
ফাঁসিদেওয়া এলাকাটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্মম ইতিহাস রয়েছে। হিমালয়ের পাদদেশে এই ছোট্ট এলাকাটি থেকেই একদা নকশাল আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল। ফাঁসিদেওয়া, মাটিগাড়া ও নকশালবাড়ি, এই তিন ছিল নকশালদের ভিত্তিভূমি। ১৯৭৭ সাল থেকে বামেদের এন্ট্রি দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্র তফশিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। দার্জিলিং লোকসভার ৭টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। পশ্চিমবঙ্গের চা বলয়ের বিধানসভা। প্রচুর তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ১৯৬২ সালে ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্রটি তৈরি হয়। তারপর থেকে ১৫টি নির্বাচনের সাক্ষী শিলিগুড়ি মহকুমার অন্তর্গত ফাঁসিদেওয়া। একসময় কংগ্রেস ও পরে সিপিএম এই কেন্দ্রে ৭ বার করে জিতেছে। ১৯৬২ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত টানা জিতেছিল কংগ্...
ফাঁসিদেওয়া এলাকাটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্মম ইতিহাস রয়েছে। হিমালয়ের পাদদেশে এই ছোট্ট এলাকাটি থেকেই একদা নকশাল আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল। ফাঁসিদেওয়া, মাটিগাড়া ও নকশালবাড়ি, এই তিন ছিল নকশালদের ভিত্তিভূমি। ১৯৭৭ সাল থেকে বামেদের এন্ট্রি দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্র তফশিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। দার্জিলিং লোকসভার ৭টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। পশ্চিমবঙ্গের চা বলয়ের বিধানসভা। প্রচুর তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ১৯৬২ সালে ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্রটি তৈরি হয়। তারপর থেকে ১৫টি নির্বাচনের সাক্ষী শিলিগুড়ি মহকুমার অন্তর্গত ফাঁসিদেওয়া। একসময় কংগ্রেস ও পরে সিপিএম এই কেন্দ্রে ৭ বার করে জিতেছে। ১৯৬২ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত টানা জিতেছিল কংগ্রেস। ১৯৭৭ সাল থেকে বামেদের এন্ট্রি। ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা জয়। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস জিতে যায়। তার পরের বছর ২০১৬ সালেও কংগ্রেস ভোটে জয়ী হয় এই কেন্দ্রে। তবে প্রাপ্ত ভোট কমেছিল। ২০১৬ সালের পর থেকে এই কেন্দ্রে বিজেপি-র উত্থান শুরু হয়। এবং কার্যত সবাইকে চমকে দিয়ে ২০২১ সালে ফাঁসিদেওয়ায় জিতে যায় বিজেপি। BJP-র উত্থান চোখে পড়ার মতো ২০১১ এবং ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রটিতে কংগ্রেসের সাফল্যের মুখ ছিলেন সুনীল কুমার তিরকি। প্রথমে তিনি ২০১১ সালের নির্বাচনে সিপিএমের তৎকালীন বিধায়ক ছোটন কিস্কুকে ২,২৩৭ ভোটে পরাজিত করেন। এরপর ২০১৬ সালে আবার জয় পান, এ বার তৃণমূলের প্রার্থী ক্যারোলাস লাখরাকে ৭,০৭৪ ভোটে হারিয়ে। দুই নির্বাচনেই তীব্র লড়াই হয়েছিল, আর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেহারাই ভবিষ্যতের বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ভূমিকা তৈরি করে দেয়। এই টানটান ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছিল, এলাকায় ভোটারের মানসিকতা দ্রুত বদলাচ্ছে, এবং প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাও তৈরি হচ্ছে। সেই জমাট পরিস্থিতি বিস্ফোরণের মতো প্রকাশ পায় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, যখন বিজেপি অভাবনীয় উত্থান ঘটায়। বিজেপির প্রার্থী দুর্গা মুর্মু বিশাল ব্যবধানে জেতেন, ২৭ হাজার ৭১১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন ছোটন কিস্কুকে, যিনি এ বার সিপিএম ছেড়ে কংগ্রেসের হয়ে লড়েছিলেন। ২০১১ সালে যেখানে বিজেপির ভোটশেয়ার ছিল মাত্র ৩.৯৭%, ২০১৬-তে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮.১৪% এবং ২০২১-এ অভূতপূর্বভাবে লাফিয়ে ৫০.৮৯%-এ পৌঁছে যায়। এমনকী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও দেখা গিয়েছে, এই কেন্দ্রে বিজেপি লিড পেয়েছে। ২০১৪ সালে ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্রে বিজেপি-র লিড ছিল ৪ হাজার ৯১১ ভোট, ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয় ৫৩ হাজার ২৬১ ভোট ও ২০২৪ সালের লোকসভায় ২৫ হাজার ২১৮ ভোট। দেখা যাচ্ছে, তিনটি লোকসভা ভোটেই ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্রে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ফাঁসিদেওয়ায় ভোটার সংখ্যায় ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্রে ২০২৪ সালে ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৫২,৫৭৫। ২০২১ সালে সেই সংখ্যা ছিল ২,৪০,৯৪৬, আর ২০১৯ সালে ছিল ২,২৩,৬১৩। সম্পূর্ণ গ্রামীণ এই আসনে একটিও শহুরে ভোট নেই। জনগোষ্ঠীর গঠনে তফশিলি জনজাতি (ST) সবচেয়ে বড় ভোটব্যাঙ্ক। ৩০.৬১ শতাংশ। এরপর রয়েছে তফশিলি জাতি (SC) ২৯.৬৮ শতাংশ। মুসলিম ভোটারের হার ১৭.০১ শতাংশ। অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা চা বাগান ও কিছু জমিতে ধানচাষ হয় ফাঁসিদেওয়াতে। সামনেই মহানন্দা নদী। তবে মূল অর্থনীতি চা শিল্পই। গ্রামীণ এলাকা হলেও পরিকাঠামো ভাল। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে শিলিগুড়ির যোগাযোগ রয়েছে। ফাঁসিদেওয়া থেকে শিলিগুড়ি ২৪ কিমি। জেলা সদর দার্জিলিং ৮০ কিমি দূরে। কলকাতা থেকে ৫৫০ কিমির দূরত্ব ফাঁসিদেওয়ার। কাটিহার-শিলিগুড়ি রুটে ফাঁসিদেওয়া স্টেশন রয়েছে। জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ির সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগও ভাল। সবচেয়ে কাছের এয়ারপোর্ট বাগডোগরা ১৪ কিমি দূরে। ফলে কলকাতা, গুয়াহাটি, দিল্লি সহ অন্যান্য শহরের যোগাযোগ সহজ। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ফুলবাড়ি ৩০ কিমি দূরে। এছাড়া বিহারের কিষাণগঞ্জ ৫৬ কিমি। গত সাতটি নির্বাচনের মধ্যে চারটিতেই এগিয়ে ছিল বিজেপি। কংগ্রেস দু বার এবং সিপিএম একবার এগিয়ে ছিল। তবে পরে কংগ্রেস এবং সিপিএম, দুই দলই মূল প্রতিযোগিতা থেকে অনেকটাই সরে গিয়েছে। যদিও শেষ দুই বিধানসভা নির্বাচনে তারা জোট বেঁধে লড়াই করেছিল। ২০২১ সালে কংগ্রেস–বাম জোট পায় মাত্র ৬.১৮ শতাংশ ভোট, আর ২০২৪ সালে ৬.২৮ শতাংশ। গত পাঁচটি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বড় কোনও লড়াই তৈরি করতে পারেনি।
Chhotan kisku
AITC
Sunil chandra tirkey
INC
Sumanti ekka
CPI(ML)(L)
Nota
NOTA
Karuna ranjan soren
BSP
Bhola tirki
SUCI
Amit lakra
BTP
Carolus lakra
AITC
Durga murmu
BJP
Nota
NOTA
Jemshan tirkey
IND
Lalu oraon
CPI(ML)(L)
Bikash birju
BMUP
Sushil lakra
IND