
মাকুম একটি শিল্পাঞ্চলভিত্তিক শহর। অসমের তিনসুকিয়া জেলায় অবস্থিত এটি একটি টাউন কমিটি। এখানে একাধিক চা কারখানা রয়েছে। যদিও এখন অনেক প্লাইউড শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ময়দা, মোমবাতি ও মশলা গুঁড়ো করার বহু ছোট কারখানাও রয়েছে। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হল, তিনসুকিয়া, ডিগবয় ও ডুমডুমার সংযোগস্থল হিসেবে মাকুম পরিচিত। এটি একটি জেনারেল ক্যাটেগরির বিধানসভা কেন্দ্র। ডিব্রুগড় লোকসভা কেন্দ্রের ১০টি অংশের একটি হল মাকুম।
২০২৩ সালে এই নতুন বিধানসভা কেন্দ্রটি গঠিত হয়। মাকুম কেন্দ্রটি মূলত আগের তিনসুকিয়া বিধানসভা এলাকার অংশ এবং বিলুপ্ত চাবুয়া কেন্দ্রের কিছু অংশ নিয়ে তৈরি। এতে মাকুম শহর ও আশেপাশের বহু গ্রামও রয়েছে।
নতুন কেন্দ্র হওয়ায় মাকুমের নিজস্ব বিধানসভা ন...
মাকুম একটি শিল্পাঞ্চলভিত্তিক শহর। অসমের তিনসুকিয়া জেলায় অবস্থিত এটি একটি টাউন কমিটি। এখানে একাধিক চা কারখানা রয়েছে। যদিও এখন অনেক প্লাইউড শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ময়দা, মোমবাতি ও মশলা গুঁড়ো করার বহু ছোট কারখানাও রয়েছে। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হল, তিনসুকিয়া, ডিগবয় ও ডুমডুমার সংযোগস্থল হিসেবে মাকুম পরিচিত। এটি একটি জেনারেল ক্যাটেগরির বিধানসভা কেন্দ্র। ডিব্রুগড় লোকসভা কেন্দ্রের ১০টি অংশের একটি হল মাকুম।
২০২৩ সালে এই নতুন বিধানসভা কেন্দ্রটি গঠিত হয়। মাকুম কেন্দ্রটি মূলত আগের তিনসুকিয়া বিধানসভা এলাকার অংশ এবং বিলুপ্ত চাবুয়া কেন্দ্রের কিছু অংশ নিয়ে তৈরি। এতে মাকুম শহর ও আশেপাশের বহু গ্রামও রয়েছে।
নতুন কেন্দ্র হওয়ায় মাকুমের নিজস্ব বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাস নেই। ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবার এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই অংশে বিজেপি এগিয়ে ছিল। ডিব্রুগড় লোকসভা কেন্দ্রের মাকুম অংশে বিজেপি অসম জাতীয় পরিষদ (AJP)-কে ২৫,২১১ ভোটে হারায়। বিজেপি পায় ৬১,৬২৭ ভোট, AJP পায় ৩৬,৪১৬ ভোট এবং আম আদমি পার্টি (AAP) পায় ১৭,০৬৮ ভোট। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১,৫৯,২১৭ জন। যা ২০২৪ সালের ১,৫৬,৮৩২ থেকে বেড়েছে। ২০২৪ সালে ভোটদানের হার ছিল ৭৬.২২ শতাংশ, যা যথেষ্ট বেশি।
জনসংখ্যার গঠনে এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা কম। পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। এখানে অসমিয়া ও বাংলা ভাষাভাষী মানুষের পাশাপাশি কৃষিজীবী ও চা বাগান শ্রমিক সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে, যা এই এলাকাকে আধা-শহুরে ও গ্রামীণ চরিত্রের রূপ দিয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে মাকুম এলাকা ব্রহ্মপুত্র নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত সমতল অলুভিয়াল ভূমি। যেখানে জলাভূমি, বিল এবং সামান্য উঁচুনিচু জমি রয়েছে। ধান চাষ, মাছ ধরা ও কিছু পশুপালন এখানে প্রধান জীবিকা। ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলির কারণে এলাকাটি প্রায়ই বন্যাপ্রবণ। এছাড়া ছোট ব্যবসা, চা বাগান এবং স্থানীয় শিল্পও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যোগাযোগের ক্ষেত্রে জাতীয় সড়ক ১৫ এবং একাধিক রাজ্য সড়ক মাকুমকে অন্য শহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মাকুম জংশন রেলস্টেশন ও কাছাকাছি তিনসুকিয়া স্টেশন থেকে রেল যোগাযোগও সহজ।
নিকটবর্তী শহরগুলির মধ্যে রয়েছে তিনসুকিয়া (৮–১০ কিমি), ডিগবয় (২৩–২৭ কিমি), ডুমডুমা (৩০–৩৮ কিমি) এবং ডিব্রুগড় (৪০–৪৮ কিমি)। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি প্রায় ৪৫০–৪৭০ কিমি দূরে। উত্তরের কিছু অংশে অরুণাচল প্রদেশের সীমানাও কাছাকাছি।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে মাকুম ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার অংশ। যেখানে অসমিয়া সংস্কৃতি ও চা বাগানভিত্তিক আদিবাসী সংস্কৃতির মিশ্রণ দেখা যায়। জলাভূমি ও নদীনির্ভর জীবনযাত্রা এখানকার সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এবারে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে সঞ্জয় কিষাণকে, কংগ্রেস সিবানাথ চেতিয়াকে এবং তৃণমূল কংগ্রেস দিলীপ মোরানকে প্রার্থী করেছে। এছাড়া পদ্মকান্ত ও লাখাই জ্যোতি রাজখোয়া নামে দুই নির্দল প্রার্থীও লড়ছেন।
২০১৪ সাল থেকে এলাকায় বিজেপির অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী। যা ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও দেখা গিয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কিছুটা এগিয়ে থেকে লড়াইয়ে নামছে।