
হিমালয়ের পাদদেশে থাকা আলিপুরদুয়ার জেলার ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত কালচিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র। এটি একটি তফসিলি জনজাতি (ST) সংরক্ষিত আসন। পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। এই কেন্দ্রে কালচিনি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং আলিপুরদুয়ার–২ ব্লকের মাঝেরডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েত অন্তর্ভুক্ত।
কালচিনি প্রথম গঠিত হয় ১৯৫৭ সালে সাধারণ আসন হিসেবে। ২০১১ সাল থেকে এটি তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত হয়। যদিও তার আগেও এই কেন্দ্রের অধিকাংশ বিধায়কই ছিলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের, ফলে সংরক্ষণ কার্যত সামাজিক বাস্তবতাকেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এখন পর্যন্ত কালচিনিতে ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। যার মধ্যে ২০০৯ সালের একটি উপনির্বাচনও রয়েছে। কংগ্রেস এখ...
হিমালয়ের পাদদেশে থাকা আলিপুরদুয়ার জেলার ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত কালচিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র। এটি একটি তফসিলি জনজাতি (ST) সংরক্ষিত আসন। পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। এই কেন্দ্রে কালচিনি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং আলিপুরদুয়ার–২ ব্লকের মাঝেরডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েত অন্তর্ভুক্ত।
কালচিনি প্রথম গঠিত হয় ১৯৫৭ সালে সাধারণ আসন হিসেবে। ২০১১ সাল থেকে এটি তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত হয়। যদিও তার আগেও এই কেন্দ্রের অধিকাংশ বিধায়কই ছিলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের, ফলে সংরক্ষণ কার্যত সামাজিক বাস্তবতাকেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এখন পর্যন্ত কালচিনিতে ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। যার মধ্যে ২০০৯ সালের একটি উপনির্বাচনও রয়েছে। কংগ্রেস এখানে সবচেয়ে বেশিবার জয় পেয়েছে। সংখ্যাটা প্রায় ৮ বার । ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ডেনিস লাকরার টানা পাঁচটি জয় ছিল কংগ্রেসের সবচেয়ে দীর্ঘ সাফল্য। এছাড়াও RSP পাঁচবার জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী উইলসন চম্পামারি দু’বার জিতেছিলেন এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তৃতীয়বার বিধায়ক হন। বিজেপি এই কেন্দ্রে একবারই এখন পর্যন্ত জয় পেয়েছে।
২০০৯ সালের উপনির্বাচনে আরএসপি বিধায়ক মনোহর তিরকে লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি খালি হয়। সেই নির্বাচনে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থনে উইলসন চম্পামারি জয়ী হন। ২০১১ সালেও একই জোটে তিনি কংগ্রেসের বিনয় ভূষণ কেরকেটাকে ৭,২৪৫ ভোটে হারান। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ২০১৬ সালে বিজেপি প্রার্থী বিষণ লামাকে মাত্র ১,৫১১ ভোটে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার জেতেন। তবে বিজেপির ক্রমাগত শক্তিবৃদ্ধির ফল দেখা যায় ২০২১ সালে। সে বছর বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ফের বিষণ লামা দাঁড়িয়ে তৃণমূলের পাসাং লামাকে ২৮,৫৭৬ ভোটে হারান। এর আগে ২০১৯ সালে চম্পামারি বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তৃণমূল নতুন প্রার্থী দিতে বাধ্য হয়।
বিধানসভায় বিজেপি প্রথম জয় পায় ২০২১ সালে, তবে লোকসভা নির্বাচনে কালচিনি অংশে তারা টানা চারবার এগিয়ে রয়েছে। ২০০৯ সালে আরএসপির উপর তাদের লিড ছিল মাত্র ৪৬৪ ভোট। ২০১৪ সালে সেই লিড বেড়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় ৩৫,২৯৪ ভোটে। ২০১৯ সালে তৃণমূলের উপর লিড হয় ৪৭,৪৩২ ভোট এবং ২০২৪ সালেও বিজেপি ১৪,৮৬৫ ভোটে এগিয়ে থাকে।
২০২৪ সালে কালচিনিতে মোট নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮৫৬ জন। ২০২১ সালে যা ছিল ২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪২৫ এবং ২০১৯ সালে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯৬৯। মোট ভোটারের মধ্যে তফসিলি জনজাতি ৩৮.৯৭ শতাংশ, তফসিলি জাতি ১২.৭২ শতাংশ। মুসলিম ভোটার ১০.১০ শতাংশ এবং খ্রিস্টান ১৪.৩৩ শতাংশ, যাদের বড় অংশই চা-বাগানের আদিবাসী শ্রমিক পরিবারভুক্ত। ভোটার উপস্থিতির হারও এখানে বরাবরই বেশি—২০১১ সালে ৮৪.৬৮ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮১.৪৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮০.৭৮ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৭৯.১৪ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে কালচিনি আলিপুরদুয়ার জেলার উত্তর অংশে, ভুটান সীমান্তের ঠিক নিচে ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত। এলাকাটি ছোট ছোট টিলা, বনাঞ্চল এবং পাহাড় থেকে নেমে আসা নদী–খালের উপত্যকায় গঠিত। ঘন বন ও বিস্তীর্ণ চা-বাগান এই এলাকার প্রধান বৈশিষ্ট্য। কালচিনি ব্লকে মোট ১৮টি চা-বাগান রয়েছে, যাদের অনেকগুলিই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক সংকটে পড়েছে বা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি চা-শিল্পের পাশাপাশি বনজীবিকা, ছোট ব্যবসা এবং দিনমজুরির উপর নির্ভরশীল।
কালচিনিমূল রাস্তায় আলিপুরদুয়ার শহরের সঙ্গে যুক্ত। যা জেলা সদর এবং রেল যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র। দূরত্ব আনুমানিক ২৪ থেকে ৩৭ কিলোমিটার। দার্জিলিং অনেক পশ্চিমে, শিলিগুড়ি হয়ে যেতে হয় এবং দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি। কলকাতা প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং নিউ জলপাইগুড়ি–শিয়ালদহ বা নিউ জলপাইগুড়ি–হাওড়া রুটে রেলে পৌঁছনো যায়।
কালচিনির উত্তরে ভুটান সীমান্ত অবস্থিত। টোরসার মতো চা-বাগানগুলি আন্তর্জাতিক সীমান্তের খুব কাছেই। জাইগাঁও সীমান্ত চেকপোস্ট হয়ে ভুটানের ফুয়েন্টশোলিং শহরে যাওয়া যায়, যা কালচিনি থেকে প্রায় ২৬ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে।
যদিও কালচিনিতে বিজেপির বিধানসভা জয় মাত্র একবার, তবুও ২০০৯ সাল থেকে প্রতিটি লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে থাকার সুবাদে ২০২৬ সালের নির্বাচনে BJP এখানে বেশ হেভিওয়েট। উইলসন চম্পামারির দলবদলের পর তৃণমূল এখানে সংগঠনিকভাবে দুর্বল, আর বাম-কংগ্রেস জোট কার্যত অস্তিত্বহীন। মুসলিম ও বাঙালি ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় তৃণমূলের সামাজিক ভিত্তিও সীমিত। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির আসন ধরে রাখার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
Passang lama
AITC
Avijit narjinary
INC
Binay narjinary
IND
Nota
NOTA
Rekha lakra (ekka)
IND
Prakash kujur
IND
Chanchal narjinary
LJP
Sukumar minj
IND
Ashok lama
NPEP
Hakim mahali
BMUP
Madan kumar uraon
JD(U)
Bishal lama
BJP
Avijit narjinary
INC
John philip xalxo
RSP
Biswajit minj
IND
Atul suba
IND
Nota
NOTA
Pankaj tirkey
JMM
Sujit mahali
IND
Rakesh kiran indwar
IND
Sukhan munda
SUCI
Jay bhadra karjee
IND
Usha tamang
IND