
চা-বাগান ঘেরা শান্ত গ্রাম। কিন্তু সেই নির্মল প্রকৃতির সবুজের মাঝেই ভোটের তুমুল লড়াই। টিংখং এখন অসম রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য কেন্দ্র। ২০২৬-এ এই আসন কার দখলে যাবে? অসমের ডিব্রুগড় জেলার অন্তর্গত টিংখং একটি গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্র। আপার অসমের চা-বেল্টের মধ্যমণিতে অবস্থিত এই কেন্দ্র বিস্তীর্ণ চা-বাগান ও ধানক্ষেত ঘেরা। এক সময় তুলনামূলক শান্ত কৃষিভিত্তিক এলাকা হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভোটদানে মানুষের অংশগ্রহণ এখানে বরাবরই উল্লেখযোগ্য। ডিব্রুগড় লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম টিংখং।
১৯৬৭ সালে গঠিত এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত ১১ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্...
চা-বাগান ঘেরা শান্ত গ্রাম। কিন্তু সেই নির্মল প্রকৃতির সবুজের মাঝেই ভোটের তুমুল লড়াই। টিংখং এখন অসম রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য কেন্দ্র। ২০২৬-এ এই আসন কার দখলে যাবে? অসমের ডিব্রুগড় জেলার অন্তর্গত টিংখং একটি গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্র। আপার অসমের চা-বেল্টের মধ্যমণিতে অবস্থিত এই কেন্দ্র বিস্তীর্ণ চা-বাগান ও ধানক্ষেত ঘেরা। এক সময় তুলনামূলক শান্ত কৃষিভিত্তিক এলাকা হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভোটদানে মানুষের অংশগ্রহণ এখানে বরাবরই উল্লেখযোগ্য। ডিব্রুগড় লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম টিংখং।
১৯৬৭ সালে গঠিত এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত ১১ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেসের প্রভাব ছিল এখানে। কংগ্রেস মোট পাঁচবার জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা তিনবার জয়ের নজির রয়েছে। অন্য দিকে, বিজেপি ২০১৬ এবং ২০২১; টানা দু’বার এই আসন জিতেছে। এছাড়া সংযুক্ত সমাজবাদী পার্টি, জনতা পার্টি, নির্দল প্রার্থী এবং অসম গণ পরিষদ; প্রত্যেকেই একবার করে জয় পেয়েছে।
২০১১ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী আতুয়া মুন্ডা ১৫,৫২৪ ভোটে এজিপি-র বিধায়ক অনুপ ফুকনকে হারিয়ে জয়ী হন। কিন্তু ২০১৬ সালে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। বিজেপির বিমল বরা কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক আতুয়া মুন্ডাকে ১৮,৩৩৮ ভোটে পরাজিত করে আসন দখল করেন। ২০২১ সালে বরা আবারও জিতে আসন ধরে রাখেন। এ বার তিনি কংগ্রেস প্রার্থী এতুয়া মুন্ডাকে ২৮,৩৯৪ ভোটে হারান। লোকসভা নির্বাচনের প্রবণতাও এই কেন্দ্রে বিজেপির উত্থানের ইঙ্গিত দেয়। ২০০৯ সালে কংগ্রেস অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, ২০১৪ সালে বিজেপি ১০,৮৬০ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২৮,০৬৭ ভোটে। ২০২৪ সালে বিজেপির লিড কিছুটা কমে ১৭,৬৫১ ভোটে দাঁড়ালেও, তারা শীর্ষস্থান ধরে রাখে।
২০২৫ সালের স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) টিংখং কেন্দ্রে তেমন প্রভাব ফেলেনি। ২০২৬ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এখানে মোট ভোটার ১,৭৭,৬৫৮ জন, যা ২০২৪ সালের ১,৬৮,৫৪৭ ভোটারের তুলনায় ৯,১১১ বেশি। ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার সময়ও এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২৩,৯৯৯ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর আগে ২০২১ সালে ভোটার সংখ্যা ছিল ১,৪৪,৫৪৮, ২০১৯ সালে ১,৩৬,০৮৮, ২০১৬ সালে ১,২১,৫৭১ এবং ২০১১ সালে ১,১৫,৮৬০।
টিংখং কেন্দ্রে কোনও নির্দিষ্ট সামাজিক বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর একচ্ছত্র আধিপত্য নেই। তফসিলি জনজাতিরা এখানে বৃহত্তম অংশ, যা মোট ভোটারের ১২.৪৬ শতাংশ। তফসিলি জাতির অংশ প্রায় ১.৫১ শতাংশ। মুসলিম ভোটারের সংখ্যা খুবই কম। সম্পূর্ণ গ্রামীণ এই কেন্দ্রে কোনও শহুরে ভোটার নেই। ভোটদানের হারও বরাবরই উঁচু; ২০১১ সালে ৭৩.৭৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৫.২৩ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৭.১৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮২.৪৬ শতাংশ।
ভৌগোলিক দিক থেকে টিংখং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতল উর্বর জমিতে অবস্থিত। এখানে চা-বাগান ও কৃষিজমি বিস্তৃত। দিহিং নদী এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে, যা সেচব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ইতিহাস অনুযায়ী, আহোম সাম্রাজ্যের সঙ্গে এই এলাকার সম্পর্ক রয়েছে। বলা হয়, রাজা সুহুংমুং এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে টুংখুংগিয়া বংশের রাজপুত্রদের আবাসস্থল ছিল এই এলাকা।
অর্থনীতি মূলত চা-শিল্প, ধান চাষ, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং শ্রমনির্ভর কাজের উপর নির্ভরশীল। যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও এই এলাকা যথেষ্ট সংযুক্ত। জাতীয় সড়ক ১৫ এবং রাজ্য সড়কগুলি প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। নিকটবর্তী নাহারকাটিয়া রেলস্টেশন প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। ডিব্রুগড়ের মোহনবাড়ি বিমানবন্দর প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে টিংখং কেন্দ্রের রাজনৈতিক চিত্র বেশ স্পষ্ট। গত সাতটি নির্বাচনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিজেপি জয়ী বা এগিয়ে থেকেছে, যেখানে কংগ্রেস মাত্র দু’বার এগিয়ে ছিল। ২০১১ সালের পর থেকে কংগ্রেসের প্রভাব কমতে শুরু করে, একই সময়ে বিজেপির উত্থান ঘটে। বিজেপির জয়ের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে, কংগ্রেস যদি শাসকবিরোধী হাওয়া তৈরি করতে না পারে, তবে এই কেন্দ্রে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানানো তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ২০২৬-এর লড়াই তাই একতরফা না হলেও, পাল্লা ভারী বিজেপির দিকেই; এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে পরিসংখ্যান।
Input by: Ajay Jha
Etuwa munda
INC
Subhakaran konhain
ASMJTYP
Bikash kullu
IND
Nota
NOTA
Atuwa munda
INC
Anup phukon
IND
Nota
NOTA
Mira tanti
CPI(ML)(L)
Dilip bharali
IND
Eliash sichan
JDP