
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি মহকুমা শহরকে কেন্দ্র করে গঠিত ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রটি একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন। ১৯৫১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী মানচিত্রে থাকা এই কেন্দ্রটি জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম। ধূপগুড়ি পুরসভা এলাকা, ধূপগুড়ি ব্লকের ন’টি ও বানারহাট ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত। ভোটারের প্রায় ৮২ শতাংশ গ্রামীণ হওয়ায় ধূপগুড়ির রাজনৈতিক চরিত্র মূলত গ্রামনির্ভর।
এই কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বামফ্রন্ট। এখনও পর্যন্ত হওয়া ১৬টি বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম আটবার জয় পেয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭৭ থেকে ২০১১, টানা তিন দশকেরও বেশি সময় এই আসনে বামেদের আধিপত্য ছিল। কংগ্রেস তিনবা...
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি মহকুমা শহরকে কেন্দ্র করে গঠিত ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রটি একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন। ১৯৫১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী মানচিত্রে থাকা এই কেন্দ্রটি জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম। ধূপগুড়ি পুরসভা এলাকা, ধূপগুড়ি ব্লকের ন’টি ও বানারহাট ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত। ভোটারের প্রায় ৮২ শতাংশ গ্রামীণ হওয়ায় ধূপগুড়ির রাজনৈতিক চরিত্র মূলত গ্রামনির্ভর।
এই কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বামফ্রন্ট। এখনও পর্যন্ত হওয়া ১৬টি বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম আটবার জয় পেয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭৭ থেকে ২০১১, টানা তিন দশকেরও বেশি সময় এই আসনে বামেদের আধিপত্য ছিল। কংগ্রেস তিনবার জয় পেয়েছে, একবার জিতেছিল সংযুক্ত সমাজবাদী দল। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির উত্থানে সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মিতালী রায় সিপিএমের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটান। ২০২১ সালে বিজেপি প্রার্থী বিষ্ণুপদ রায় অল্প ব্যবধানে তৃণমূলকে হারিয়ে চমক দেন। তাঁর অকালমৃত্যুর পর ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে আবারও আসন ফিরে পায় তৃণমূল। তবে ব্যবধান ছিল মাত্র কয়েক হাজার ভোট, যা ধূপগুড়ির রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে স্পষ্ট করে।
লোকসভা ভোটেও একই দোলাচল দেখা গিয়েছে। ২০১৯ সালে বিজেপি যেখানে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, ২০২৪ সালে সেই লিড অনেকটাই কমে যায়। একসময় অপ্রতিরোধ্য সিপিএম এখন পরপর নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে শেষ করছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ভোটার সংখ্যার নিরিখে ধূপগুড়ি উত্তরবঙ্গের বড় কেন্দ্রগুলির অন্যতম। ২০২৪ সালে এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২.৭ লক্ষ। তফসিলি জাতির ভোটার প্রায় ৫৫ শতাংশ। এই আসনের রাজনৈতিক চালচিত্র নির্ধারণে তাঁদের ভূমিকা নির্ণায়ক। পাশাপাশি প্রায় ১৬ শতাংশ মুসলিম ভোটারও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি, যা এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রমাণ।
ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুদের ঢল ধূপগুড়ির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো বদলে দেয়। ২০০২ সালে পুরসভার মর্যাদা পেলেও আজও এই এলাকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ডুয়ার্সের উর্বর সমতলে অবস্থিত ধূপগুড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে জলঢাকা নদী। দাইনা, গিলান্ডি, ডুডুয়া-সহ একাধিক ছোট নদী এই এলাকার জমিকে উর্বর করলেও বর্ষায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়। ধান, পাট ও সবজি চাষের পাশাপাশি চা-বাগানই এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে ধূপগুড়ি তুলনামূলক সুবিধাজনক। নিউ জলপাইগুড়ি–কোচবিহার রেলপথ, রাজ্য সড়ক, স্কুল–কলেজ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের জন্য এখনও বহু মানুষকে শিলিগুড়ি বা কলকাতামুখী হতে হয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ধূপগুড়ি স্পষ্টতই এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের মঞ্চ। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। যদি সিপিএম কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তবে ভোটের অঙ্ক আরও জটিল হবে। তফসিলি ভোটব্যাঙ্ক যেখানে জয়–পরাজয়ের চাবিকাঠি, সেখানে ধূপগুড়ি উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে নজরকাড়া যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠতে চলেছে।
Mitali roy
AITC
Pradip kumar roy
CPI(M)
Bedodyuti roy
BSP
Hrishikesh roy
IND
Sukumar roy
KPPU
Nota
NOTA
Dhiranjan roy
SUCI
Sujan barman
IND
Mamata roy
CPM
Agun roy
BJP
Nota
NOTA
Madhusudan roy
KPPU
Niranjan roy
SUCI
Beddyuti roy
BSP