
নাগরাকাটা জলপাইগুড়ি জেলার একটি ব্লক স্তরের শহর। এটি তফসিলি উপজাতি (ST) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র এবং আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। এই কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে নাগরাকাটা ও মাটিয়ালি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, পাশাপাশি ধূপগুড়ি ব্লকের বানারহাট-২ ও চামুর্চি গ্রাম পঞ্চায়েত।
১৯৬২ সালে গঠিত নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত ১৫ বার ভোটের লড়াই দেখেছে। দীর্ঘদিন এই কেন্দ্রে বামেদের দাপট ছিল। সিপিএম এখানে সর্বাধিক আটবার জয় পেয়েছে, যার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। কংগ্রেস জিতেছে চারবার। এছাড়া সিপিআই, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি, তিনটি দলই একবার করে জয় পেয়েছে। লক্ষণীয় বিষয়, ২০১১ সালের পর টানা তিনটি ন...
নাগরাকাটা জলপাইগুড়ি জেলার একটি ব্লক স্তরের শহর। এটি তফসিলি উপজাতি (ST) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র এবং আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। এই কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে নাগরাকাটা ও মাটিয়ালি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, পাশাপাশি ধূপগুড়ি ব্লকের বানারহাট-২ ও চামুর্চি গ্রাম পঞ্চায়েত।
১৯৬২ সালে গঠিত নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত ১৫ বার ভোটের লড়াই দেখেছে। দীর্ঘদিন এই কেন্দ্রে বামেদের দাপট ছিল। সিপিএম এখানে সর্বাধিক আটবার জয় পেয়েছে, যার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। কংগ্রেস জিতেছে চারবার। এছাড়া সিপিআই, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি, তিনটি দলই একবার করে জয় পেয়েছে। লক্ষণীয় বিষয়, ২০১১ সালের পর টানা তিনটি নির্বাচনে তিনটি আলাদা দল এই কেন্দ্র দখল করেছে।
২০১১ সালে কংগ্রেসের জোসেফ মুন্ডা মাত্র ৭৬৩ ভোটে সিপিএম প্রার্থী সুখমৈথ (পিটিং) ওরাঁওকে হারিয়ে জয়ী হন। পাঁচ বছর পর, ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সুখরা মুন্ডা, তৎকালীন বিধায়ক জোসেফ মুন্ডাকে ৩,২২৮ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে পালাবদল আরও স্পষ্ট হয়—বিজেপি প্রার্থী পুনা ভেংরা বিপুল ২৩,৪৭৫ ভোটে তৃণমূলের হয়ে লড়া জোসেফ মুন্ডাকে হারিয়ে দেন।
লোকসভা ভোটের ফলও নাগরাকাটায় রাজনৈতিক দোলাচলের ইঙ্গিত দেয়। ২০০৯ সালে বামফ্রন্ট শরিক আরএসপি এখানে বিজেপির থেকে ১০,৮৫২ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে সেই ছবিটা পুরো বদলে যায়। বিজেপি আরএসপিকে ২২,২৬১ ভোটে পিছনে ফেলে। ২০১৯ সালে বিজেপি ৫০,২৪৪ ভোটে লিড ধরে রাখে, যদিও তৃণমূল আরএসপিকে তৃতীয় স্থানে ঠেলে দেয়। ২০২৪ সালে ফের মোড় ঘোরে—এই বিধানসভা অংশে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির থেকে ৩,৫৪৭ ভোটে এগিয়ে যায়।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও নাগরাকাটায় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০১৯ সালে ভোটার ছিলেন ২,২৫,৪৬৯ জন, ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২,৩৭,৩০৫ এবং ২০২৪ সালে তা ছুঁয়েছে ২,৪৪,১৭৪। এটি প্রায় পুরোপুরি গ্রামীণ এলাকা। ৯৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ গ্রামে বাস করেন। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এখানকার জনসংখ্যার প্রায় ৪৬.৬৭ শতাংশ তফসিলি উপজাতি, ১৪.২৬ শতাংশ তফসিলি জাতি এবং প্রায় ১১.৭ শতাংশ মুসলিম। ভোটদানের হার তুলনামূলক ভালো হলেও ধীরে ধীরে কমছে। ২০১১ সালে যেখানে ৮৩.৩০ শতাংশ ভোট পড়েছিল, ২০২৪ সালে তা নেমে এসেছে ৭৫.৪১ শতাংশে।
ভৌগোলিকভাবে নাগরাকাটা ডুয়ার্স অঞ্চলের অন্তর্গত। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই এলাকায় উঁচু-নিচু জমি, ঘন অরণ্য আর পাহাড়ি নদী-নালার আধিক্য। নাগরাকাটা ব্লকের সদর দফতর এই শহরেই। চারপাশে বিস্তৃত চা-বাগান এই এলাকার প্রধান পরিচয়। ব্রিটিশ আমলে নাগরাকাটা চা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। এখানকার রেলস্টেশন থেকে চা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশে পাঠানো হত। আজও চা-বাগানই স্থানীয় মানুষের জীবিকার মূল ভরসা।
অর্থনীতির মেরুদণ্ড চা শিল্প। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ছোটখাটো ব্যবসা, বননির্ভর কাজ এবং কৃষিশ্রম। সড়ক ও রেল যোগাযোগের দিক থেকেও নাগরাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। জেলা সদর জলপাইগুড়ি থেকে দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার, শিলিগুড়ি ৭০-৭৫ কিলোমিটার। নিউ জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ার রেলপথে নাগরাকাটা স্টেশন অবস্থিত। আলিপুরদুয়ার শহর প্রায় ৯০-৯৫ কিলোমিটার দূরে। কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব আনুমানিক ৬৫০-৭০০ কিলোমিটার। ভুটান ও বাংলাদেশ সীমান্ত এই এলাকার থেকে আনুমানিক ১৫০-২২০ কিলোমিটার দূরে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে নাগরাকাটায় লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। সাম্প্রতিক বছরগুলির ফলাফল বলছে, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ২০২১ সালের বড় জয়ের কারণে বিজেপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, ২০২৪ লোকসভা ভোটে তৃণমূলের লিড প্রমাণ করে দিয়েছে যে শেষ মুহূর্তের সংগঠন ও আদিবাসী, চা-বাগান এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। বাম-কংগ্রেস জোট এখানে কার্যত কোণঠাসা, বড় কোনও প্রত্যাবর্তন না হলে তাদের প্রভাব সীমিতই থাকবে।
Joseph munda
AITC
Sukbir subba
INC
Nota
NOTA
Robat munda
IND
Benam oraon
PrPP
Ashan tirkey
IND
Joseph munda
INC
John barla
BJP
Nota
NOTA
Ganesh lama
ABGL
Indar deo oraon
IND
Pawan kumar kherwar
IND