমেশ্বর তেলিকে ৩,৩৩৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। যদিও ২০১১ সালের পর বিজেপি আবার জয়ের ধারায় ফিরে আসে। তেরাশ গোয়াল্লার নেতৃত্বে টানা দুইবার দুলিয়াজান কেন্দ্রে জয়ী হয়। গোয়াল্লা ২০১৬ সালে কংগ্রেসের ধ্রুবজ্যোতি গগৈকে ১৭,০৮৬ ভোটে এবং ২০২১ সালে ৮,১১০ ভোটে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনে দুলিয়াজান বিধানসভা সেগমেন্টের ভোটের ট্রেন্ড বিজেপির দিকে। এখানে আপাতত পিছিয়ে কংগ্রেস। ২০০৯ সালে কংগ্রেস এজিপিকে ৬,৩৯৯ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে বিজেপি কংগ্রেসের থেকে এগিয়ে যায়। এই ভোটে ২৯,৬৮৭ ভোটে বড় লিড নেয় বিজেপি। ২০১৯ সালে সেই লিড সামান্য কমে দাঁড়ায় ২৬,৭১৭ ভোট। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নিজেদের লিড ধরে রাখে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী দুলিয়াজানে মোট ভোটার ছিল ১,৭৯,৬২৪ জন। আর ২০২৪ সালে ভোটার ছিল ১,৭১,১৩৮। এর আগে ২০২১ সালে ছিল ১,৫৯,৯৫৮, ২০১৯ সালে ১,৪৭,৫৮৪, ২০১৬ সালে ১,৩৮,৩৯৬ এবং ২০১১ সালে ১,৩৬,৭৪৯ ভোটার ছিল।
এখানে ভোটারদের মধ্যে তফসিলি জনজাতির সংখ্যা ৬.৯৬ শতাংশ। আর তফসিলি জাতি ৪.৯০ শতাংশ। এখানে মুসলিমদের উপস্থিতি খুবই কম। এখানে ভোটদানের হার সবসময়ই বেশি। ২০১১ সালে ৭৮.২১ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮২.৫১ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৬.০৮ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮১.৯০ শতাংশ মানুষ ভোটে দিয়েছে। মাথায় রাখতে হবে, এই বিধানসভা কেন্দ্রে শহর থাকলেও বেশিরভাগ মানুষই গ্রামে থাকেন।
দুলিয়াজান কেন্দ্রটি ডিব্রুগড় জেলার বিভিন্ন অংশ নিয়ে গঠিত। এর কাছ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়ি দিহিং নদী। এখানকার ভূপ্রকৃতি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মতোই সমতল ও পলিমাটির সমভূমি। যদিও কোথাও কোথাও হালকা উঁচু নিচু রয়েছে। এই ভূপ্রকৃতি চা বাগান ও কৃষির জন্য উপযোগী। এখানকার স্থানীয় অর্থনীতি প্রধানত তেল ও গ্যাস উত্তোলন, চা বাগান, ধানচাষ এবং ছোট ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। শহর প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের কাজকর্ম এখানকার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। এটাই কর্মসংস্থান ও রাজস্ব সরবরাহ করে।
চা প্রক্রিয়াকরণ এবং কৃষিকাজ গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। উর্বর মাটি ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এসব কাজকর্মকে টিকিয়ে রাখে। এখানকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে ১৫। এছাড়া রাজ্য সড়কের মাধ্যমে ডিব্রুগড় ও তিনসুকিয়ার সঙ্গে ভালো সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের নেটওয়ার্কে দুলিয়াজান রেলওয়ে স্টেশন থেকেও রেল যোগাযোগ রয়েছে। শহর ও আশপাশের গ্রামে সাধারণ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। জেলা সদর ডিব্রুগড় এখান থেকে প্রায় ৩৫-৪০ কিলোমিটার পূর্বে। কাছাকাছি অন্যান্য শহরের মধ্যে রয়েছে নাহারকাটিয়া, যা প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে। মোরান প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে। তিনসুকিয়া প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে এবং ডুমডুমা আরও উত্তরে। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি প্রায় ৪৫০–৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। অরুণাচল প্রদেশ আরও পূর্বদিকে অবস্থিত।
২০১৪ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত পাঁচটি নির্বাচনের সবকটিতেই বিজেপি এগিয়ে রয়ে। এর মধ্যে দুলিয়াজান বিধানসভা কেন্দ্রে দু’বার জয় এবং তিনটি লোকসভা নির্বাচনে লিড রয়েছে। তাছাড়া বিজেপির বড় জয়ের ব্যবধান কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। স্থানীয় ভোটারদের কাছে টানতে হলে কংগ্রেসকে শক্তিশালী বিরোধী ন্যারেটিভ তৈরি করতে হবে। তাদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়তে হবে। সেটা না করলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দুলিয়াজানে বিজেপিই এগিয়ে যেতে পারে।
Dhrubajyoti gogoi
INC
Lurinjyoti gogoi
ASMJTYP
Nota
NOTA
Madhab das
LJP
Dhruba jyoti gogoi
INC
Amiya gogoi
IND
Nota
NOTA
Ramesh chandra phukan
IND
Hiranya sonowal (raju)
IND
Anjali senapati
JNCP
Jatin konwar
IND
Sunil tanti
CPI(ML)(L)
Probin kumar hazarika
IND
Isak karkaria
IND
Jhuma deb nath
SHS