
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩১ থেকে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং রাজগঞ্জ ব্লকের ডাবগ্রাম-১, ডাবগ্রাম-২, ফুলবাড়ি-১ ও ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রটি গঠিত হয়। শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত নগরায়ণ এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ফলেই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আলাদা বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর আগে এই এলাকাগুলি মূলত রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তৈরি হওয়ার পর থেকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে এখনও পর্যন্ত তিনটি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দুট...
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩১ থেকে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং রাজগঞ্জ ব্লকের ডাবগ্রাম-১, ডাবগ্রাম-২, ফুলবাড়ি-১ ও ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রটি গঠিত হয়। শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত নগরায়ণ এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ফলেই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আলাদা বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর আগে এই এলাকাগুলি মূলত রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তৈরি হওয়ার পর থেকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে এখনও পর্যন্ত তিনটি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দুটি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হলেও, ২০২১ সালে বিজেপি এখানে প্রথমবারের মতো জয় ছিনিয়ে নেয়। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের গৌতম দেব সিপিআই(এম)-এর দিলীপ সিংকে ১১,২৩৬ ভোটে পরাজিত করেন এবং ২০১৬ সালে আবারও তাঁকে হারান। এবার ব্যবধান ছিল ২৩,৮১১ ভোট।
এই দুই নির্বাচনে বিজেপির ভোটের হার ছিল যথাক্রমে মাত্র ৬.০৭ শতাংশ ও ১১.৭৭ শতাংশ। কিন্তু ২০২১ সালে বিজেপি চমক দেয়। দলের প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় টানা দুইবারের বিধায়ক গৌতম দেবকে ২৭,৫৩৯ ভোটে পরাজিত করেন। ওই নির্বাচনে সিপিআই(এম)-এর দিলীপ সিং মাত্র ৬.৯৫ শতাংশ ভোট পেয়ে অনেক পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকেন। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৩৯.২০ শতাংশ এবং বিজেপি পায় ৪৯.৮৫ শতাংশ ভোট।
লোকসভা নির্বাচনের প্রবণতাও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে বিজেপির উত্থানের দিকেই ইঙ্গিত করে। ২০০৯ সালে এখানে সিপিআই(এম) কংগ্রেসের উপর ২৪,৪৫৪ ভোটের লিড নিয়েছিল। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে ৪,৭১০ ভোটে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়। কিন্তু ২০১৯ সালে ছবিটা পুরোপুরি বদলে যায়। বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের উপর বিপুল ৮৬,১১৭ ভোটের লিড নেয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি আধিপত্য বজায় রেখে তৃণমূলকে ৭২,২৪৫ ভোটে পিছনে ফেলে।
২০২৪ সালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩,২১,২০১। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩,১০,৩৫৪ এবং ২০১৯ সালে ছিল ২,৮৩,৫৭৭। ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ মুসলিম। তফসিলি জাতির ভোটার প্রায় ৩২.৩৫ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতির ভোটার ১.১৬ শতাংশ। মুসলিম ভোটারদের বড় অংশ ডাবগ্রাম এলাকায় (শিলিগুড়ি সংলগ্ন অংশে) কেন্দ্রীভূত, আর ফুলবাড়ি এলাকায় তুলনামূলকভাবে তফসিলি জাতির ভোটারের সংখ্যা বেশি।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি একটি সম্পূর্ণ শহুরে বিধানসভা কেন্দ্র—এখানে কোনও গ্রামীণ ভোটার নেই। ভোটদানের হার সাধারণত বেশি থাকলেও সময়ের সঙ্গে কিছুটা ওঠানামা করেছে। ২০১১ সালে ভোটদানের হার ছিল ৭৬.২০ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫.৫৪ শতাংশ। এরপর ২০১৯ সালে ৮৪.৩৯ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৩.৫৫ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮০.৫৫ শতাংশে নেমে আসে।
ভৌগোলিকভাবে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর সমভূমিতে, পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। এটি জলপাইগুড়ি শহরের উত্তরের নগর-শিল্পাঞ্চল এবং শিলিগুড়ি মহানগর এলাকার সম্প্রসারিত অংশ। ভূপ্রকৃতি সমতল থেকে সামান্য ঢালু, পলল মাটিতে গঠিত এবং পাহাড় থেকে নেমে আসা ছোট নদী ও খাল দিয়ে নিষ্কাশিত, যা শেষ পর্যন্ত তিস্তা নদীর অববাহিকায় মিশে যায়। বৃহত্তর অঞ্চলটি ডুয়ার্স–তেরাই বেল্টের অংশ, যেখানে চা বাগান, নগর পরিষেবা, বাণিজ্য ও পরিবহণের পাশাপাশি কিছু কৃষিভিত্তিক অঞ্চল রয়েছে।
এই বিধানসভা কেন্দ্রটি শিলিগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি ও ডুয়ার্সের দিকে যাওয়া ব্যস্ত করিডরের উপর অবস্থিত। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ডাবগ্রাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এই এলাকাতেই রয়েছে। শিলিগুড়ির বাইরে নিকটতম বড় শহর জলপাইগুড়ি, যা ফুলবাড়ি হয়ে সড়কপথে প্রায় ৪৮ কিমি দূরে। জলপাইগুড়িই জেলা সদর এবং জেলার প্রধান প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা সড়ক ও রেলপথে প্রায় ৫৬০–৬০০ কিমি দূরে, যা নিউ জলপাইগুড়ি জংশন এবং উত্তরবঙ্গের প্রধান রুটগুলির মাধ্যমে সংযুক্ত।
জলপাইগুড়ি জেলার বাংলাদেশ সীমান্ত ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকার কাছাকাছি হলেও এই কেন্দ্রটি সরাসরি সীমান্তবর্তী নয়। সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের বিভিন্ন শহর রয়েছে, যেগুলির সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়কপথ ও অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিদ্যমান। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির মূল পরিচয় হলো—শিলিগুড়ি মহানগরের সম্প্রসারণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি দ্রুত বেড়ে ওঠা শহুরে বিধানসভা কেন্দ্র।
সামগ্রিকভাবে দেখলে মনে হতে পারে, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির শক্তি প্রায় সমান—কারণ শেষ সাতটি বড় নির্বাচনের মধ্যে উভয় দলই তিনটি করে নির্বাচনে লিড নিয়েছে। কিন্তু সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে দেখা যায়, শেষ তিনটি নির্বাচনে, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিই এগিয়ে রয়েছে এবং তাদের জয়ের ব্যবধান তৃণমূল কংগ্রেসের আগের জয়ের তুলনায় অনেক বেশি।
বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট এখানে কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাদের ভোট সাধারণত ৪ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে তাদের পক্ষে ফল নির্ধারণকারী ভূমিকা নেওয়া কঠিন। বিজেপি চাইবে মুসলিম ভোটে সামান্য ভাঙন ধরাতে, যা সাধারণত তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে ঝোঁকে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সরাসরি দ্বিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি—এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লড়াইয়ে বিজেপিই এগিয়ে রয়েছে।
Goutam deb
AITC
Dilip singh
CPI(M)
Nota
NOTA
Radhakrishna namadas
BSP
Maheswar barman
IND
Rakhi mandal
IND
Subash biswas
IND
Amitav naskar
RPI(A)
Shambhu sutradhar
AMB
Maniul islam
SUCI
Dilip singh
CPM
Rathindra bose (rathin)
BJP
Nota
NOTA
Subhas biswas
IND
Sanjiban sarkar
BSP
Abul kashem
SUCI
Dulal sarkar
AMB